প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই-আগস্টে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের সবাইকে দেশ গঠনে হাত দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত—এই ৪০ কোটি হাত যদি নেমে আসে, ৪০ কোটি হাত যদি একসঙ্গে কাজ করা ধরে, ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশকে আমরা পৃথিবীর বুকে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হবো।’
শনিবার (১৬ মে) বিকেলে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনর্খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই এলাকার সাতটা তাজা প্রাণ ঝরে গিয়েছিল স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে। কেন ঝরে গিয়েছিল? সেই সাতটা তাজা প্রাণের দাবি ছিল বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা। বিএনপিরই সাতটা প্রাণ ঝরে গিয়েছে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে।
শহীদদের স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, তাদের স্বপ্ন যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, তাদের মৃত্যুকে যদি মূল্যায়ন করতে হয়, তাহলে আমাদের সবাইকে আজ দেশ গঠন বা রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে হাত দিতে হবে।
‘খোর্দ্দ খাল’ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৪৮ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খনন করে গিয়েছিলেন।
ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতিও আমরা নির্বাচনের আগে এই দেশের মানুষের কাছে দিয়েছিলাম। সেই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা আড়াই হাজার টাকা প্রতি মাসে আমরা মায়েদের হাতে তুলে দেব। যাতে করে সেই মায়েরা শিশুদের লেখাপড়া বলেন, স্বাস্থ্য বলেন, সবকিছু ঠিকভাবে যত্ন নিতে পারে। ধীরে ধীরে যাতে মায়েরা ছোট ছোট ব্যবসা-বাণিজ্য করার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে গড়ে উঠতে পারে। কারণ মা যদি শিক্ষিত হয়, তবে পরিবার শিক্ষিত হয়। মা যদি স্বাবলম্বী হয়, একই সঙ্গে পরিবারের সব সদস্য ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়।
বরাদ্দ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যেই বাজেট চলছে এটি তো বিএনপি সরকারের বাজেট না। এটি বিএনপি সরকারের আগে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছিল তাদের করে যাওয়া বাজেট। সেই বাজেটের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের কোনো টাকা দেওয়া ছিল না। সেই বাজেটের মধ্যে কৃষক কার্ডের জন্য কোনো টাকা দেওয়া ছিল না। সেজন্য ইনশাআল্লাহ এবার আপনাদের বিএনপি সরকার বাজেট তৈরি করছে এবং সেই বাজেটের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে, কৃষক কার্ডের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে কৃষক ভাইদের জন্য।
কৃষক কার্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতিবছর কৃষক ভাইদের সার, কীটনাশক, ফসলের বীজ এগুলো কিনতে যেই টাকার প্রয়োজন, তার একটি অংশ আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে পৌঁছে দেব।
নারী শিক্ষা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কর্মসূচিকে আমরা আরো এগিয়ে নিয়ে যাব। আমরা মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত যে ফ্রি আছে- এটাকে ডিগ্রি বা স্নাতক পর্যন্ত ফ্রি করব। শুধু তাই নয়, যেসব মেয়ে ভালো রেজাল্ট করবে তাদের আমরা সরকারের পক্ষ থেকে উপবৃত্তির ব্যবস্থা করব।
নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, এই দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে নারী। আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়তে চাই, তাহলে এই নারীদেরকে যদি আমরা স্বাবলম্বী না করি, শিক্ষিত না করি, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না করি, তাহলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না।
বেকারত্ব নিরসনে কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা চাই আমাদের দেশের তরুণদের টেকনিক্যাল ট্রেনিং দিতে, যাতে তারা দেশে কোনো একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে অথবা নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য তৈরি করতে পারে।
তিনি আরো বলেন, এখন বিদেশে যে রকম অদক্ষ শ্রমিক যায়, আমরা চাই আমাদের শ্রমিকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে। যাতে বিদেশে গিয়ে তারা বেশি ইনকাম করতে পারে, যাতে তারা বেশি বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠাতে পারে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্যের দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী মঞ্চ থেকেই শিক্ষামন্ত্রীকে বলেন, এই এলাকার সন্তান, চাঁদপুরের সন্তানই হচ্ছে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী। আপনাদের সামনে শিক্ষামন্ত্রীকে আমি এখনই বলে যাচ্ছি, যত দ্রুত সম্ভব টেকনিক্যাল কলেজের ব্যাপারে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, বিএনপির শক্তির উৎস বাংলাদেশের জনগণ। আমরা যারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল করি, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা দল করেছি, আমরা সকলে বলি —জনগণই হচ্ছে আমাদের সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। ‘করব কাজ, সবার আগে’ স্লোগান তুলে উপস্থিত জনতাকে দেশ গড়ার শপথ নিতে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।