প্রার্থী কম্পিউটারের সামনে বসলে এআই তার পোশাক পরিচ্ছদ, বডি ল্যাংগুয়েজ, সাধারণ জ্ঞান ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের ভিত্তিতে মার্কিং করবে।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ফল বুধবার সন্ধ্যায় বা রাতে প্রাকাশিত হতে পারে।
এরপর তাদের ভাইভা হবে, যেখানে তাদের মূল্যায়ন করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হবে বলে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ-এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন।
গত শনিবার বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপারের ১২ হাজার ৯৫১টি পদে নিয়োগে রাজধানীর নয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমসিকিউ পরীক্ষা হয়।
জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম মঙ্গলবার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "ফল প্রকাশের কাজ আমরা অনেকটা গুছিয়ে এনেছি। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষ বুধবার সন্ধ্যায় বা রাতে ফল প্রকাশ করা হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।”
এবারই প্রথম এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এ এই নিয়োগে এমসিকিউ পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষা হয়েছে ৮০ নম্বরের।
তাতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ৮ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। বাকি ১২ নম্বর থাকবে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার ওপর।
মৌখিক পরীক্ষা পদ্ধতি বর্ণনা করে এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান বলেন, "প্রার্থীদের সশরীরে এনটিআরসিএর কার্যালয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। সেখানে তিনি কম্পিউটারের সামনে বসলে এআই প্রার্থীর পোশাক পরিচ্ছদ, বডি ল্যাংগুয়েজ, সাধারণ জ্ঞান ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের ভিত্তিতে মার্কিং করবে।
"পুঙ্খানুপুক্ষভাবে প্রার্থীদের যাচাই করে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত করা হবে। এ সফটওয়্যারটা ডেভেলপ করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। এটা ঠিক হলেই আমরা মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া শুরু করব।"
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপারের সাড়ে ১৩ হাজার শূন্য পদে নিয়োগে গত ২৯ জানুয়ারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এনটিআরসিএ।
৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এ নিয়োগের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে চলে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
৮০ হাজারের বেশি শিক্ষকের আবেদন গ্রহণের পর এমপিও নীতিমালাও জনগণ সংশোধন করে এসব পদে নিয়োগের যোগ্যতা সংশোধন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
আগে এসব পদের নিয়োগ পেতে ১০ থেকে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হলেও নতুন বিধান অনুযায়ী, এসব পদে নিয়োগ পেতে এখন থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকদের কমপক্ষে ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
পরে গত ২৫ মার্চ নিয়োগের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি জারি করে এনটিআরসিএ। ২৮ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত আবারও আবেদন গ্রহণ করা হয়।
আগের বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে জারি করা সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান, সহকারী প্রধান, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার, সহকারী সুপারের শূন্যপদের সংখ্যা কমে ৬০৮টি।
১২ হাজার ৯৫১ শূন্যপদে নিয়োগে ৫৩ হাজার ৫৯টি আবেদন জমা পড়ে বলে জানায় এনটিআরসিএ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ গত ২৭ জানুয়ারি জারি করা এক পরিপত্রে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, উপাধ্যক্ষ, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপারিনটেনডেন্ট ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএকে দেয়।
২০০৫ সাল থেকে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার আয়োজন ও ২০১৬ সাল থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক-প্রভাষক নিয়োগের প্রার্থী নির্বাচন ও নিয়োগ সুপারিশ করে আসছে এনটিআরসিএ।