ঝালকাঠির রাজাপুরে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস আবাসিকভাবে বসবাস করছেন। ফলে অতিথিরা ডাকবাংলোতে থাকার জায়গা পাচ্ছেন না। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল রাজাপুর থানায় যোগ দেন ওসি সুজন বিশ্বাস। যোগদানের পর থানার ভেতরের সরকারি বাসভবনে না উঠে তিনি জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর একটি কক্ষে বসবাস শুরু করেন। এ সময় ডাকবাংলোর প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে শুক্রবার (৮ মে) ভারতের জৌনপুর থেকে ধর্মীয় প্রচারণায় রাজাপুরে আসেন তিনজন প্রখ্যাত আলেম। স্থানীয়দের দাবি, যুগ যুগ ধরে এসব বিদেশি মেহমান সরকারি নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করে এই ডাকবাংলোতেই অবস্থান করে আসছেন। কিন্তু এবার ওসির অবস্থানের কারণে তাদের জন্য সেখানে আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।
একাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রতি বছরই ভারতের জৌনপুরের আলেমরা ঝালকাঠি আসেন। তারা সর্বোচ্চ দুই দিন এই ডাকবাংলোতে থাকেন। কিন্তু এবার সেখানে ওসি বসবাস করায় তাদের থাকার ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না।
এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও বিব্রতকর বলে জানান তারা।
ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার মো. মানিক তালুকদার বলেন, ‘ভবনটি কিছুদিন ফাঁকা ছিল। পরে ওসি সাহেব এখানে উঠেছেন। বর্তমানে তিনি প্রধান কেচিগেটে তালা দিয়ে রাখেন।’
তবে বিষয়টিকে সাময়িক ব্যবস্থা বলে উল্লেখ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরী। তিনি বলেন, ‘ডাকবাংলোটি জেলা পরিষদের অধীনে পরিচালিত হলেও উপজেলা প্রশাসন তদারকি করে। থানার ভেতরে ওসির বাসভবনে সংস্কার কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে তিনি সেখানে চলে যাবেন।’
অভিযোগের বিষয়ে রাজাপুর থানার ওসি সুজন বিশ্বাস বলেন, ‘থানার ভেতরে ওসিদের থাকার মতো মানসম্মত আবাসিক ভবন নেই। আগের ওসিরা একটি ব্যারাকে থাকতেন, যা এখন পরিত্যক্ত ও বসবাসের অনুপযোগী। তাই বাধ্য হয়েই ডাকবাংলোতে উঠেছি।’