পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) প্রধান ফটক থেকে মাত্র দুই মিনিট দূরত্বে অবস্থিত মাহতাব টাওয়ার ছাত্রাবাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী হওয়ায় এটি বহু শিক্ষার্থীর কাছে পছন্দের আবাসন, এমনকি কেউ কেউ একে শিক্ষার্থীদের ‘তৃতীয় আবাসিক হল’ বলেও অভিহিত করেন। তবে এই ছাত্রাবাসকে ঘিরে রয়েছে উদ্বেগজনক অভিযোগ।
শিক্ষার্থীদের দাবি, সন্ধ্যা নামলেই মাহতাব টাওয়ারের বিভিন্ন কক্ষ থেকে ভেসে আসে মাদকদ্রব্যের গন্ধ। কেউ গাঁজা, আবার কেউ অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবনে জড়িত—এমন অভিযোগ করেছেন সেখানে বসবাসরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এর আগে গত ৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে ‘সন্ধ্যা নামলে মাহতাব টাওয়ারে বসে মাদকের আসর’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর কিছুদিন পরিস্থিতির উন্নতি লক্ষ করা গেলেও বর্তমানে আবারও আগের মতো মাদক সেবনের আসর বসে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, ছাত্রাবাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একেবারে কাছে হলেও এ বিষয়ে প্রশাসনের তেমন কোনো নজরদারি নেই। ফলে মাদকসেবীরা এটিকে নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহার করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী নিজ কক্ষে বসেই গাঁজা সেবন করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে অনেকেই প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
এ ছাড়া স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের মাধ্যমেই এসব মাদক সরবরাহ করা হয় বলে জানা গেছে। আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোয় সহজে মাদক সরবরাহ করা গেলেও সাম্প্রতিক পরিবর্তনের কারণে এখন সেই সুযোগ কমেছে। ফলে মাহতাব টাওয়ার বর্তমানে মাদক সরবরাহ ও সেবনের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘মাহতাব টাওয়ারে প্রায় প্রতিদিনই সন্ধ্যার পর কিছু শিক্ষার্থী গাঁজার আসর বসান। এ নিয়ে আগে সংবাদ প্রকাশ হলেও সাময়িকভাবে কমে গিয়ে আবারও শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় বা ছাত্রাবাস কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসনের উচিত দ্রুত নজরদারি বাড়ানো। কারণ এতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এবং সামগ্রিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রতিদিন সন্ধ্যার পর মাহতাব টাওয়ারে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী স্থানীয় কিছু মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদক সংগ্রহ করে ভবনের বিভিন্ন ফ্লোরের কয়েকটি কক্ষে সেবন করে থাকে। ফলে ভবনের আশপাশে বের হলেই তীব্র ও বিরক্তিকর গন্ধ পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, এ ধরনের কার্যক্রম আমাদের নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে বসবাসরত শিক্ষার্থীরা চান যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর মতো মাহতাব টাওয়ারেও প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি মাহতাব টাওয়ারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তাদের কর্তব্য পালন করা।’
এ বিষয়ে মাহতাব টাওয়ার ছাত্রাবাসের ম্যানেজার জাকির হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। এ সমস্যা সমাধানে আমরা নিয়মিত তদারকি জোরদার করার চেষ্টা করছি। প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুবার করে প্রতিটি ফ্লোর পরিদর্শন করা হচ্ছে। এখানে অনেক শিক্ষার্থী বসবাস করার কারণে সবার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আমাদের কাছে থাকে না। তবু আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছি, যাতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে। তবে যারা নেশা করে, তারা নিজ নিজ কক্ষে গোপনে এসব কার্যক্রম চালানোর কারণে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, ‘এর আগে আমরা তদারকি করেছি। তখন এর প্রভাব অনেকটা কমে এসেছিল, কিন্তু বর্তমানে আবারও কিছু শিক্ষার্থী অভিযোগ জানিয়েছেন। আমরা এ ব্যাপারে আলোচনা করছি খুব দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
শিক্ষার্থীদের মতে, যেহেতু মাহতাব টাওয়ারে বসবাসরত অধিকাংশই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তাই তাদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।