Image description

দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হওয়ার পাঁচ দিন পর দেশে এসেছে সোহান হোসেনের (১৮) লাশ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের চিকনমাটি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায় তাঁর কফিনবন্দী লাশ।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে জোহানেসবার্গের কেতলেহং এলাকায় নিজ কর্মস্থলে নিহত হন সোহান। তাঁর মৃত্যুর খবর শুনে একপলকের জন্য ছেলের মুখ দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন মা শাহিনুর আকতার।

সোহানের লাশ দেশে আনার আকুতি জানিয়ে শাহিনুর আকতার আগেই বলেছিলেন, শেষবারের মতো ছেলের মুখ দেখতে চান, নিজ হাতে শেষ গোসল করাতে চান।

গতকাল বিকেলে কফিনবন্দী লাশটি পৌঁছানোর পর স্বজনদের সহায়তায় শাহিনুরকে সেখানে নেওয়া হয়। নির্বাক হয়ে তিনি কিছুক্ষণ ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠেন, ‘বাবা, অ্যালাও ঘুমাছিস? ওঠেক!’ এর একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েক দিন ধরে ছেলের লাশের অপেক্ষায় ছিলেন শাহিনুর। না খেয়ে ও না ঘুমিয়ে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন।

চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি পরিবারের সচ্ছলতার আশায় দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিলেন সোহান। সেখানে জোহানেসবার্গের অদূরে কেতলেহং এলাকায় তাঁর চাচা সিরাজুল ইসলামের মুদিদোকানে কাজ নেন। গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে দোকান বন্ধের প্রস্তুতির সময় দুর্বৃত্তরা এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন সোহান।

ঘটনার পরদিন দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রাশেদ নামে এক স্বজন ফোন করে প্রথমে জানান, সোহান হাসপাতালে আছেন। পরে অন্য এক প্রবাসীর মাধ্যমে পরিবার নিশ্চিত হয়, সোহান আর বেঁচে নেই।

গত রোববার দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় দিকে মরদেহটি তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তোলা হয়। গতকাল ভোরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে বিকেল চারটার দিকে সোহানের লাশ নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। বিকেলে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় জানাজা শেষে সাড়ে পাঁচটার দিকে বাড়ির পাশের কবরস্থানে দাফন করা হয়।

সোহানের চাচা মো. মানিক বলেন, পরিবারের সবাই চেয়েছিলেন সোহান লেখাপড়া চালিয়ে যাক। কিন্তু তিনি বিদেশে যেতে অনড় ছিলেন। পরিবারের জন্য উপার্জনের স্বপ্ন নিয়ে গেলেও সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তাঁর ভাষ্য, ‘সোহান টাকা পাঠাতে পারেনি, এতে আমাদের কষ্ট নেই। যদি বেঁচে ফিরত, সেটাই হতো সবচেয়ে বড় পাওয়া।’

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তায় দ্রুত লাশটি দেশে আনা সম্ভব হয়েছে জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানায় পরিবারটি।

এভাবে ছেলেকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন সোহানের বাবা দুলাল হোসেনও। তবু বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে বলেন, ‘ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না। শেষবারের মতো তার মুখটা দেখতে পেরেছি, এতেই আমাদের শান্তি।’