Image description

শিউলির (ছদ্মনাম) বয়স তখন মাত্র ১১ বছর। বিকেল হলে অন্য শিশুদের মতো সেও দৌড়ে বেড়াত, খেলত, হাসত।

ছোট্ট একটা পৃথিবী ছিল তার—যেখানে ছিল পুতুল খেলা, বন্ধুদের সঙ্গে গল্প আর স্কুলে যাওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু হঠাৎ একদিন সেই পৃথিবী বদলে যায়।
পরিবার তাকে বসিয়ে দেয় বিয়ের পিঁড়িতে।

 

শিউলিদের বাড়ি সিরাজগঞ্জের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল ঘোরজানে।

তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে সবার বড়। বিয়ের এক বছর না যেতেই তার ছোট্ট শরীরে পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে।
যে বয়সে নিজের শরীরই ঠিকভাবে গড়ে ওঠেনি, সেই বয়সেই আরেকটি প্রাণ বড় হতে থাকে তার ভেতরে।

 

অপুষ্টিতে ভোগা কিশোরী শিউলি দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ে। ১৩ বছর বয়সে গর্ভধারণের পর নানা জটিলতা দেখা দেয় তার শরীরে।

ঘোরজানের স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, কয়েক মাস আগে তারা শিউলির খোঁজ পান। তখনই জানা যায়, মেয়েটির মাসিক শুরুর আগেই বিয়ে হয়েছিল।

স্বাস্থ্যকর্মীরা বলেন, “ও নিজেই শিশু ছিল। শরীর পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার আগেই গর্ভধারণ করেছে। এতে মা ও শিশুর, দুজনেরই বড় ঝুঁকি থাকে।”

শুধু শিউলি নয়, ঘোরজানের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এমন বাল্যবিয়ে ও অকাল গর্ভধারণের গল্প অনেক। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের দাবি, এখানে প্রায় ৯০ শতাংশ কিশোরী বাল্যবিয়ের শিকার। অধিকাংশ মেয়ের বিয়ে হয়ে যায় ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সের মধ্যেই।

শিউলিকে এত কম বয়সে বিয়ে দেওয়ার কারণ তার পরিবারের সদস্যদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, মেয়েটি অনেক সুন্দর ছিল। তাই ভয় ছিল—মানুষ পিছু নেবে।

এই ভয়, সামাজিক চাপ, যমুনার ভাঙন ও দারিদ্র্যের বাস্তবতায় অনেক পরিবার মনে করে, মেয়েকে দ্রুত বিয়ে দিয়ে দেওয়াই নিরাপদ। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই অসংখ্য কিশোরীকে ঠেলে দিচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ মাতৃত্বের দিকে। 

নারীদের জীবনের বড় অংশ জুড়ে আছে বাল্যবিয়ে, অল্প বয়সে মাতৃত্ব আর ঘরে ঝুঁকিপূর্ণ প্রসব। সেই সঙ্গে নীরবে বাড়ছে প্রসবজনিত জটিলতা, বিশেষ করে ফিস্টুলা ও জরায়ু নিচে নেমে আসার মতো সমস্যা।

স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও মিডওয়াইফদের তথ্য বলছে, অধিকাংশ নারীই সমস্যাগুলোকে ‘রোগ’ বলে মনে করেন না। কেউ ব্যথা হলে ব্যথার ওষুধ খান, কেউ গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে যান। কিন্তু দীর্ঘদিন চিকিৎসা না নেওয়ায় অনেকের অবস্থা জটিল হয়ে যাচ্ছে।

ঘোরজানে ব্র্যাকের সু-স্বাস্থ্য প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের মিডওয়াইফ মোসাম্মৎ সোহাগী খাতুন বাংলানিউজকে বলেন, “আমরা এখানে আসার পর থেকে অনেক নারীকে ফিস্টুলা বা প্রসবজনিত ছিঁড়ে যাওয়ার জটিলতা নিয়ে আসতে দেখেছি। অনেকেই বুঝতেই পারেন না এটা বড় ধরনের রোগ।”

তিনি জানান, গত জুন থেকে তিনি একাই আট-নয়জন ফিস্টুলা রোগী পেয়েছেন। কেন্দ্রটিতে মোট ফিস্টুলা রোগীর সংখ্যা ২০ থেকে ২২ জনের মতো। এছাড়া জরায়ু নিচে নেমে আসা বা প্রসবের সময় ছিঁড়ে যাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি জটিলতায় ভোগা নারীর সংখ্যাও প্রায় একই।

“আমরা এখানে আসার পর থেকে অনেক নারীকে ফিস্টুলা বা প্রসবজনিত ছিঁড়ে যাওয়ার জটিলতা নিয়ে আসতে দেখেছি। অনেকেই বুঝতেই পারেন না এটা বড় ধরনের রোগ”—মোসাম্মৎ সোহাগী খাতুন, মিডওয়াইফ

‘বাথরুমে গেলে দুই দিক দিয়েই হতো’
২২ বছর বয়সী রত্না খাতুন (ছদ্মনাম) ঘোরজানেরই এক গ্রামের বাসিন্দা। তার বিয়ে হয় ১৪ বছর বয়সে। এর মধ্যেই একবার গর্ভপাত হয়েছে। বর্তমানে তার দুই সন্তান। বড় সন্তান জন্মের সময় জটিল প্রসবের পর থেকেই শুরু হয় শারীরিক সমস্যা।

রত্না বলেন, “প্রথম বাচ্চার সময় অনেক কষ্ট হইছিল। পরে দেখি বাথরুমে গেলে ঠিকমতো ধরে রাখতে পারি না। দুই দিক দিয়াই হইতো। পরে নিচের দিকে মাংসের মতো একটা জিনিসও বের হইতে শুরু করে। ব্যথা করত, ফুলে যাইতো।”

লজ্জা আর ভয় থেকে দীর্ঘদিন কাউকে কিছু বলেননি তিনি। পরে অবস্থা খারাপ হলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়া হয়।

মিডওয়াইফ সোহাগী খাতুন বলেন, “ওনার ডেলিভারির সময় টিয়ার হয়েছিল। কিন্তু তখন সঠিক চিকিৎসা হয়নি। পরে জটিলতা তৈরি হয়।”

যন্ত্রণা উপশমে সেবন করেন শুধু নাপা
২৬ বছর বয়সী সাবিলা খাতুনের (ছদ্মনাম) তিন সন্তান। তারও বিয়ে হয়েছে ১৬-১৭ বছরের আগেই। তিন সন্তান জন্মের পর থেকেই তিনি প্রস্রাব ধরে রাখতে পারেন না। তীব্র ব্যথা হলে ব্যথার ওষুধ খান।

সাবিলা বলেন, ‘আমরা তো বুঝি না এটা বড় রোগ। ব্যথা বাড়লে নাপা খাই। আবার কমলে কাজ করি। হাসপাতালে গেলে টাকা লাগে, তাই যাই না।’

একই ধরনের সমস্যায় ভুগছেন ২৩ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুনও (ছদ্মনাম)। তিন সন্তানের এই মা বলেন, ‘বাচ্চা হওয়ার পর থেকেই নিচে টান লাগে। ভারী কাজ করলে ব্যথা বাড়ে। মাঝে মাঝে মনে হয় কিছু একটা নিচে নেমে আসতেছে।’

স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, এমন বহু নারী আছেন যারা বছরের পর বছর সমস্যাগুলো নিয়ে বেঁচে আছেন, কিন্তু চিকিৎসা নিচ্ছেন না।

‘ওরা এটাকে রোগই মনে করে না’
স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, অনেক নারী প্রসবের সময় জরায়ু ছিঁড়ে যাওয়ার পরও সেলাই করাতে চান না। তাদের ধারণা—গরম সেক নিলেই ঠিক হয়ে যাবে।

“আমরা তো বুঝি না এটা বড় রোগ। ব্যথা বাড়লে নাপা খাই। আবার কমলে কাজ করি। হাসপাতালে গেলে টাকা লাগে, তাই যাই না”—ভুক্তভোগী নারী

সোহাগী খাতুন বলেন, ‘অনেক সময় নরমাল ডেলিভারির সময় টিয়ার (ছিঁড়ে যাওয়া) হয়। কিন্তু তারা সেলাই নিতে চান না। পরে ইনফেকশন হয়, ফিস্টুলা হয়, জরায়ু নিচে নেমে আসে। কিন্তু ওরা এটাকে বড় সমস্যা মনে করেন না।’

তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ তখন আসে যখন জরায়ু নিচে নেমে হাতে লাগতেছে। তখন বলে—আমার কী জানি হইছে।’

সোহাগী জানান, অনেক নারী গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে গিয়ে সাময়িক ওষুধ খেয়ে থাকেন। এতে সাময়িক আরাম মিললেও মূল সমস্যা থেকে যায়।

দীর্ঘদিনের অবহেলায় বাড়ছে জটিলতা
কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস পাপিয়া বলেন, ‘অল্প বয়সে গর্ভধারণ, দীর্ঘসময় প্রসব ব্যথা, ঘরে অনিরাপদ প্রসব, প্রসবের সময় জরায়ু ছিঁড়ে যাওয়া এবং পরে সঠিক চিকিৎসা না নেওয়ার কারণে ফিস্টুলা হয়।’

এছাড়া একের পর এক সন্তান জন্ম, ভারী কাজ, অপুষ্টি এবং প্রসবের পর পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পাওয়ায় জরায়ু নিচে নেমে আসার ঝুঁকিও বাড়ে বলে তিনি জানান।

ঘোরজানের নারীদের জীবনযাত্রা এখনো অত্যন্ত কষ্টকর। অনেক নারী গর্ভাবস্থাতেও মাটি কাটা, পানি তোলা, গরুর গোবর পরিষ্কারসহ কঠিন শারীরিক শ্রম করেন।

একজন বৃদ্ধা নারী বলেন, ‘আমাদের সময় নয় মাস পেট নিয়াও কাজ করছি। পানি তুলছি, মাটি কাটছি, গরুর কাজ করছি। তখন তো এসব চিকিৎসা ছিল না।’

সীমিত সক্ষমতায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের লড়াই
ঘোরজান ইউনিয়নের স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে বর্তমানে তিনজন মিডওয়াইফ, সাতজন স্বাস্থ্যকর্মী, একজন প্যারামেডিক, একজন চিকিৎসক এবং টেলিমেডিসিন সেবা রয়েছে।

স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিদিন সকাল থেকে গ্রামে গ্রামে গিয়ে গর্ভবতী নারী শনাক্ত করেন, কাউন্সেলিং করেন এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসতে উৎসাহ দেন।

সোহাগী খাতুন বলেন, ‘আমরা এখন ফিল্ডে গিয়ে মায়েদের বুঝাই। আগে অনেক মা ঘরে ডেলিভারি করত। এখন কিছুটা পরিবর্তন আসছে।’

তবে তিনি স্বীকার করেন, এখনো অনেক নারী চিকিৎসা নিতে অনীহা দেখান।

‘আমরা বলি হাসপাতালে যান, সেলাই লাগবে, চিকিৎসা লাগবে। কিন্তু তারা বলে—ঠিক হয়ে যাবে। এই মানসিকতা বদলানো খুব জরুরি।’

রোগ লুকিয়ে নীরবে সয়ে যান যন্ত্রণা
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফিস্টুলা বা জরায়ু নিচে নেমে আসার সমস্যাকে অনেক পরিবার লজ্জার বিষয় মনে করে। ফলে নারীরা সমস্যার কথা গোপন রাখেন।

একজন ভুক্তভোগী বলেন, ‘কাউরে বলতে লজ্জা লাগে। মনে হয় মানুষ খারাপ ভাববে।’

আরেকজন বলেন, ‘সব কাজ করি, কিন্তু ভেতরে ভেতরে কষ্ট থাকে।’

“কাউরে বলতে লজ্জা লাগে। মনে হয় মানুষ খারাপ ভাববে। সব কাজ করি, কিন্তু ভেতরে ভেতরে কষ্ট থাকে”—ভুক্তভোগী নারী

স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, সচেতনতার অভাব, দারিদ্র্য, কুসংস্কার এবং চিকিৎসা ব্যয়ের ভয়—সব মিলিয়ে নারীরা চিকিৎসা থেকে দূরে থাকছেন।

যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের স্বাস্থ্য কর্মসূচির চর ও কমিউনিটি ক্লিনিক ম্যানেজার ডা. রঞ্জন খান বলেন, “ফিস্টুলা মূলত প্রসবজনিত জটিলতার কারণে তৈরি হওয়া একটি গুরুতর স্বাস্থ্যসমস্যা। দীর্ঘসময় বাধাগ্রস্ত প্রসবের ফলে প্রসবের রাস্তার সঙ্গে প্রস্রাব বা পায়খানার রাস্তার অস্বাভাবিক সংযোগ তৈরি হয়। এতে আক্রান্ত নারীর শরীর থেকে অনবরত প্রস্রাব বা পায়খানা ঝরতে থাকে।”

তিনি বলেন, “ফিস্টুলার অন্যতম প্রধান কারণ বাল্যবিয়ে। অল্প বয়সে শরীর পূর্ণাঙ্গভাবে গড়ে ওঠার আগেই গর্ভধারণ করলে প্রসবকাল দীর্ঘ হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘প্রলংড লেবার’ বলা হয়। এ সময় বাচ্চার মাথা দীর্ঘক্ষণ প্রসবের রাস্তায় আটকে থাকায় তীব্র চাপ সৃষ্টি হয় এবং সেখান থেকেই ফিস্টুলা তৈরি হতে পারে।”

ডা. রঞ্জন খান আরও বলেন, ‘চরাঞ্চলে অধিকাংশ প্রসব করান অদক্ষ ধাত্রীরা, যাদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ বা সনদ নেই। ফলে জটিল প্রসব সঠিকভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হয় না। এতে ফিস্টুলার পাশাপাশি জরায়ু নিচে নেমে আসা (প্রোলাপস) এবং নবজাতকের মস্তিষ্কে স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়ে।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘসময় প্রসব বাধাগ্রস্ত থাকলে শিশুর মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন কমে যেতে পারে। এতে অনেক শিশুর স্থায়ী মস্তিষ্ক বিকৃতি বা মানসিক প্রতিবন্ধিতা তৈরি হয়। চরাঞ্চলে মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ার পেছনে এটিও একটি কারণ বলে মনে করি।’

“অল্প বয়সে গর্ভধারণ, দীর্ঘসময় প্রসব ব্যথা, ঘরে অনিরাপদ প্রসব, প্রসবের সময় জরায়ু ছিঁড়ে যাওয়া এবং পরে সঠিক চিকিৎসা না নেওয়ার কারণে ফিস্টুলা হয়”—ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস পাপিয়া

 ডা. রঞ্জন খান জানান, ফিস্টুলা নিয়ে এখনো সব এলাকায় পর্যাপ্ত তথ্যভিত্তিক কাজ শুরু হয়নি। তবে ২০২২ সালে কুড়িগ্রামে একটি উদ্যোগের মাধ্যমে রোগী শনাক্ত করে তাদের দিনাজপুরের ল্যাম্প হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিস্টুলা প্রতিরোধযোগ্য রোগ। বাল্যবিয়ে বন্ধ, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত, প্রসবকালীন দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি এবং প্রসব-পরবর্তী জটিলতার দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এই রোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

তারা বলছেন, শুধু চিকিৎসা নয়—সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও জরুরি। কারণ অধিকাংশ নারী এখনো নিজের স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেন না।

ঘোরজানের স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, পরিবর্তন ধীরে হলেও শুরু হয়েছে। কিন্তু এখনো পথ অনেক দীর্ঘ।

সোহাগী খাতুনের কথায়, ‘অনেক মা এখনো ভাবেন—এই কষ্ট নিয়াই জীবন কাটাইতে হবে। কিন্তু আসলে চিকিৎসা নিলে অনেকেই ভালো থাকতে পারেন।’