রাঙামাটিতে কৃষকদের ভোগান্তি লাঘব ও কৃষিকাজ সচল রাখার জন্য কৃষি কার্ডের মাধ্যমে ডিজেল বিক্রি শুরু হয়েছে। অপরদিকে পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর জ্বালানি পাওয়ায় চালু হয়েছে যাত্রীবাহী স্পিটবোট সার্ভিস।
রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে শহরের চারটি পাম্পের মধ্যে তিনটিতে রুটিন অনুযায়ী ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। তবে সময় বেঁধে দেওয়ার ফলে অনেককেই দীর্ঘক্ষণ লাইনে থেকেও তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন সপ্তাহে তিন দিন ডিজেল ও তিন দিন অকটেন দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এতে পাম্পগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরলেও সময় বেঁধে দেওয়া অনেক কৃষককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। তেল না পেয়ে পাম্পের বাইরে হতাশা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে কৃষক ও পন্য পরিবহন করা গাড়ির চালকদের।
জ্বালানি তেল নিতে আসা কৃষক সোহেল চাকমা বলেন, প্রকৃত চাষিদের যাচাই-বাছাই করে তেল দেওয়া হোক এবং সেটা যতক্ষণ লাগে ততক্ষণ দিতে হবে। সময় বেধে দেওয়ার কারণে পাম্পে তেল থাকলেও পাম্পগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে। এতে দুর্গম এলাকা থেকে আসা কৃষকরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
আরেক কৃষক মঙ্গল কুমা চাকমা বলেন, আগে প্রতিদিন জমিতে পানি দিতে পারলেও তেলের অভাবে এক দিন বা দুদিন পর পর পানি দিতে হচ্ছে। বৃষ্টি না থাকায় জমির মাটি ফেটে গিয়ে ধানের গাছ মরে যাচ্ছে। সময় বাড়িয়ে দিলে আমাদের সুবিধা হতো।
এদিকে তেল পাওয়ায় পাঁচ দিন পর চালু হয়েছে যাত্রীবাহী স্পিডবোট সার্ভিস। যাত্রীবাহী স্পিটবোটের লাইনম্যান মো. মহি উদ্দিন বলেন, জ্বালানির অভাবে পাঁচ দিন যাত্রীবাহী স্পিডবোট সার্ভিস বন্ধ ছিল। তেল পাওয়া আজ সকাল থেকে আবারও চালু করা হয়েছে। যত দিন তেল থাকবে, তত দিন চলবে।
ফিলিং স্টেশনের ট্যাগ অফিসার কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক অরুন চন্দ্র রায় বলেন, কৃষি কার্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত কৃষকদের বাছাই করা সহজ হয়েছে। বোরো চাষাবাদ যাতে ব্যাহত না হয়, সেটি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।