Image description
মোটরসাইকেলের সাইলেন্সার ও হাইড্রোলিক হর্নে কান ঝালাপালা

রাজধানীতে বেপরোয়া গতিতে চলা মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের বিকট শব্দে অতিষ্ঠ নগরবাসী। বিশেষ করে তরুণ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের মধ্যে মডিফায়েড সাইলেন্সার ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ায় দিনরাতই বাড়ছে শব্দদূষণ।

গত তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) হাইড্রোলিক হর্ন ও বিকট শব্দে চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ১৬ হাজার ৮৫৫টি মামলা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সে হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে পাঁচ হাজার ৬১৮টি মামলা হয়েছে।

এ সময়ে মোট জরিমানা আদায় হয়েছে এক কোটি ২৯ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাতিরঝিল, মগবাজার, বনানী, ধানমণ্ডি, কাকরাইল, মিরপুর, গুলশান, উত্তরা, চানখাঁরপুল ও কুড়িল ৩০০ ফিট সড়কে এই প্রবণতা বেশি। চালকরা দ্রুতগতিতে এদিক-ওদিক করে সামনে থাকা যানবাহনকে অতিক্রম করার চেষ্টা করেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত এসব মোটরবাইকের দাপট চলে।

অনেক ক্ষেত্রে চালকরা হেলমেটও ব্যবহার করেন না।

নগরবাসীর অভিযোগ, এ ধরনের বিকট শব্দে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকার আশপাশে এই শব্দদূষণ আরো অসহনীয় হয়ে ওঠে। আগে এ ধরনের মডিফায়েড সাইলেন্সারের বাইক কম দেখা গেলেও এখন তা কয়েক গুণ বেড়েছে।

দুই থেকে ছয় লাখ টাকা দামের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরবাইক পরিবর্তন করে উচ্চ শব্দ তৈরি করা হচ্ছে

গুলশান থানার ওসি রাকিবুল হাসান বলেন, তাঁর এলাকায় মোটরসাইকেলের বেপরোয়া চলাচল তুলনামূলক কম হলেও রাতে প্রাইভেট কার থেকে উচ্চ শব্দের ঘটনা ঘটে। এ ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

একাধিক তরুণ জানিয়েছে অন্যদের থেকে আলাদা দেখাতে এবং শখের বশে তাঁরা মোটরবাইক বা গাড়িতে পরিবর্তন এনে উচ্চ শব্দ তৈরি করেন। এ জন্য তাঁরা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় উচ্চমাত্রার শব্দে থাকলে মানুষের শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হঠাৎ কাছ থেকে তীব্র শব্দে কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। দুর্বল হৃদযন্ত্রের রোগীদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সড়কের সব ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মডিফায়েড সাইলেন্সার বা উচ্চ শব্দের হর্ন ব্যবহার গুরুতর অপরাধ। ধরা পড়লে জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে আরো কঠোর নজরদারি করা হবে।

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের (ট্রাফিক) উপকমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, যানজট বেশি থাকায় তাঁদের এলাকায় এ ধরনের ঘটনা তুলনামূলক কম। তবে আইন ভঙ্গ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) এম এন নাসিরুদ্দিন বলেন, উচ্চ শব্দের মডিফায়েড সাইলেন্সার ও হর্ন ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রতিদিনই এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে অপরাধ ও সমাজ বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবেই তরুণদের মধ্যে এ প্রবণতা বাড়ছে। বিভিন্ন ধরনের শব্দ তৈরির প্রতিযোগিতায় তারা জড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর আইন প্রয়োগের আহবান জানান।