Image description

দেশে হামে তিন শতাধিক শিশুমৃত্যুর ঘটনায় এই রোগের টিকা নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গাফিলতিকে দুষছেন এ খাতের বিশেষজ্ঞরা। তবে এমন অভিযোগ মানতে নারাজ তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য) অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান। তার দাবি, হাম নিয়ে সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সতর্ক করেনি। যদিও ইউনিসেফের কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে তারা তৎকালীন সরকারকে সতর্ক করেছিলেন।

 

বর্তমানে দেশের ৬১টি জেলায় হামে ভুগছে শিশুরা। সরকারি হিসাবে শুধু গত ৫০ দিনেই সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত রোগী ৪৭ হাজার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৩১১ শিশুর। সর্বশেষ সোমবার (৪ মে) হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক দিনে রেকর্ড ১৭ জনের মৃত্যু খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এমন পরিস্থিতির জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগকে দুষছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। তারা বলছেন, ওই সময়ে হামের টিকাদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

 

অভিযোগের মুখে ডা. সায়েদুর রহমানের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারকে কেউ এ নিয়ে সতর্ক করেনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর), স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (সিডিসি), জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট কিংবা সংক্রামক রোগ নিয়ে কাজ করা কোনো বেসরকারি সংস্থা কেউ সাবধান করেনি। দেশের প্রখ্যাত রোগতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্যবিদরাও কোনো সতর্কবার্তা দেননি।

 

এশিয়া পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টিকা কেনার জটিলতা, বিশেষ ক্যাম্পেইন না হওয়ার কারণ, অপারেশন প্ল্যান (ওপি) থেকে সরে আসা এবং হামে রেকর্ড মৃত্যুসহ সামগ্রিক বিষয়ে কথা বলেছেন সায়েদুর রহমান।

 
 

 

২০২৫ সালে জাতীয় পর্যায়ে হামের টিকা ক্যাম্পেইন আয়োজন সম্ভব না হওয়ার বিষয়ে তার কাছে জানতে চান এ প্রতিবেদক। উত্তরে তিনি বলেন, আগের দুটি বিশেষ হাম টিকাদান কর্মসূচি হয়েছিল ২০১৪ ও ২০২০ সালে, অর্থাৎ মাঝে ছয় বছরের ব্যবধান ছিল।

 

পরবর্তী বিশেষ কর্মসূচি ২০২৪ সালে হওয়ার কথা ছিল। এটি স্বীকার করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের প্রেক্ষাপট ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ছয় মাস স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত অত্যন্ত জটিল, জরুরি ও সংবেদনশীল অনেক বিষয় মোকাবিলা করতে হয়েছিল। বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের তথ্য যাচাই এবং আহতদের দেশ-বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা-ব্যবস্থাপনার সমন্বয় করতে হয়েছে।

 

পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ২০২৫ সালের মার্চে বিশেষ হাম কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় এমআর ভ্যাকসিন বরাদ্দ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তপত্র স্বাক্ষর করে ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনার বৈশ্বিক জোট গ্যাভি। তখন ভ্যাকসিনের চালান দুই ধাপে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর এবং ২০২৬ সালের মার্চে দেশে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করা হয়। এই পরিকল্পনার বিষয়ে সায়েদুর রহমান বলেন, সে সময় কোনো জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিশেষ হাম কর্মসূচি জরুরিভিত্তিতে অবিলম্বে শুরু করার মতো কোনো সতর্কতা, বার্তা, লাল সংকেত বা পরামর্শ ছিল না।

 

তিনি বলেন, আজকে পেছন ফিরে তাকালে মনে হয়, যদি সে সময় কোনো দেশি-বিদেশি সংস্থা, কর্তৃপক্ষ বা বিশেষজ্ঞের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে সতর্কতা পাওয়া যেত, তাহলে হয়তো আমরা চালান পৌঁছানোর দিনক্ষণ পুনর্নির্ধারণ করে বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে পারতাম।

 

ডা. সায়েদুর রহমানের এমন দাবির সঙ্গে অবশ্য একমত নন ইউনিসেফের কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার (৫ মে) সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এ নিয়ে কথা বলেছেন জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া। তিনি বলেন, ইউনিসেফ একাধিকবার অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছে। প্রতিটি বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে টিকার সম্ভাব্য ঘাটতি, রোগের প্রাদুর্ভাব, জটিলতা বৃদ্ধি এবং মৃত্যুহারের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে।

 

হামে তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যুর দায় অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর বর্তায় কি না—এমন প্রশ্নে সায়েদুর রহমান বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং আমাদের দেশের সবাই প্রতিরোধযোগ্য রোগে শিশুর মৃত্যুতে গভীরভাবে মর্মাহত। শুধু স্বাস্থ্য খাতের অংশীজন নয়, সারা দেশের মানুষের আবেগের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। দায় বিষয়ে আলোচনাটা খুব সংবেদনশীল এবং এখন এটি নির্ধারণ করাও জটিল। তবে সেই নির্ধারণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে দায় চাপিয়ে দেওয়াটা আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে হামের প্রাদুর্ভাবের কারণ নির্ণয়ের উদ্দেশ্যে বৈজ্ঞানিক ও প্রশাসনিক ঘটনাবলির বিশ্লেষণ এবং তার ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ। তবে আমি আগেও উল্লেখ করেছি যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় টিকা কিনতে প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন ও নীতিগত সহায়তা স্বল্পতম সময়ে প্রদান করেছে।

 

অন্তবর্তী সরকারের সময় হামের টিকার তুলনামূলকভাবে কম কাভারেজ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে উঠে আসা তথ্যের বিষয়ে সায়েদুর রহমান জানান, ২০২৪ সালে হামের টিকার প্রথম ডোজের কাভারেজ ছিল ৯৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজের ৯৬ দশমিক ১৫ শতাংশ। তবে ২০২৫ সালের কাভারেজ নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য সহকারীরা দেশব্যাপী প্রায় তিন মাস টিকাদানের তথ্য নিয়মিত আপলোড করেননি। ফলে ড্যাশবোর্ডে কাভারেজ ৫৯ শতাংশ দেখাচ্ছিল, যা পরে অপসারণ করা হয়। নির্ভরযোগ্য উৎস অনুযায়ী, গত বছর হামের প্রথম ডোজের প্রকৃত কাভারেজ ছিল ৯২ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজের ৯০ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

 

কাভারেজ কিছুটা কম থাকার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেটুকু কম টিকাদান দৃশ্যমান হচ্ছে, তার প্রধান কারণ স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলন-কর্মবিরতি-অসহযোগিতা। এর পাশাপাশি অনেক পদ শূন্য থাকায় কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ, কোভিড-পরবর্তী টিকাভীতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকাবিরোধী প্রচারণাকেও কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।

 

ইউনিসেফের সঙ্গে টিকা সরবরাহে জটিলতার অভিযোগ প্রসঙ্গে সায়েদুর রহমান বলেন, ইউনিসেফের সঙ্গে টিকা সরবরাহ সংক্রান্ত জটিলতা হয়েছে বলাটা ঠিক হবে না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ইউনিসেফ জরুরি প্রয়োজনে একাধিকবার অর্থ পরিশোধের আগেই টিকা সরবরাহ করেছে।

২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএম) টিকা কেনার প্রস্তাব উপদেষ্টা পরিষদের অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত কমিটিতে উত্থাপন করা হলে কমিটি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ অনুসরণের কথা জানায়। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে কমিটি ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি টিকা কেনার অনুমোদন দেয়।

 

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৮৪২ কোটি টাকার টিকা ডিপিএম পদ্ধতিতে কেনার অনুমতি চাওয়া হলে কমিটি ৫০ শতাংশের অনুমোদন দেয়। বাকি অংশের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি (ওটিএম) অনুসরণের নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী নভেম্বরে ৪১৯ কোটি টাকার টিকা ডিপিএম পদ্ধতিতে ইউনিসেফের কাছ থেকে কেনার অনুমোদন পাওয়া যায়।

 

চলতি বছরের জানুয়ারিতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণ থেকে আরও ৬০৯ কোটি টাকার টিকা ডিপিএম পদ্ধতিতে কেনার প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এক হাজার ২৮ কোটি টাকার টিকা কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে ইউনিসেফের সঙ্গে ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরের অর্থ সমন্বয় করতে দেরি হওয়ায় বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড় করাতেও সময় লাগে।

 

বাকি ৫০ শতাংশ টিকা কেনার বিষয়ে ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর ইউনিসেফ লিখিতভাবে ডিপিএম পদ্ধতি অনুসরণের অনুরোধ করে। ৩০ ডিসেম্বর ডিপিএম সুবিধা ব্যাখ্যা করে ইমেইল পাঠায়। পরের বছর ১১ ফেব্রুয়ারি ডিপিএম ও ওটিএম পদ্ধতিতে সময়ের পার্থক্য তুলে ধরে আবারও যোগাযোগ করে সংস্থাটি। এ প্রসঙ্গে সায়েদুর রহমান বলেন, ইউনিসেফের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাওয়ার পর নির্বাচনকেন্দ্রিক ব্যস্ততার ফলে সিদ্ধান্তগ্রহণের বিষয়টি নির্বাচিত সরকারের বিবেচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়।

 

ইউনিসেফের পরামর্শ উপেক্ষা করে ওটিএম পদ্ধতিতে কোনো টিকা কেনা হয়নি জানিয়ে সায়েদুর রহমান বলেন, আমি যেহেতু নিশ্চিত নই, তাই ইউনিসেফের সঙ্গে কোনো জটিলতা হয়েছে, এমনটা বলছি না। তবুও গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ বা বক্তব্যের ভিত্তিতে বলা যেতে পারে, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে নিয়মিত ক্রয়ের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে বিধিমালা অনুসরণের সিদ্ধান্তের কারণে সম্ভবত ইউনিসেফের দিক থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকতে পারে।

 

বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই ওপি থেকে সরে আসার অভিযোগ প্রসঙ্গে সায়েদুর রহমান জানান, ১৯৯৮ সাল থেকে সরকার স্বাস্থ্য খাতে দাতানির্ভর সেক্টর ওয়াইড প্ল্যান (খাতভিত্তিক পরিকল্পনা) অনুসরণ করে আসছিল। তিনটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা শেষে চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচি (এইচপিএনএসপি) অনুমোদনের সময় ২০১৭ সালে পরিকল্পনা কমিশন এক্সিট প্ল্যান তৈরির তাগিদ দেয়। কিন্তু তখনকার সরকার কোনো এক্সিট প্ল্যান ছাড়াই চতুর্থ এইচপিএনএসপি শেষ করে এবং দুই বছর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চালায়। এমনকি পরবর্তী পঞ্চম এইচপিএনএসপিও (২০২৪-২০২৯) একই প্রক্রিয়ায় প্রণয়ন করা হয়।

 

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পঞ্চম এইচপিএনএসপি পরিকল্পনা কমিশনে উত্থাপন করা হলে এক্সিট প্ল্যানসহ পুনরায় উপস্থাপনের নির্দেশনা দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দাতানির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসার পথ নির্ধারণে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও জনস্বাস্থ্যবিদদের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়।

 

সায়েদুর রহমান বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া ওপি থেকে সরে আসা হয়েছে বলে যে কথাটি বলা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। ট্রানজিশনাল ডিপিপি অথবা ব্রিডিং ডিপিপি—যে নামেই বলি না কেন, এগুলোই ছিল বিকল্প ব্যবস্থা। তবে দীর্ঘদিন ওপিনির্ভর ব্যবস্থায় অভ্যস্ত থাকায় অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয় ও দাতা সংস্থাগুলো বিকল্প প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় নেয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ ও একনেকের অনুমোদন পেতেও দেরি হয়।

 

উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কেনার সিদ্ধান্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল কি না। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কেনা হলে আনুমানিক কত অর্থ সাশ্রয় সম্ভব ছিল? এমন প্রশ্নের জবাবে সায়েদুর রহমান বলেন, উন্মুক্ত দরপত্র সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিয়মিত প্রক্রিয়া। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়েও এই পদ্ধতি নিয়মিত অনুশীলন করা হয়। ফলে সিদ্ধান্তটি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হয়নি। আর এখন পর্যন্ত ইপিআইর (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) টিকা কেনায় কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক বাজার যাচাই করা হয়নি। তাই কত অর্থের সাশ্রয় সম্ভব ছিল সে বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না।

 

আপনি টিকা কেনায় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের কথা বলেছেন। এখানে স্বচ্ছতা বলতে ঠিক কী বোঝাচ্ছেন? অতীতে কী ধরনের অস্বচ্ছতা বা অনিয়মের অভিযোগ ছিল? এমন প্রশ্নে ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়াকে সাধারণ দৃষ্টিতে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক বলে মনে করা হয়। আমি শুধু সেটুকুই বুঝিয়েছি। অতীতে টিকা কেনায় অনিয়মের কথা বলিনি। শুধু অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি সংশ্লিষ্ট বিধি উল্লেখ করে যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলেন, সেটার কথা বলেছি। যে কোনো নিয়মিত ক্রয় এবং যে ক্ষেত্রে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নের পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ছে, সেক্ষেত্রে যারাই সরকারের দায়িত্বে থাকবেন, নিশ্চয়ই তারা রাষ্ট্রীয় অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাইবেন। সেক্ষেত্রে তারা রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনের ধারা বছরের পর বছর ধরে প্রয়োগ করবেন বলে আমার মনে হয় না।