প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশে লোডশেডিং হচ্ছে, গ্রামে ভয়াবহ আকারে লোডশেডিং হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে বা সংশ্লিষ্ট যারা রয়েছেন তাদের সংকট মোকাবিলায় বড় ধরনের ড্রাইভ দিতে হবে।
তিনি বলেন, প্রচণ্ড গরম পড়েছে। রাজশাহীতে গতকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করেছে। এই সংকট মোকাবিলা করতে সরকারকে আরও তৎপর হতে হবে। বিদ্যুৎমন্ত্রীকে আরও তৎপর হতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয়তাবাদী চারু ও কারুশিল্পী দল আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও সম্মাননা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। এ সংকট মোকাবিলার জন্য সরকারের মন্ত্রীগুলোকে তীক্ষ্ণ হতে হবে। শুধু কথা বললে হবে না। মানুষকে আশ্বস্ত করতে হবে। দেশের জনগণকে আশ্বস্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, নানা কারণে সংকট তৈরি হয়েছে, কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে, যুদ্ধের কারণেও হয়েছে। আপনারা যে সংকট মোকাবিলা করছেন; এ ব্যাপারে সচেতন সেটা মানুষকে জানাতে হবে। সারা দেশে যে তাপপ্রবাহ চলছে সেটা মোকাবিলা করার জন্য বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সংকট নাই বললে চলবে না।
জনগণের দ্বারা নির্বাচিত বিএনপির জোট সরকার যে কাজ করছেন আমরা যেটা দৃশ্যমান দেখছি। অন্যান্য মন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও, বিদ্যুতের ক্ষেত্রে, জ্বালানির ক্ষেত্রে, সংকট যে মোকাবিলা করছেন সেটাকে দৃশ্যমান করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক কারণেই তো জ্বালানি সংকট; এটা বিএনপির কোনো ব্যর্থতা নয়। যদি বিএনপি সরকারের ব্যর্থতার কারণে হতো, তাহলে একটা কথা ছিল। অনেকে বিরক্ত হয়ে ভিডিও ভাইরাল করছেন যে দরকার হলে দাম বাড়ান তবুও আমরা এই কষ্ট করতে চাই না। তবে সত্যটা হচ্ছে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ভালো না; ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধ আবার পুনরায় শুরু হবে কি না এটা নিয়ে পাকিস্তানে আলোচনা চলছে। একটা টানটান অবস্থা বিরাজ করছে। ইরান থেকে জাহাজগুলো আসতে পারছে না যার কারণে জ্বালানি তেলের সংকট হচ্ছে। কিন্তু এটা কৃত্রিম সংকট। এটা নিরসন করা কোনো কঠিন কিছু না।
তিনি বলেন, যে দাম বেড়েছে এটা খুবই ন্যাচারাল কিছু কিছু এমপি মন্ত্রীরা পার্লামেন্টে বলেছেন এটাকে সংকট বলা যাবে না যেটা সত্য সেটা বলুন। এই সংকট তো বিএনপি সরকারের কারণে হয়নি। সংকটা আন্তর্জাতিক কারণে হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে এটা হয়েছে। সুতরাং মানুষের প্রতিধ্বনিতেই উচ্চারিত হচ্ছে জ্বালানির দামটা বাড়াতে হবে। না হলে তো ভর্তুকিটা এমন পর্যায়ে দাঁড়ায় যে সামনের বাজেটে সমস্যা হয়।
তিনি আরও বলেন, সংকট থাকবেই; সংকট মোকাবেলা করতে হবে। অর্থমন্ত্রী বলছেন অর্থনীতির সব সূচকগুলোই নিম্নমুখী। কিন্তু এই সংকটটা পার্মানেন্ট সংকট না, ন্যাচারাল ডিজাস্টার না। বিরোধীদল যাই বলুক না কেন? যে সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই নির্বাচনি কমিটমেন্টগুলো পূরণের চেষ্টায় সচেষ্ট থাকে, এই সরকার সংকট মোকাবিলা করে মানুষকে স্বস্তিতে রাখবে এটা আমরা সবাই বিশ্বাস করি।
অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ড. সুকোমল বড়ুয়া, অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তারসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।