Image description

লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে না-ফেরার দেশে চলে গেছেন দেশের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেয়ার পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৩০ বছর।

 

কারিনা কায়সারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। চেন্নাইয়ের হাসপাতালে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কীভাবে তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন তিনি।

চেন্নাই থেকে গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে কায়সার হামিদ বলেন, ‘ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়ার সময় হঠাৎ ওর প্রেশার (রক্তচাপ) অনেক নিচে নেমে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওকে আর বাঁচানো গেল না।’

 

চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে চেন্নাইয়ের হাসপাতালেই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই তরুণ অভিনেত্রী।

এর আগে শুক্রবার (১৬ মে) দিবাগত মধ্যরাতে ফেসবুকে দেয়া পোস্টে কায়সার হামিদ মেয়ের মৃত্যুর খবর জানান কায়সার হামিদ। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা কায়সার একটু আগে চেন্নাইতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে। আমার মেয়ের কোন ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দিবেন।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘যারা এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন, সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দোয়া করবেন সবাই, আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক।’

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ ও ই-জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

কয়েক দিন ধরেই লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় সংকটাপন্ন ছিলেন কারিনা কায়সার। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেয়া হয়। সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু করেন। পরে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।

এ অবস্থার মধ্যে যেদিন রাতে মৃত্যু হয়, সেদিন সকালেই অভিনেত্রীর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে তার নামে তৈরি করা ‘মৃত্যুর গুজব’ সংক্রান্ত ফটোকার্ড ভাইরাল হয়। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ তার পরিবার। সেসময় কায়সার হামিদ বলেন, মৃত্যু নিয়ে এ ধরনের গুজব কারও কাছ থেকে কখনোই কাম্য নয়। আমরা যেকোনো সময় মারা যেতে পারি, দুই মিনিটের কোনো গ্যারান্টি নেই। তারপরও মৃত্যুর মতো একটি সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে এমন ব্যবসা উচিত নয়।

প্রসঙ্গত, হাস্যরসাত্মক কনটেন্ট ক্রিয়েটের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই নেটিজেনদের মধ্যে খ্যাতি লাভ করেন কারিনা কায়সার। অভিনয়ও করেছেন। পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে। তার কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন কারিনা। কারিনার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন সহকর্মী, নির্মাতা ও ভক্তরা।