Image description
বিএনপি সরকার যদি খুবই ভালো পারফর্ম করে বিভিন্ন সেক্টরে তাহলে (দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টাকা পাচার কন্ট্রোল করা, জ্বালানি/বিদ্যুত পরিস্থিতি, দ্রবমূল্য, নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে চাকরি বাড়ানো এবং দলের অভ্যন্তরে কোন্দলের বদলে সংহতি বৃদ্ধি করা), তাহলে বিএনপির বিকল্প কেউ থাকবে না আগামী এক বা একাধিক নির্বাচনে। তখন জামায়াত সক্ষম কোন প্রতিপক্ষই হতে পারবে না। আর তরুণ এনসিপি সক্ষম প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে আরও অনেক সময় দরকার।
 
কিন্তু যদি এই কাজগুলোতে ভালোভাবে করতে না পারে, এবং অব্যাহতভাবে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠতে থাকে, তাহলে এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির জন্য এখন ইমিডিয়েট থ্রেট হচ্ছে, জামায়াত। এবং এর পরের থ্রেট হচ্ছে এনসিপি। আওয়ামী লীগ এখন ডিসটেন্ট থ্রেট। জামায়াত ও এনসিপির দুই থ্রেট এক হয়ে অব্যাহতভাবে অজপ্রিয় হয়ে ওঠা বিএনপির বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়ালে সেটা বিএনপিকে বিপদে ফেলতে পারে।
 
আওয়ামী লীগ এখন বিএনপির জন্য একটি অম্লমধুর ব্যাপার! আওয়ামী লীগের (এবং আহ্ লীগের) সফট পাওয়ার বিএনপির লাগবে। আবার আওয়ামী লীগের ভোটার ব্যাংকও লাগবে (স্থানীয় এবং পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে)। কিন্তু আওয়ামী লীগকে মাঠে এবং নির্বাচনে রাখা যাবে না। মানে, তার হার্ড পাওয়ারটা স্টিল ‘শত্রু’, কিন্তু সফটপাওয়ারটা দরকার। এবং এই সফটপাওয়ারকে কিভাবে ‘ভালো বন্ধু’ বানানো যায় সেটা করতে হবে।
সরকার হয়তো সেটাই করছে। আওয়ামী লীগের মাঠের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে, যার বিপক্ষে ঘোষিত অবস্থান ছিল দলটির। কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক আওয়ামীদেরকে বা আহ্ লীগকে প্রচুর স্পেস দিচ্ছে, সেটা নানান ঘটনায় এভিডেন্ট।
 
এতে ইমিডিয়েট দুই থ্রেট- জামাত-এনসিপিকে- শক্তভাবে কাউন্টার দিতে এলাই পাওয়া যাচ্ছে। একইসাথে জামাত/এনসিপি বিরোধী ভোটগুলো নিজেদের বাক্সে এককভাবে ফেলানোর ব্যবস্থা করা যাবে (যেহেতু আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ)।
 
সাথে আরেকটা ফ্রন্ট আছে - ইমিডিয়েট বড় থ্রেট জামাতের (ও তার সাথে থাকা গণতন্ত্রপন্থী ইসলামিস্টদের যে জোট আছে) বিরুদ্ধে সফটপাওয়ার হিসেবে কাজে লাগানোর। সেটা হচ্ছে, নির্বাচন ও গণতন্ত্রবরোধী ইসলামিস্ট গ্রুপ ও ফিগারগুলো। তারা নির্বাচনে দাঁড়াবে না। ফলে এরা শক্তিশালী হলে ভোটের মাঠের প্রতিদ্ধন্দ্বী হয়ে দাঁড়াবে না। এদের সফটপাওয়ার ধার্মিক জনগোষ্ঠির একাংশকে প্রভাবিত করতে পারবে। ফলে, জামাতের বিরুদ্ধে এটিকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে। ফলে এদেরকে স্পেস দিতে হবে! পরে সুবিধামত সময়ে এদের কন্টেইন করা যাবে।
 
এই পলিসি যদি কেউ আদৌ নেয়, তাহলে সেটিকে স্মার্ট বলতেই হবে। কিন্তু এটাও বলতে হবে এটি খুব ঝুঁকিপূর্ণ। ইমিডিয়েট দুইটা থ্রেটকে নিউট্রালাইজ করতে, কিছুটা ডিসটেন্ট আরও দুইটা মেলিশিয়াস এক্টরকে ফোল্ডে নিয়ে লিমিটেড ভাবে এক্টিভেট করার চেষ্টাটি তখন সফল হতে পারে যখন হ্যান্ডলার নিজে অনেক ক্যাপাবল হবেনা। বিএনপির সরকার বা বিএনপি কতটা ক্যাপাবল হ্যান্ডলার সেটা বুঝতে এখনও বেশ সময় দিতে হবে।