Image description

গাজীপুরের শ্রীপুরে অস্ত্র ঠেকিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে বাড়ির লোকজনদের জিম্মি করে এক ছাত্রীকে অপহরণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া পরিবারের সদস্যদের মারধর করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, একই এলাকার সুরুজ মিয়ার পুত্র আবিদ (২১) দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্ত্যক্ত করছিল এবং বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিত। পরিবার থেকে একাধিকবার নিষেধ করা সত্যেও সে তা না মেনে একপর্যায়ে ইমাম পরিবারকে হুমকি ও তার মেয়েকে অপহরণের হুমকিও দেয়।

গত ১৪ এপ্রিল সকাল ৮টার সময় ইমামের মেয়ে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে মাওনা ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছলে আবিদ ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের চাপের মুখে পরদিন ১৫ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে একই দিন বেলা ১১টার দিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশে বসলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এ সময় আবিদ ও সুমিতসহ প্রায় ১০ জনের একটি দল এবং আরও ২৫ থেকে ৩০ জন অচেনা ব্যক্তি ধারাল অস্ত্র নিয়ে হাদিউল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘরের দরজা ভেঙে ওই মেয়েকে টেনে-হেঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায় এবং অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে কল করা হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যায়।

অপহরণের শিকার এক কিশোরীর বাবা হাদিউল ইসলাম গণমাধ্যমকে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, পৃথিবীর বুকে আমি একমাত্র বাবা। কত ছিলাম, কত কিছু হয়েছে এরকম ঘটনা কখনো হয়নি। এখানে থেকে পিস্তল বের করেছে, ভিডিও করেছে। তখন আমার শ্বশুরও ছিল, আমাকে ঘরের ভেতরে টেনে নিয়ে গেছে। আমার মেয়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলছে, ‘বাবা আমাকে হেফাজত করো।’ আবিদ আর সুমিত এই দুইজন আমার গলার এই জায়গায় পিস্তল ঠেকিয়ে বলে, ‘চুপ থাক, নইলে গুলি করে মেরে ফেলবো।’ আমার মেয়েটা বলে, ‘বাবা আমাকে বাঁচাও।’ আমার মেয়ে দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলছে, আব্বু আমাকে জোর করে অস্ত্রের মুখে নিয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, ওরা ব্লেড এবং খুরও দেখিয়েছে আমার মেয়ের সামনে। আমার মেয়েকে নিয়ে গেছে সুমিত আর আবিদ এই দুইজন। আবিদের বাবার নাম সুরুজ। এইখানে আমার বাসার সামনে তাদের একটা দোকান ছিল। আমার মেয়ে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে এলাকাবাসী ও চাচার মাধ্যমে আমি আমার মেয়েকে উদ্ধার করি।

হাদিউল ইসলাম বলেন, আমি একজন ইমাম, আমি চাইছিলাম বিষয়টা এখানেই শেষ করতে। আমি বলছিলাম, যা হয়েছে হয়েছে, আর বাড়াবাড়ি করার দরকার নাই। আমার মেয়েকে দিয়ে দেন। পরে যখন মেয়েকে নিয়ে আসে, আমার মেয়ে আবার দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে, আব্বু আমাকে জোর করে অস্ত্রের মুখে নিয়ে গেছে।

তিনি জানান, পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ঘটনাটি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় এক মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও বিল্লাল হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতাসহ অনেকে ছিল। তারা জিজ্ঞেস করেছিল, প্রেমের সম্পর্ক ছিল কি না আমার মেয়ে বলেছে, কোনো সম্পর্ক ছিল না। আমি বলেছি, যা হয়েছে হয়েছে, আমি এই বিষয় আর বাড়াতে চাই না।

ওই ইমাম বলেন, পরে যখন সবাই মেয়েকে বুঝিয়ে দিয়ে চলে যায়, আমি নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন আবার দরজা-জানালায় আক্রমণ শুরু করে। পরে আমি শাহজাহান সজল ভাই, খন্দকার বাবুল ভাই, হাজী বিল্লাল হোসেনসহ আরও কয়েকজনকে ডাকি। আমি তাদের বলি, ভাই যা হয়েছে হয়েছে, আমাকে ইজ্জতটা ভিক্ষা দেন।

হাদিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তারা বলে আপনার জীবন বিপন্ন হবে, ৯৯৯-এ ফোন দেন। আমি ফোন দিই, ফোন দেওয়ার পর আবার আমার বাড়িতে আক্রমণ শুরু হয়। আমি গেটে তালা দিই, পরে ডাবল তালাও দিই। তখন আমি ভিডিও করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তখন সুরুজ দাঁড়িয়ে বলে গুলি কর। সুমিত দৌড়ে আসে, আর আমাকে আবার পিস্তল দেখায়। আমার শ্বশুর আমাকে ঘরের ভেতরে টেনে নেয়। আমি ঘরের ভেতরে ঢুকে আত্মরক্ষার চেষ্টা করি। কিন্তু তারা বাইরে থেকে সাবল, হাতুড়ি দিয়ে দরজায় আঘাত করতে থাকে। পরে দরজা ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে।”

তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে আমার মেয়ে এসে আমাকে আবার জড়িয়ে ধরে বলে, বাবা আমাকে হেফাজত করো। আবিদ আর সুমিত আবারও পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দেয়, গুলি করে মেরে ফেলবে বলে। আমি এই ঘটনার জীবন্ত সাক্ষী। প্রায় ৪০-৪৫ মিনিট ধরে এই ঘটনা ঘটে। পরে কয়েকশ মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।