পাবনার বেড়া উপজেলার ২৫ চরের মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স এখন অযত্নে ,অবহেলায় অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে জনসেবার জন্য আনা এ ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স এখন ধ্বংসের পথে । মানুষের কোনো কাজে আসেনি । এটি উদ্ধার করে রক্ষণাবেক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।
জানা গেছে, পাবনার বেড়া উপজেলার পদ্মা-যমুনা নদীবেষ্টিত অন্তত ১০ চরের হাজারো মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে ২০১৩ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করা হয় বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় রোগী পরিবহন দূরের কথা, সেটির ইঞ্জিনসহ যাবতীয় সরঞ্জাম উধাও করে ফেলেছে একটি চক্র ।
জানা যায়, বেড়া উপজেলার অন্তত ২৫ চরের হাজার হাজার মানুষের চিকিৎসাসেবার বঞ্চনার কথা বিবেচনা করে ২০১৩ সালে কেন্দ্রীয় ঔষধানাগার, ঢাকা থেকে একটি ওয়ান বেড ক্লিনিক বোট বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য বরাদ্দ করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কথা ছিল এ বোটের মাধ্যমে প্রসূতি মাসহ জরুরি ও মুমূর্ষু রোগী পরিবহন করে জীবন রক্ষায় কার্যকারী ভূমিকা রাখবে।
চর আকবাকসোয়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক আমোদ আলী জানান, চরের মানুষের আশার সঞ্চার হয়েছিল এ ওয়াটার বোট ঘিরে। তারা মনে করেছিলেন মুমূর্ষু রোগিরা এ বোটের মাধ্যমে দ্রুত উপজেলার হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে গিয়ে জরুরি সেবা নিয়ে জীবন রক্ষা করতে পারবেন। তবে যে বাহনের ওপর মানুষ স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই বাহন জন্মের পর থেকে হাসপাতালের আঙ্গিনায় রোগী হয়ে পড়ে থাকায় তারা হতাশ হয়েছেন। চরের মানুষের চোখে কর্তব্য অবহেলা ও বিগত সরকারের স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির সামান্য উদাহরণ এ ওয়াটার বোট।
একদিকে চর সারাশিয়া, চর নাগদা, চরনাকালিয়াসহ বিস্তীর্ণ চরের হাজারো মানুষ দাবি বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে হবে।
এদিকে ২০১৭ সালে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আইয়ুব হোসেন বোট জনসেবায় সংযুক্ত করতে না পেরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়ে তিনি বোট প্রত্যারের দাবি জানান। তবে সে সময় সেটি প্রত্যাহার করা হয়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাহমিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘অনেক আগে এ ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে আমি বিস্তারিত জানি না। তখন যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা ভালো বলতে পারবেন। তার কাছে ইঞ্জিন ও অন্যান্য উপকরণের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্যও নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনাল্ট চাকমা বলেন, “চরাঞ্চলের মানুষের জন্য ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কেন এটি দীর্ঘদিন অকার্যকর রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।