Image description

‘স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে তরুণীর বাড়িতে যুবকের অনশন’ শিরোনামে এশিয়া পোস্টে সংবাদ প্রকাশের পর থেকে টনক নড়ে প্রশাসন ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে। পরে তাদের সহযোগিতায় অনশনরত স্বামী বিশ্বজিৎ পাত্রের ঘরে ফিরলেন স্ত্রী অনুশীলা বাড়ৈ।

 

রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অনশনরত স্বামী বিশ্বজিৎ পাত্র। এর আগে, গত চার দিন ধরে স্ত্রীর বাড়িতে অনশন করছিলেন তিনি। অনশনরত বিশ্বজিৎ পাত্র নবগ্রাম এলাকার বিপ্রদাস পাত্রের ছেলে।

 

জানা গেছে, দুজনই একই গ্রামের বাসিন্দা। ২০১২ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। একে অপরকে খুদেবার্তা পাঠানোর একপর্যায়ে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। একই বছর তারা আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন। এদিকে অনুশীলার নার্সিং পড়া শেষ হলে চাকরি পান ঢাকার একটি হাসপাতালে। ঢাকায় যাওয়ার পর স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন অনুশীলা। এরইপ্রেক্ষিতে গত বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে প্রেমিকার বাড়িতে বিয়ে ও স্বামীর স্বীকৃতি দাবিতে অনশনে বসেন বিশ্বজিৎ।

 

সেসময় বিশ্বজিৎ বলেন, অনুশীলার পড়াশোনার পেছনে আমি ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছি। আমরা কোর্ট ম্যারেজ করেছি। সে চাকরি পেয়ে আমাকে ভুলে গেল। সে তো আমার বিয়ে করা স্ত্রী। তাই আমি স্বামীর স্বীকৃতি পেতে আমার স্ত্রীর বাড়িতে এসেছি। আমি তাকে না নিয়ে এখান থেকে যাব না।

এদিকে স্ত্রীকে ফিরে পেয়ে বিশ্বজিৎ পাত্র এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘বিষয়টি দুই পরিবার মিলে স্থানীয়দের নিয়ে পারিবারিকভাবে মীমাংসায় বসেন। এরপরই আমার স্ত্রী নিজের ভুল বুঝতে পারে। স্ত্রীকে নিয়ে ঘরে ফিরতে পেরেছি, এটাই আমার বড় পাওয়া। ওকে আমি অনেক ভালোবাসি। আমাদের এই ভালোবাসার বন্ধন যাতে সামনে অটুট থাকে সেই আশীর্বাদ করবেন সবাই।’

 

স্ত্রী অনুশীলা বাড়ৈ বলেন, ‘আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। সবাই মিলে বসে ব্যাপারটি সুন্দরভাবে সমাধান করে দিয়েছে।’

 

এ বিষয় অনুশীলা বাড়ৈ বাবা মনোতোস বাড়ৈ বলেন, ‘আমরা আমাদের ভুল বুঝতে পেরেছি। তাই আমরা সামাজিকভাবে দুই পরিবার এক হয়েছি।’

 

এ বিষয়ে ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘নবগ্রাম এলাকায় এমন একটি চাঞ্চল্য ঘটনায় স্থানীয়ভাবে দুই পরিবার তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে। এখন বিষয়টি সমাধান হয়েছে।’