একাধিক মন্ত্রী এবং এমপির অনুপস্থিতিতে সংসদের নিয়মিত স্বাভাবিক কার্যক্রমে ঘটছে ছন্দপতন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সংসদের বৈঠকে জরুরী জন-গুরুত্বপূর্ণ তিনটি নোটিশ নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায়ও একাধিক এমপিকে নাম ঘোষণা করে পাওয়া যায়নি।
পরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-এমপিরা অধিবেশনে যোগ দিলে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা স্থগিত করে নোটিশের নিষ্পত্তি করা হয়। এ ছাড়াও পরপর দুইদিন নির্ধারিত সময়ের পরে অধিবেশন শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলের একজন সদস্য। স্পিকার অবশ্য বলেছেন, সদস্যরা দেরি করলে তার কি করার আছে।
সংসদের চিফ হুইপ নূর ইসলাম মনি অবশ্য দাবি করেছেন, আগের দিন রোববার সরকারী দলের সংসদীয় দলের সভা থাকায় এবং সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঢাকার বাইরে কর্মসূচি থাকায় অনেক মন্ত্রী-এমপি তাঁর সঙ্গে রয়েছেন। তাই কিছুটা বিলম্ব ঘটেছে। পরে সংসদের বৈঠকে সভাপতির আসনে থাকা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, একটি বিষয় সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, সংসদের কার্যক্রম যেকোন সরকারি কার্যক্রমের চাইতে অগ্রাধিকার লাভ করে।
সোমবার সংসদের বৈঠকে দিনের কার্যসূচিতে শুরুতে থাকা প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। এরপর জরুরি জন–গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ (বিধি–৭১) এর তিনটি নোটিশ গ্রহণ করা হয়। এরমধ্যে প্রথমটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, দ্বিতীয়টি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর এবং তৃতীয়টি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রীর জবাব দেওয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল।
প্রথম নোটিশটি বিএনপির এমপি জয়নুল আবদিন ফারুক উত্থাপনের জন্য দাঁড়ালেও স্পিকার জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী অনুপস্থিত। তাই এটি পরে উত্থাপিত হবে। এরপর তিনি জানান, দ্বিতীয় নোটিশ উত্থাপনকারীকেও অপেক্ষা করতে হবে। কারণ মন্ত্রীকে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।
এরপর তৃতীয় নোটিশটি আর উত্থাপনের আহ্বান না জানিয়ে স্পিকার বলেন, নোটিশগুলোর নিষ্পত্তি স্থগিত রাখা হলো। অবশ্য পরক্ষণেই তিনি তৃতীয় নোটিশ পড়ার জন্য সুনামগঞ্জ–১ আসনের সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলকে আহ্বান জানালে এই সদস্যও অনুপস্থিত ছিলেন। তাই আর উত্থাপিত হয়নি।
নির্ধারিত সময়ের সোয়া একঘণ্টা পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম উপস্থিত হলে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা স্থগিত রেখে নোটিশগুলো নিষ্পত্তি করা হয়। তৃতীয় নোটিশের জবাব দিতে গিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানান, তিনি আগাগোড়ায়ই বৈঠকে ছিলেন, প্রশ্ন কর্তাই উপস্থিত ছিলেন না।
এদিকে অধিবেশন দেরিতে শুরু হওয়ার বিষয়ে সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, 'সংসদে আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি আছি। আমাদের কাছে জাতি সর্বাধিক পরিমাণ সহানুভূতি আশা করে। গতকালকে (রোববার) সংসদ নির্ধারিত সময়ের আধাঘণ্টা পরে শুরু হয়েছে, আজও (সোমবার) কয়েক মিনিট পরে শুরু হয়েছে। দিনের কার্যক্রম শেষে পরের দিনের কার্যক্রম কখন শুরু হবে, তা বলা হয়ে থাকে। কিন্তু কোন কারণে এটা বিলম্বিত হয়, আমি মনে করি কার্যক্রম শুরুর পূর্বেই কারণটা জানিয়ে দেওয়া হোক, শুরুতেই জানানো উচিত। যা গতকালও বলা হয়নি, আজও বলা হয়নি। জামায়াতের এই এমপি বলেন, উপস্থিতির ব্যাপারেও আরও সতর্ক হওয়া উচিত।
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সদস্যরা দেরিতে আসার কারণে বৈঠক শুরু হতে বিলম্বিত হয়েছে। তিনি শুধু অনুরোধ জানাতে পারেন, সদস্যরা সময়মতো উপস্থিত থাকলে কোনো সমস্যা হবে না।
এরপর চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি বলেন, সংসদ এ পর্যন্ত সময়মতো শুরু হয়েছে। শুধুমাত্র রোববার সংসদীয় দলের বৈঠক ছিল। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি থাকায় প্রধানমন্ত্রীর আসতে ১০ মিনিট দেরি হওয়ার কারণে ১০ মিনিট দেরি হয়েছে। সবাই যখন ঢুকেছে ১০ মিনিট দেরি হয়েছে। আমরা দুঃখিত। কিন্তু কথাটা হচ্ছে ১০ মিনিটের জায়গায় আধাঘণ্টা বললে সেটাতে দুঃখিত বলা যায় না, সেটা অসুবিধা। ভবিষ্যতে সতর্ক থাকব, যাতে দেরি না হয়, যাতে সময়মতো শুরু করতে পারি।
চিফ হুইপ বলেন, আজ (সোমবার) প্রধানমন্ত্রী যশোর গিয়েছেন। সঙ্গত কারণে অনেক সদস্য ও মন্ত্রীরাও সেখানে গিয়েছেন। কাজেই সে কারণে একটু দেরি হতে পারে। সবাই মিলে ভবিষ্যতে সময়মতো আসার চেষ্টা করতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
শীর্ষনিউজ