ময়মনসিংহের ফুলপুরে ১৩ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মো. রুবেল মিয়া (৪০)। মামলার রুজুর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গত ৩১ মার্চ রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, নিহত ওই স্কুলছাত্রী তার বাবা-মা ও দাদীর সাথে ফুলপুর এলাকায় নিজ বাড়িতে বসবাস করত। অভিযুক্ত রুবেল মিয়া তাদের প্রতিবেশী। গত ২৯ মার্চ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ভিকটিম বাড়ি থেকে বাইরে যায়। বাড়ি ফিরে সে ঘরের ভেতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার দাদী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন ভিকটিম জানায়, প্রতিবেশী রুবেল মিয়া তাকে ফুসলিয়ে ধর্ষণ করেছে এবং এই লোকলজ্জার ভয়ে সে রুবেল মিয়ার বাড়ি থেকেই কীটনাশক খেয়ে এসেছে।
ভিকটিমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ মার্চ ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে ফুলপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১১, তারিখ: ৩০ মার্চ ২০২৬)।
ঘটনার পর থেকেই ছায়াতদন্ত শুরু করে র্যাব-১৪। পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৩১ মার্চ রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ফুলপুরের রামভদ্রপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান ও একমাত্র আসামি রুবেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে ফুলপুর থানার বড় শুনই এলাকার বাসিন্দা।
অন্যদিকে র্যাব-১৪ এর অপর একটি আভিযানিক দল গত ১ এপ্রিল ভোর রাত সোয়া ৩টার দিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার উচাখিলা বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে ত্রিশাল থানার একটি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী (১৬) কিশোরী ধর্ষণ মামলার প্রধান এবং একমাত্র অভিযুক্ত মো. কলিম উদ্দিন ওরফে কলম উদ্দিন (৫৮)-কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় তারা। ধৃত কলিম উদ্দিন ত্রিশাল থানার ধলাইমান এলাকার বাসিন্দা।
উভয় ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।