শাপলা চত্বরের গণহত্যায় নিহতদের ‘সবচেয়ে কম দামি’ শহীদ হিসেবে আখ্যায়িত করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এক দশক ধরে এই শহীদদের ন্যূনতম স্মরণ করার সুযোগ পর্যন্ত দেয়নি। এমনকি লাশের সংখ্যা প্রকাশ করায় মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর ওপর রাষ্ট্রীয় জুলুম চালানো হয়েছিল।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর বাংলামটরে এনসিপি কার্যালয়ে ‘শাপলা গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, ২০১৩ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন শাপলার শহীদদের স্মৃতি মন্থন করতে দেওয়া হয়নি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, জুলাইয়ের বিপ্লব একদিনে আসেনি। এটি ছিল বছরের পর বছর ধরে চলা আওয়ামী লীগের বহুমুখী জুলুম, পিলখানা হত্যাকাণ্ড এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের পুঞ্জীভূত ফল।
এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, আওয়ামী লীগ হিন্দুদের ওপর ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে এবং মুসলমানদের রাজনৈতিক পরিচয় মুছে দিয়ে নির্যাতন চালিয়েছে। সমাজের এমন কোনো অংশ নেই যারা তাদের ফ্যাসিবাদের শিকার হয়নি।
জুলাই আন্দোলনে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে আখতার হোসেন বলেন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কোটা সংস্কারের মতো নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ছিল। কিন্তু মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের বৈষয়িক স্বার্থ ছাড়াই শুধু দেশকে ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্ত করতে রাজপথে নেমেছিল। তাদের এই ত্যাগকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি।
শাপলা চত্বরের ঘটনার নৃশংসতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, একজন মুমূর্ষু মাদ্রাসা ছাত্রকে লাঠি ও পা দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ‘উনমানুষ’ হিসেবে বিবেচনা করার এক প্রজেক্ট থেকে এই পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবার নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হবে এবং কেউ মতপ্রকাশের কারণে জুলুমের শিকার হবে না।
এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, শাপলা গণহত্যার মাস্টারমাইন্ডদের বিচারের আওতায় আনা। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই হত্যাযজ্ঞে সমর্থনকারীদের বিচার নিশ্চিত করা। শাপলার শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করাতে হবে।