রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে চাঞ্চল্যকর সৌদি রিয়াল চুরির ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং চুরি যাওয়া অর্থের একটি বড় অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ জানান, সম্প্রতি বিমানবন্দর থানাধীন হজ ক্যাম্প থেকে এক হজযাত্রীর ২২ হাজার সৌদি রিয়াল চুরি হয়। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে মো. হাবিবুর রহমান ও মো. নাদিম সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল এবং ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে তবে পুরো ঘটনাটিতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের মানবিক সহায়তা। চুরির ঘটনায় ভুক্তভোগী হজযাত্রী দম্পতি ঈমান আলী ও শাহানা বেগম বিপাকে পড়ার খবর শুনে ধর্মমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে নিজের পকেট থেকে ২ হাজার সৌদি রিয়াল সহায়তা দেন। শুধু তাই নয়, সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের আরও ১ হাজার রিয়াল প্রদান করা হয়।
জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল সকালে এহরাম পরিধানের সময় ওই দম্পতির অর্থ চুরি হয়। বিষয়টি জানার পর ধর্মমন্ত্রী দ্রুত সাড়া দেন এবং ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা করে তাদের হজযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে উদ্যোগ নেন। এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেন।
ধর্মমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই এটিকে দায়িত্বের বাইরে গিয়ে মানবিকতার উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
রংপুর থেকে আসা হজযাত্রী আব্দুল আউয়াল বলেন, মন্ত্রীদের নিতে শুনেছি, দিতে খুব কমই দেখি। এবার প্রথম দেখলাম একজন মন্ত্রী নিজের পকেট থেকে হজযাত্রীদের সহায়তা করেছেন।
এদিকে, ধর্মমন্ত্রীর নির্দেশনায় হজ ক্যাম্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনাও জোরদার করা হয়েছে। খাবারের মান, চিকিৎসাসেবা ও আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। গত ১৬ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে হঠাৎ ক্যাম্পে উপস্থিত হয়ে ধর্মমন্ত্রী হজযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের যাত্রা প্রস্তুতি, থাকা-খাওয়া, চিকিৎসাসেবা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং প্রতিটি সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানের নির্দেশ দেন। পরিদর্শনের এক পর্যায়ে এক নারী হজযাত্রী বাথরুমে পড়ে আহত হওয়ার খবর পেয়ে দ্রুত তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন এবং পরে নিজেই সেখানে গিয়ে চিকিৎসার তদারকি করেন, যা উপস্থিতদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
হজ ক্যাম্পে খাবারের মান নিয়ে হজযাত্রীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মমন্ত্রী তা গুরুত্বসহকারে নিয়ে ক্যান্টিন ব্যবস্থাপনা পরিবর্তনের নির্দেশ দেন এবং খাবারের মান উন্নয়নে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনকে দায়িত্ব দেন। পাশাপাশি ডরমিটরিতে মশার উপদ্রব ও ধূপের ধোঁয়াজনিত সমস্যার বিষয়েও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেন। তিনি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, হজযাত্রীরা আল্লাহর বিশেষ মেহমান—তাদের সেবা শুধু দায়িত্ব নয়, ইবাদতের অংশ; কোনোভাবেই যেন তারা কষ্ট না পান, তা নিশ্চিত করতে হবে।
ঢাকাটাইমস