Image description

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের গেস্টরুমে ছাত্রশিবিরবিরোধী ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে ‘গুপ্ত’ দেয়াললিখন করেছে ছাত্রদল। এতে গেস্টরুমের সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন হলটির আবাসিক শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে হল সংসদের নেতাসহ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ অবস্থায় বৈঠকে বসে সমাধান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হল প্রশাসন।

জানা গেছে, গতকাল বুধবার (২৩ এপ্রিল) রাতে জহুরুল হক হলে অতিথিদের জন্য নির্ধারিত গেস্টরুমের চার দেয়ালে ‘গুপ্ত’ এবং ক্রস চিহ্ন দিয়ে ‘শিবির’ লেখেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। এই কক্ষটি হল সংসদের নেতারা বিভিন্ন স্থান থেকে অর্থ এনে সাজিয়েছিলেন। তাদের অভিযোগ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কক্ষটির দেয়ালে এভাবে দেয়াললিখনের ফলে এর সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে।

শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল সংসদের জিএস ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির সংগঠক খালেদ হাসান ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আপনারা ছাত্রদল-শিবিরের দ্বন্দ্বে জড়াবেন এটা হয়ত আপনাদের নিজস্ব বিষয়; কিন্তু সেই সঙ্গে হলের উন্নয়নমূলক কাজগুলো এভাবে নষ্ট করে দেওয়া সত্যিই আমার জন্য কষ্টের।’

তিনি লিখেছেন, ‘আমি যখন হলের জিএস ছিলাম না, তখনও ব্যক্তিগতভাবে অনেক কষ্ট করে স্পন্সর ম্যানেজ করেছি। এখনও চেষ্টা করে যাচ্ছি শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের জন্য কিছু করতে। আজও সকাল থেকে ক্লাস বাদ দিয়ে হল অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে ইউজিসিতে গিয়েছি অডিটোরিয়ামের বিষয়ে কথা বলতে। একটি স্পন্সর ম্যানেজ করতে কতটা পরিশ্রম করতে হয় পায়ের পাতা পর্যন্ত ব্যথা হয়ে যায় তা হয়ত আপনারা অনুভব করেন না। অনুভব করতে পারলে হয়তো এভাবে গেস্ট রুমটি নষ্ট করতেন না।’

TDC (79)
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছিল কক্ষটি

 

খালেদ হাসান আরও বলেন, ‘এই গেস্টরুমটি তৈরি করতে কত জায়গায় যেতে হয়েছে, কত মানুষের সাথে কথা বলতে হয়েছে, কত পরিশ্রম করতে হয়েছে তা হয়ত অনেকেরই অজানা। সারাদিন পরিশ্রম শেষে যখন রাত সাড়ে ১১টার দিকে হলে ফিরে দেখি, যে স্বপ্ন নিয়ে হলকে সাজাতে চাই, সেই কাজই আমাদের নিজেদের ছোট-বড় ভাইয়েরা নষ্ট করে দিচ্ছে তখন সত্যিই আর কিছু বলার থাকে না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাসিব আল আসিফ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে যেকোনো সংগঠন বা যে কেউ লিখতে পারে। মূলত দেয়াললিখনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম সিটি কলেজে শিবিরের সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল, তারই প্রতিবাদে আমাদের হলেও এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলাম।

তবে তারা হলে ‘গুপ্ত’ এবং ‘শিবির’ লিখলেও পরবর্তীতে এটিকে বিতর্কিত করতে আপত্তিকর শব্দ লেখা হয়েছিল এবং ছাত্রদল নেতাকর্মীরা এটি মুছে দেন বলেও জানান তিনি। ছাত্রদল আহ্বায়ক বলেন, হলের বিভিন্ন জায়গায় এটা লেখা হয়। এরপর একটা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে হল থেকে ভিসি চত্বর পর্যন্ত যাই। এসে দেখি গেস্টরুমেও লেখা, আর আমরা যে লেখাটা লিখেছিলাম, তার নিচে কয়েকটা জায়গায় কিছু আপত্তিজনক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। পরবর্তীতে আমরা সেটা মুছে দেই। আমরা লিখেছিলাম গুপ্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে। আমাদের লেখার নিচে আপত্তিকর শব্দগুলো আমাদের এই কর্মসূচিকে বিতর্কিত করার জন্য লেখা হয়েছে।

শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো নুরুল আমিন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এখানে কোথাও কোনো আঁকাআঁকি না করাই ভাল। এটাই আমরা চাচ্ছি। যদিও আমি বলেছি যে মুছে দেওয়ার জন্য, কিন্তু এই মুছে দেন— এই বলাটাও আমি আমার পক্ষ থেকে বলতে পারছি না। এটা হাউজ টিউটরদের মিটিংয়ে বসেই বলা উচিত। তারপরও যেহেতু সৌন্দর্য নষ্ট হয়, তাই বলেছি। আমি একটা হলের দায়িত্বে আছি, হলের সৌন্দর্য বাড়ুক, দেখতে ভাল লাগুক, চারদিকে হল সম্পর্কে সুনাম ছড়িয়ে পড়ুক— এটাই আমার চাওয়া।

তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থানের পর আমাদের নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। আমরা আর কোনো ক্যাওয়াস (বিশৃঙ্খলা) চাই না। ছাত্র সংগঠনগুলো যেন মিলেমিশে থাকে এবং হলের শৃঙ্খলায় ব্যাঘাত না ঘটায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। গেস্টরুমের বিষয়ে আমরা শিক্ষকদের সাথে মিটিং করব এবং একটি সুষ্ঠু সমাধান বের করব।