সিলেটের ওসমানীনগরে এক আওয়ামী লীগ নেতার বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ টাকার ভারতীয় জিরা জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হলেও বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্যের উৎস ও এর সঙ্গে জড়িত পুরো চোরাচালান নেটওয়ার্ক নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মে সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওসমানীনগর সার্কেল মানছুরা আক্তার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোরশেদুল আলমের নেতৃত্বে একটি যৌথ বিশেষ টিম উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য আব্দুল হামিদের বসতবাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ জিরা জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত জিরার মোট পরিমাণ ৬০৩ বস্তা, যার ওজন ১৮ হাজার ৯০ কেজি। বস্তাগুলোর গায়ে কেএস গোল্ড জিরা কেএস অ্যান্ড কোম্পানি, মসলা ব্যবসায়ী ও কমিশন এজেন্ট, উনঝা, গুজরাট, ভারত উল্লেখ পাওয়া যায়। জব্দকৃত পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ ১৫ হাজার ৮০০ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানের মাত্র তিন দিন আগে বাড়ির মালিক আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হামিদ যুক্তরাজ্যে চলে যান বলে জানা গেছে। তবে বাড়িতে অবস্থানকালে তার ভাই আবুল কালাম আজাদ (৪৪)কে আটক করা হয়। এ সময় ছোট ভাই আব্দুল মুমিন (৩৮)সহ ৭–৮ জন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে দাবি করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তপথ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্র সক্রিয় রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সমঝোতা ভিত্তিক ছায়া সিন্ডিকেট হিসেবে অবৈধ পণ্য আমদানি, মজুত ও বাজারজাতের একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কথাও আলোচিত হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে ওসমানীনগর থানায় মামলা করা হয়েছে। আটক আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং জব্দকৃত মাল যথাযথ প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হামিদের হোয়াটসঅ্যাপ কল করা হলে তিনি রিসিব করেননি।
ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোরশেদুল আলম ভূইয়া বলেন, চোরাচালান ও অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
অন্যদিকে ওসমানীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মানছুরা আক্তার বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত বাড়ির মালিক ছাড়া সরাসরি অন্য কাউকে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়নি। পুরো নেটওয়ার্ক উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।