কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তবর্তী নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে বিভিন্ন সময়ে ধরে নিয়ে যাওয়া ১৪ জন জেলেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার (৯ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফের জালিয়াপাড়া ট্রানজিট ঘাট দিয়ে তাদের দেশে আনা হয়। ফেরত আসা জেলেদের মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশি এবং একজন রোহিঙ্গা বলে জানা গেছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, মায়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও আলোচনার মাধ্যমে এসব জেলেকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে।
টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জেলেদের গ্রহণ করতে বিজিবির একটি প্রতিনিধিদল বিকেলে জালিয়াপাড়া ঘাট থেকে নাফ নদীর শূন্যরেখার দিকে যায়। সেখানে আরাকান আর্মি আটক জেলেদের হস্তান্তর করে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের দেশে এনে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
বিজিবি আরো জানায়, বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে কিছু জেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে মায়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করলে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের মায়ানমারের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ক্যাম্পে নিয়ে রাখা হয়।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানান, দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে তারা স্বস্তি পেয়েছেন। তাদের ভাষ্য, মাছ ধরে ফেরার পথে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে আরাকান আর্মি তাদের ধরে নিয়ে যায়।
এদিকে বিজিবির রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশের নাগরিকদের সুরক্ষায় বাহিনীটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই জেলেদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।