প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ বিভিন্ন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৪৪৩টি গাড়ি। একদিকে এসব গাড়ির জন্য তেলের সরবরাহ নেই। কোথাও আবার বেতন না পেয়ে চাকরি ছেড়েছেন চালকরা। ব্যাহত হচ্ছে অ্যাম্বুলেন্স সেবাও। এমনকি রোগ নির্ণয়ের উপকরণ সংকটে কমে গেছে গুরুত্বপূর্ণ নানা পরীক্ষা। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের অর্থায়ন কাঠামো অপারেশন প্ল্যান (ওপি) বাতিল করে দেওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
গত মাস থেকে দেশজুড়ে হামে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় ওপি বন্ধের বিষয়টি সামনে আসে। স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর প্রতিক্রিয়া শুধু হামেই সীমাবদ্ধ নেই। এর জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষা কমে যাওয়ায় যক্ষা থেকে শুরু করে এইডস পর্যন্ত নানা রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ওপি বন্ধের কারণে বন্ধ থাকা গাড়িগুলোর চালক ছিলেন ৪৯৫ জন। তাদের বেতন আসত এই কাঠামোর মাধ্যমে। গত ২২ মাস ধরে তাদের বেতন বন্ধ। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান নিজস্ব তহবিল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রথম দিকে কয়েক মাস এ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে গত ১৬ মাস থেকে বেতনবঞ্চিত প্রায় সব চালক।
স্বাস্থ্যসেবায় ভাটা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিভিন্ন হাসপাতালের বন্ধ থাকা ৪৪৩টি গাড়ি মূলত কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন, ওষুধ ও টিকার সরবরাহ এবং সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি পালনে ব্যবহার করা হতো। এখন গাড়ি সংকটে ভাটা পড়েছে এসব কার্যক্রমে।
মৌলভীবাজারের সাতটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওপির গাড়ি এখন গ্যারেজে পড়ে আছে। সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, ‘শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাড়ি মাঝেমধ্যে ভাড়ায় চালক নিয়ে চালানো হচ্ছে। বাকি চার উপজেলায় গাড়িগুলো গ্যারেজে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় গাড়ির ইঞ্জিন ও ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেছে।’
ফেনীতে জেলা সদর হাসপাতাল ও চার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাঁচটি গাড়ি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকতে থাকতে চারটি এরই মধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। শেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ শাহীন বলেন, ‘গাড়ি থাকলেও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। রোগী পরিবহন, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা, নমুনা পরিবহনসহ বিভিন্ন সেবা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিকল্প উপায়ে সীমিত পরিসরে সেবা দিচ্ছি। তবে তা পর্যাপ্ত নয়।’
নাটোর জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর অ্যাম্বুলেন্স সচল রয়েছে। সরকারি মাতৃসদনেও রয়েছে অ্যাম্বুলেন্স। নাটোর পৌরসভায় ও তেবারিয়া ইউনিয়ন পরিষদে ভারত সরকারের দেওয়া লাইফ সাপোর্ট সুবিধাসংবলিত অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। তেলের বিল না থাকায় এগুলো এখন অতিরিক্ত ভাড়ায় চালানো হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার দ্বিগুণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
সুনামগঞ্জে তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর ছাড়া অন্য ৯ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার গাড়ি থাকলেও নেই চালক ও জ্বালানি। সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন জানান, ২০২৪ সালের জুন মাস থেকে চালকদের বেতন-ভাতা ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ডা. ফয়সল আহমেদ বলেন, ‘হাসপাতালের গাড়ি ব্যবহার করতে না পারায় দূরবর্তী কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে বিঘ্ন ঘটছে।’ পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন মোহাম্মদ খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, ‘যানবাহন বন্ধ থাকায় কর্মকর্তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যার মুখে পড়তে হয়। ঠিকমতো নির্ধারিত পরিদর্শন কার্যক্রম চালানো যায় না।’
বান্দরবানের দুর্গম উপজেলাগুলোতে গাড়ি না থাকায় সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বাগেরহাটের ৯ উপজেলার জন্য বরাদ্দ নয়টি গাড়ির সবগুলোই বন্ধ। সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুল আলম বলেন, ‘চালকদের বেতন বন্ধ থাকায় তারা কাজে ফিরছেন না। ফলে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো এবং কার্যক্রম মনিটরিং করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’ নড়াইলের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রশিদ বলেন, ‘গাড়িগুলো ব্যবহার করতে না পারায় স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।’
ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে চুয়াডাঙ্গায়। জেলার চারটি উপজেলার সরকারি গাড়িগুলো সচল রয়েছে। অলস বসিয়ে রাখা গাড়ির ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় গাড়িগুলো সচল রেখেছেন কর্মকর্তারা।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের একজন কর্মকর্তা এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘চালকদের বেতন, ওভারটাইম ও তেলের অর্থ অত্যাবশ্যকীয় হিসেবে ডিপিপিতে পাঠানো হয়েছিল। এক বছরের অনুমোদনও করা হয়, গত বছরের নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।’
চালকদের ১৬ মাসের বেতন-ভাতা বাকি জানিয়ে তিনি বলেন, গত সপ্তাহে আবারও নতুন করে সেই ফাইল মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে যাবে।
রোগ নির্ণয়ে প্রতিবন্ধকতা
স্থানীয় পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ওপি বন্ধের প্রভাব পড়েছে। জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো নিজস্ব পরিচালন ব্যয় থেকে রোগ নির্ণয় উপকরণ কিনলেও রোগীর চাপ বেশি থাকায় তা অপ্রতুল।
রক্ত, মূত্র বা অন্যান্য নমুনার উপাদান শনাক্ত ও পরিমাপের জন্য রিএজেন্ট নামের একটি রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। এটির অভাবে ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে কমে এসেছে পরীক্ষা-নিরীক্ষার হার, কোথাও আবার বন্ধ হয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এতে কয়েকগুণ বেশি দামে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে রোগীদের।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়। জনবলের অভাবে ১০ শয্যার আইসিইউ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সিবিসি, হিমোগ্লোবিন, ইএসআর সলিউশন, গ্লুকোজ, ইউরিন স্ট্রিপের মতো পরীক্ষার ডায়াগনস্টিক রিএজেন্ট রয়েছে সীমিত আকারে। কিন্তু কালচার মিডিয়া, অ্যান্টিবায়োটিক সেন্সিটিভিটি ডিআইএস, হরমোন টেস্ট, ইউনোলজি, পিসিআর/অ্যাডভান্স ডায়াগনস্টিক কিট, ডেঙ্গু টেস্ট কিট, উইন্ডেল টেস্ট, এইচবিএসএজি, এক্সরে ফিল্ম, ফিক্সার সলিউশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার রিএজেন্ট নেই। ফলে এসব পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।
টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু বলেন, ‘টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে বেসিক পরীক্ষার কিছু রিএজেন্ট থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ ও উন্নত পরীক্ষার অধিকাংশই নেই। ফলে অনেক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না এবং রোগীদের বাইরে যেতে হয়।’
ফেনীর সিভিল সার্জন ও ফেনী ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের রিএজেন্ট ওপি থেকে আসা বন্ধ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে স্থানীয়ভাবে কিনতে হচ্ছে। এর ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে আবার ওষুধ কেনা কমাতে হচ্ছে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে বন্ধ রয়েছে হরমোনের বিভিন্ন টেস্ট। শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আল্ট্রাসনোগ্রাম বন্ধ। গত ১০ বছর ধরে ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্সরে যন্ত্রই নেই। নাটোরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে এক্সরে, ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রামের মতো দরকারি বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় মেশিন নেই।
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, ‘অনেক জায়গায় আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন নষ্ট হয়ে গেছে। কিছু জায়গায় মেশিন ভালো থাকলেও টেকনোলোজিস্ট ও প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সরঞ্জামের অভাবে পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
ডা. জয়নাল আবেদীন টিটো বলেন, ‘দেশের বেশির ভাগ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্সরে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম সেবায় সমস্যা রয়েছে। কিছু জায়গায় মেশিন ভালো থাকলেও টেকনোলজিস্ট ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামের অভাবে পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির শঙ্কা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হসপিটাল সার্ভিস ম্যানেজমেন্টের সাবেক লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. জয়নাল আবেদীন টিটো বলেন, ‘গাড়ির কারণে যাতায়াত সহজ হয়ে যাওয়ায় কোভিডের টিকাদান, মা ও শিশুস্বাস্থ্যের মানোন্নয়ন, পুষ্টি কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছিল। বর্তমানে অধিকাংশ উপজেলা কমপ্লেক্সে এসব গাড়ি পড়ে আছে। ফলে সেবা তদারকি ব্যবস্থা অনেকটাই কমেছে। এতে হামের মতো অনেক রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সম্মেলনে কথা বলেছেন। তিনি গাড়ির চালক ও তেলের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।’
দীর্ঘদিন বন্ধ স্বাস্থ্যের কেনাকাটা
গত নির্বাচনের আগ পর্যন্ত প্রায় দেড় বছর স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন নূরজাহান বেগম। তার মেয়াদে হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী কেনা হয়নি। উপজেলা ও জেলা সদর হাসপাতালগুলো থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দফায় দফায় চিঠি দিয়েও পাওয়া যায়নি।
ডা. জয়নাল আবেদীন টিটো বলেন, ‘দায়িত্বে থাকাকালে হাসপাতালগুলো থেকে অন্তত ১০০ চিঠি পেয়েছি। এগুলোতে যন্ত্রপাতি, চিকিৎসা উপকরণ লাগবে বলে জানানো হয়েছিল। অধিদপ্তরের অধীনে কেনার সুযোগ না থাকায় এসব চিঠি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু গত দুই বছর কোনো যন্ত্রপাতি কেনা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘ওপি যখন ছিল তখন উপজেলা হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, রক্ত পরীক্ষার মেশিন, এক্সরে মেশিন দেওয়া হতো। জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেওয়া হতো এক্সরে, অ্যানেসথেসিয়া যন্ত্র, ডায়াথার্মি, সিআর্মের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী। হসপিটাল সার্ভিস থেকে জেলা সদর ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এগুলো দেওয়া হতো। কিন্তু আমরা কোনো অর্থ বরাদ্দ পাইনি, কেনাও সম্ভব হয়নি।’
বেসরকারি হাসপাতালের নিবন্ধনও বন্ধ
কয়েক বছর ধরে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ব্ল্যাড ব্যাংকের নিবন্ধন ও নবায়ন করা হতো অনলাইনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার অধীনে এর জন্য নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট রয়েছে। কিন্তু অর্থাভাবে গত দুই বছর ধরে সেটি হালনাগাদ হচ্ছে না। বন্ধ রয়েছে নিবন্ধন ও নবায়ন প্রক্রিয়া।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে অর্থসংকটে কাজ করা যাচ্ছে না। ওয়েবসাইট হালনাগাদ করতে না পারায় বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ও নবায়নের কাজ আটকে রয়েছে। গাড়ির সমস্যায় অবৈধ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে পারছি না।’
সমাধানের আশ্বাস
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘ডিপিপি অনুমোদন হয়ে গেছে। পিডি (প্রকল্প পরিচালক) নিয়োগ হলে সমস্যা কেটে যাবে। ইতোমধ্যেই পিডির সংক্ষিপ্ত তালিকাও করা হয়েছে। দ্রুত নিয়োগ হবে।’
তিনি বলেন, ‘সেক্টর প্রোগ্রাম বন্ধ হওয়ায় যেসব কাজ ধীরগতি হয়েছে, সেগুলোতে জরুরি বিবেচনায় ডিপিপি অনুমোদন দিয়েছে সরকার। আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে পিডি নিয়োগ চূড়ান্ত হলে এসব সংকট আর থাকবে না।’