Image description

আওয়ামী লীগ অ্যাক্টিভিস্ট এবং সাবেক অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে দাবি করেছেন, “(হামের উপসর্গে) ৩৫০ শিশুর মৃত্যুকে কি বিএনপি গণহত্যা বলবে না?”

তিনি বলেন, “৩৫০ শিশু যদি মৃত্যুবরণ করে থাকে সেটি কি গণহত্যার পর্যায়ে পড়ছে না? এই হত্যাকাণ্ডের কি বিচার করা টা এখন বিএনপির জন্য নৈতিক দায়িত্ব না? না কি বিএনপি সেই জায়গা থেকে সরে যাবে? তাহলে আমরা কি ধরে নেব যে তারা আসলে নিজেরা নিজেরাই সবকিছু করছে বা করবে ভবিষ্যতে?”

এছাড়াও, অন্য একটি পোস্টে রোকেয়া প্রাচী বলেন, “শেখ হাসিনার সময় তো হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশু মৃত্যুবরণ করেনি।”

তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, দাবি দুটি সঠিক নয়। হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৫০ জন মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়াও শেখ হাসিনার শাসনামলে হামে মৃত্যু হয়নি- এমন দাবিও সত্য নয়। 

প্রথম দাবির বিষয়ে যাচাইয়ে দেখা যায়,  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৩ এপ্রিল দেওয়া সর্বশেষ প্রেস রিলিজে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত গত ১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ দাবিতে উল্লেখ করা “৩৫০ শিশু মৃত্যুর” তথ্যটির সঙ্গে সরকারি তথ্যের মিল পাওয়া যায় না।

সংবাদমাধ্যমেও সাম্প্রতিক সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪ জন শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়।

এছাড়াও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাতে দেওয়া প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে গত দুই বছরে শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের ক্ষেত্রে যে ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তার ফলে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে, যা শিশু মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

রোকেয়া প্রাচীর দ্বিতীয় দাবিটিও সত্য নয়। সম্পর্কিত কী-ওয়ার্ড সার্চ করে শেখ হাসিনার শাসনামলে হামে মৃত্যুর একাধিক প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৭ সালে ১ জানুয়ারি থেকে ২১ মে পর্যন্ত ৪৬৫ জন হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। এদের মধ্যে সব বয়সের রোগী রয়েছে। এর মধ্যে ওই হাসপাতালে ১০টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়াও, যুগান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের মার্চে এক সপ্তাহের মধ্যে রাঙ্গামাটিতে হামে ৫ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

অর্থাৎ, “(হামের উপসর্গে) ৩৫০ শিশুর মৃত্যু” এবং “শেখ হাসিনার সময়ে হামে কোনো শিশু মারা যায়নি”, দুটি দাবির কোনোটিই সঠিক নয়, ফলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো এই দাবিগুলো বিভ্রান্তিকর।