পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িজুড়ে এখন কাঁচা ও অপরিপক্ক আমে ভরে গেছে বাজার। মৌসুমের শুরুতেই অধিক মুনাফার আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা গাছ থেকে অপরিপক্ক আম সংগ্রহ করে রাসায়নিক প্রয়োগের মাধ্যমে দ্রুত পাকিয়ে বাজারজাত করছেন। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ ভোক্তারা। পাশাপাশি এ অঞ্চলের আমের প্রতি খারাপ ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে ভোক্তাদের।
শহরের শাপলাচত্বর থেকে মসজিদ রোড এলাকায় ফলের দোকানগুলোতে দেখা গেছে, বাইরে থেকে হলুদ রঙ ধারণ করলেও অধিকাংশ আমের ভেতরের অংশ শক্ত ও টক। ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রাকৃতিকভাবে না পেকে কৃত্রিম উপায়ে পাকানো হয়েছে এসব আম। এ ছাড়া, জেলার বিভিন্ন স্থানে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে কৃত্রিমভাবে পাকানো আম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, মৌসুমের শুরুতে আমের দাম বেশি হওয়ায় এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ‘ইথোফেন’ জাতীয় ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে আম পাকিয়ে বাজারে বিক্রি করছে। অপরিপক্ক আম পাকানোর ফলে আমের মিষ্টতার পরিবর্তে টক হচ্ছে। ক্রেতারা প্রতারিত হওয়ায় পরবর্তীতে আম কিনতে আগ্রহের ভাঁটা পরবে।
খাগড়াছড়ি বাজারে ব্যানানা আম ১৩০ টাকা, রত্না ৮০ টাকা, দেশি গুটি ৭০ টাকা, রেড পালমার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
আম কিনতে আসা মিনহাজ আহমেদ বলেন, পাকা রং দেখে ১৪০ টাকায় ২ কেজি আম কিনেছি। পরিপক্ব হয়েছে কিনা জানি না। যদি রাসায়নিক দিয়ে আম পাকানো হয়ে থাকে তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ক্যাবের খাগড়াছড়ি সভাপতি কেএম আবু তাহের মাহমুদ বলেন, রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম কিনে ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন। বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। প্রশাসনের দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদার এবং ভেজাল আম বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুক্তা চাকমা বলেন, এখন দেশীয় জাতের কিছু আম পরিপক্ব হয়েছে। আলুটিলার কয়েকটি বাগানে চলতি মাসের শেষের দিকে আম্রপালি পরিপক্ব হবে। এ ছাড়া, জুনের মাঝামাঝি সব জায়গার আম পরিপক্ব হবে।
অপরিপক্ক আম সংগ্রহ ও ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে ভোক্তাদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমের গন্ধ ও স্বাদ স্বাভাবিক থাকে, কিন্তু রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমে অতিরিক্ত চকচকে ভাব ও অস্বাভাবিক রঙ দেখা যায়। তাই আম কেনার আগে সচেতন হওয়া এবং বিশ্বস্ত উৎস থেকে ফল কেনার পরামর্শ দিয়েছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।