Image description

হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগের ১০টি মামলায় নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। এর ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনগুলো খারিজ করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ রবিবার এ আদেশ দেয়।

আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মোতাহার হোসেন সাজু। তিনি বলেন, আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে তার মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই। তবে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আরও দুটি মামলায় হাই কোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে তিনি জানান।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আইভী দেশের প্রথম নির্বাচিত নারী মেয়র এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনবারের মেয়র। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৮ অগাস্ট সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর ২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের বাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

প্রথমে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় হওয়া তিনটি হত্যা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত বছরের ৯ নভেম্বর ওই পাঁচ মামলায় হাই কোর্ট থেকে জামিন পান তিনি। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে গত বছরের ১২ নভেম্বর চেম্বার আদালত ওই জামিন স্থগিত করে বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়।

অন্যদিকে, হাই কোর্ট যেদিন আইভীকে প্রথম পাঁচ মামলায় জামিন দিয়েছিল, ঠিক সেদিনই আরও পাঁচ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। গত বছরের ১৮ নভেম্বর আদালত তা মঞ্জুর করে।

ওই পাঁচ মামলায় চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্ট আইভীকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয়। কিন্তু এবারও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে গত ৫ মার্চ চেম্বার আদালত জামিন স্থগিত করে বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়।

দ্বিতীয় দফায় পাঁচ মামলায় জামিন আদেশ হওয়ার পর আইভীকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এবং ২০২৫ সালের ৩০ জুন দায়ের করা আরও দুটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ, যা গত ২ মার্চ ও ১২ এপ্রিল মঞ্জুর করে নারায়ণগঞ্জের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত।

একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর এই প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সম্প্রতি হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন আইভীর আইনজীবীরা। সেই রিটের শুনানি শেষে গত ২৬ এপ্রিল হাই কোর্ট আইভীকে নতুন কোনো মামলায় হয়রানি বা গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ দেয়।

একইসঙ্গে একের পর এক মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে আদালত।