Image description

গত ২৫ মার্চ রাতের প্রজ্ঞাপন মূলে নতুন করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ৯ জন সচিব নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তন্মধ্যে ৮ জন নিয়মিত বিভিন্ন ব্যাচের সদস্য ও বাকি ১ জন হলেন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত ৭ম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। ৮ জনের মধ্যে ২ জন হলেন ইকোনমিক ক্যাডার থেকে আগত ও অন্য ৬ জন প্রশাসন ক্যাডারের নিয়মিত সদস্য। এছাড়া ৩ জন সচিবের দপ্তর পুনর্বন্টন করা হয়েছে। নবগঠিত বিএনপি সরকারের আমলে এটি প্রথম বড় নিয়োগ ও পদোন্নতি।

কিন্তু এই নিয়োগ ও পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনে ব্যাপক অসন্তোষ ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। এতো বেশি সমালোচনা ও বিতর্ক হয়েছে যে, পরবর্তী কার্যদিবসেই ২৯ মার্চ (মাঝে ৩দিন বন্ধ ছিল) তিনজন সচিবের বদলির আদেশ স্থগিত করতে হয়েছে। এবং দুইজন সচিবের দপ্তর পুনর্বণ্টন করতে হয়েছে।

জানা গেছে, বিগত সময়ে পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন এ রকমের অন্ততঃ ৫২ জনের পদোন্নতির প্রস্তাব উঠেছিল এসএসবিতে। এই কর্মকর্তাদের কারো বিরুদ্ধেই সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই, যে কারণে পদোন্নতি থেকে বাদ পড়তে পারেন। কিন্তু দেখা গেলো, পদোন্নতির যোগ্য বিগত সময়ে বঞ্চিত এই কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে মাত্র দু’জনকে সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। একজন ১১তম ব্যাচের এবং অন্যজন ১৫তম ব্যাচের। ১৫তম ব্যাচের অন্য আরেকজন কর্মকর্তা সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। তবে তিনি ইকোনোমিক ক্যাডারের, অর্থাৎ বঞ্চিত নন। তাঁর পরে ইকোনোমিক ক্যাডারের আর কেউ পদোন্নতি পাননি এখন পর্যন্ত।

এটা খুব স্বাভাবিক যে, আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপি এবং জামায়াত চিহ্নিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে তাদের অনেককে পদোন্নতি বঞ্চিত করা হয়েছে। দফায় দফায় বাদ পড়ার পর একটি বা দু’টি পদোন্নতি পেয়েছেন। আবার এমনও আছেন, আওয়ামী লীগের পুরো ১৬ বছরে একটিও পদোন্নতি পাননি। এবং প্রায় পুরো আমলটাই ওএসডি অথবা ডাম্পিং পদায়নে ছিলেন। এদের মধ্য থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শুধুমাত্র জামায়াত চিহ্নিত কর্মকর্তারাই সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। বিএনপিপন্থি হাতে গোনা মাত্র ৪/৫ জন কর্মকর্তা সচিব হতে পেরেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে। ফলে এই বঞ্চিত কর্মকর্তারা আশা করছিলেন, নতুন বিএনপি সরকার তাদের ন্যায্য প্রাপ্য পদোন্নতির অধিকার পূরণ করবে, ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সেটি তো হয়ইনি এমনকি চুক্তিভিত্তিক ১ জন সহ সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়া ৯ জন কর্মকর্তার মধ্যে ৭ জনই আওয়ামী লীগ ও জামায়াত ঘরানার। অর্থাৎ ‘লেফট আউট’ বাদে যে ৭ জন কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়েছেন এদের মধ্যে একজনও বিএনপি আদর্শের নন। আগের বঞ্চিত কর্মকর্তারা তো রয়েছেনই নতুন করে আরও একাধিক বিএনপিপন্থি কর্মকর্তা বঞ্চিতের কাতারে সামিল হয়েছেন। যা প্রশাসনসংশ্লিষ্ট সবাইকে অবাক করেছে। প্রশ্ন এসেছে, সরকারে কি এখন বিএনপি আছে নাকি অন্য কেউ? বিগত সময়ে বৈষম্যের শিকার এবং ফ্যাসিস্ট বিরোধী কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন হবে কবে?

গত ২৫ মার্চ রাতে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পুনর্বন্টনকৃতদের মধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে নিয়ামত উল্ল্যাহ ভূঁইয়াকে এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে নাসরিন জাহানকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। বেগম কানিজ মাওলাকে সংসদ বিষয়ক সচিবালয় থেকে সরিয়ে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব পদে পদায়ন করা হয়েছে। হাসিনা সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত ৫ জন সচিবকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ৯ জন সচিবের মধ্যে ১১তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেনকে মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে এবং ১৫তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব করা হয়েছে। এরা দু’জন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে, এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও চরমভাবে বঞ্চিত। মিজ ফাহমিদা আখতার এনডিসি মূলতঃ ১৫তম ব্যাচের ইকোনমিক ক্যাডারের সদস্য। তাকে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে এবং ১৭তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা যথাক্রমে কাজী আনোয়ার হোসেনকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, জাকারিয়াকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, মোহা. রায়হান কাওছারকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, মো. মোখতার আহমেদকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মিজ ইয়াসমীন পারভীন, এনডিসিকে সচিব পদে পদোন্নতি সাপেক্ষে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। মিজ ইয়াসমীন পারভীনও মূলতঃ ১৭তম ব্যাচের ইকোনমিক ক্যাডারের সদস্য। এছাড়া এস.এম. এবাদুর রহমানকে ১ বছরের চুক্তিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব করা হয়েছে। তিনি মূলতঃ ৭ম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের সদস্য।

বিভিন্ন ব্যাচের অফিসারদের ও প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ৯ জন সচিবের মধ্যে ১ জন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত ছাড়া বাকি ৮ জনের মধ্যে ২ জনই ইকোনমিক ক্যাডারের সদস্য, অর্থাৎ ৬ জন মাত্র প্রশাসন ক্যাডার থেকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যা মোটেই সমীচীন হয়নি। এবং একে নজিরবিহীনও বলা চলে। কারণ, ইতিপূর্বে ইকোনমিক ক্যাডার থেকে এইভাবে দেদারসে সচিব করা হয়নি। এই প্রথম ৮ জন সচিবের মধ্যে ২ জনই ইকোনমিক ক্যাডার থেকে আগত। বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রণালয়/বিভাগে ইকোনমিক ক্যাডারের সদস্যরা সাধারণত নির্দিষ্ট প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কাজে পারদর্শী হন এবং সারাজীবন তারা প্রকল্প বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন কাজে ব্যাপৃত থাকেন। ইকোনমিক ক্যাডারের কর্মকর্তারা মূলতঃ একটা মন্ত্রণালয় বা বিভাগে সচিব, অতিরিক্ত সচিবদের সহায়ক শক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যেহেতু তাদের মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও ধারণা নেই তাই তাদেরকে ইতোপূর্বে কখনোই এভাবে সচিব হিসেবে পদোন্নতি ও পদায়ন করা হয়নি।

অভিজ্ঞ মহলের মতে, শুধুমাত্র একটা নির্দিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা দিয়ে বিশাল একটা মন্ত্রণালয়/বিভাগের সার্বিক দায়িত্ব পালন তাদের পক্ষে কতটুকু সম্ভব সে বিষয়টি গভীরভাবে ভাববার অবকাশ রয়েছে। মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবদের কাজ শুধু পলিসি মেকিং, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তাদেরকে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকসহ প্রশাসনিক বিভিন্ন উইংয়ের কর্তব্য-কর্ম যোগ্যতা ও দক্ষতার সাথে পরিচালনা ও সমন্বয় সাধন করতে হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ, মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সাথে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নেতৃত্ব দিতে হয়। এসব বিবেচনায় অতীতে ইকোনমিক ক্যাডার থেকে সচিব পদে নিয়োগের রেওয়াজ তেমন একটা নেই বললেই চলে। অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো দেড় বছরে ইকোনমিক ক্যাডারের মাত্র দু’জনকে সচিব করা হয়েছে। এদের একজন হলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এস এম শাকিল আখতার, তাকে কাজের ধরন অনুযায়ীই পদায়ন দেওয়া হয়েছে। অন্যজন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এই মন্ত্রণালয়টির কার্যক্রম নির্দিষ্ট একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ। আওয়ামী লীগের পুরো আমলে ইকোনমিক ক্যাডারের মাত্র একজনকে সচিব করা হয়েছে। তিনি হলেন প্রভাবশালী কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর (বর্তমানে কারাগারে) ছোটভাই আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী। তিনি মূলতঃ কামাল চৌধুরীর প্রভাবেই সচিব হতে পেরেছিলেন।

ইকোনমিক ক্যাডার থেকে আগত এখন যে দু’জনকে সচিব করা হয়েছে তারা হলেন মিজ ফাহমিদা আখতার এনডিসি ও মিজ ইয়াসমীন পারভীন, এনডিসি। এরা ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে প্রত্যেকে নিয়মিত পদোন্নতি পেয়ে সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। এমনকি সারা জীবন ঢাকা শহরে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়/ বিভাগে চাকরি করার অবারিত সুযোগ পেয়েছেন। আবার এখন তাদেরকে রাষ্ট্রীয় শীর্ষপদে আসীন করা হলো কার স্বার্থে, এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ও প্রশাসন যন্ত্রকে ভঙ্গুর অবস্থায় নিয়ে যেতে এ ধরণের কাজ হচ্ছে বলে অনেকের অভিমত।

অন্যদিকে ১৭তম ব্যাচের কাজী আনোয়ার হোসেন ও মোহা. রায়হান কাওছারকে সচিব পদে নিয়োগ দেয়া হলেও তাদের বিষয়ে সঠিকভাবে খোঁজ-খবর নেওয়া হয়নি, বলছেন সংশ্লিষ্টরা। এরা দু’জনই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। এমনকি এখনো তারা গুপ্তভাবে জামায়াত মতাদর্শিক কাজ করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরা দু’জন জামায়াতের রাজনীতি সংশ্লিষ্টতার কারণে ফ্যাসিস্ট আমলে পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন ঠিকই কিন্তু তারা কখনোই বিএনপি মতাদর্শী কর্মকর্তাদের পক্ষে ন্যায়তঃ কোন ভূমিকা রাখেননি। ৫ আগস্ট, ২০২৪ ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর জামায়াত মতাদর্শী কর্মকর্তারা অন্তর্বর্তী ইউনুস সরকারের ওপর প্রকাশ্য প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের সমস্ত স্বার্থ ও সুবিধা বাগিয়ে নিয়েছেন। জাতীয়তাবাদী মতাদর্শী কর্মকর্তাদের পক্ষে কোন সহযোগী ভূমিকা তো রাখেই নি, বরং পদোন্নতি-পদায়নের ক্ষেত্রে এরা বাধা দিয়েছেন। জামায়াত মতাদর্শী কর্মকর্তারা স্বৈরাচারের আজ্ঞাবাহী, দলদাস ও দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তাদের সাথে মিলেমিশে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছেন। আর বিএনপি মতাদর্শী কর্মকর্তাদের দূরে ঠেলে রেখেছেন।

১৭তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের সদস্য জনাব জাকারিয়াকে কোন বিবেচনায় সচিব করা হয়েছে, তা অনেকের কাছে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে! বিগত দিনে তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী ও আস্থাভাজন কর্মকর্তা হিসেবে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন। আলখেল্লা পরে এবং মাথায় টুপি রাখলেই যে ভাল বা নিরপেক্ষ মানুষ হয়ে গেল- এ কথা ভাববার কোন অবকাশ নেই। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৭ সাল থেকে ২০১৯ এর মার্চ পর্যন্ত জনাব জাকারিয়া স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক হিসেবে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে দায়িত্বরত ছিলেন। ওই সময় পর্যায়ক্রমে সিলেট বিভাগের কমিশনার ছিলেন নাজমান আরা বেগম ও মেজবাহ উদ্দিন। এই জাকারিয়া তখন বিভাগের বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানের কার্যক্রমে সামনের কাতারে দাঁড়িয়ে ‘জয়বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে বিভাগীয় কমিশনারসহ সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করতেন এবং নিজেকে তিনি আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ একজন কর্মী হিসেবে জাহির করতেন। আওয়ামী লীগ আমলে তার পদোন্নতি প্রাপ্তিতে কোন অসুবিধা হয়নি। ওই সময়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে যুগ্মসচিব ও অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। অথচ বিএনপি সরকারের এই সময়ে তাঁর মতো আওয়ামী লীগারকে সচিব হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হলো। কার ইঙ্গিতে বা ইশারায় এ ধরণের অপকর্ম সংঘটিত হচ্ছে, এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এস.এম. এবাদুর রহমানকে ১ বছরের চুক্তিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি মূলত ৭ম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। চাকরির প্রথম থেকেই তিনি মানসিকভাবে আওয়ামী মতাদর্শী। লেখাপড়ায় ভাল হলেও কখনোই চেতনার বাইরে যাননি, জাতীয়তাবাদী আদর্শকে তো নয়ই। দীর্ঘ স্বৈরশাসন আমলে তিনি যথারীতি পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত সচিব পর্যন্ত হয়েছেন। পরবর্তীতে নিজেদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে সচিব হতে না পেরে চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে (এডিবি) চাকরি নিয়েছেন। এডিবিতে চাকরিরত অবস্থায় এখন চুক্তিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব বনে গেলেন! কী তাজ্জবের ব্যাপার! এবাদুর রহমানের নিয়োগের ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন সামনে আসছে, কার বদন্যতায় তাঁর এই পদোন্নতি ও উত্থান তা কি সরকার প্রধান জানেন? জানা গেছে, বর্তমান সরকার শপথ গ্রহণের আগেই তার নামে গোয়েন্দা রিপোর্ট আনা হয়েছিল। তবে তিন কার ক্যান্ডিডেট? আওয়ামী লীগ আমলের ১৬ বছরে তাঁর ভূমিকা কী ছিল? আওয়ামী সরকার পতনের এই আন্দোলনে তাঁর মানসিক বা শারীরিক কোনো প্রভাব ছিল কিনা তা কোনো গোয়েন্দা সংস্থারও জানা নেই। অথচ তিনি গুরুত্বপূর্ণ ইআরডি সচিব বনে গেলেন! অর্থাৎ তাঁর ক্ষেত্রে এটাই প্রমাণিত হলো যে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ‘তিনি এলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন’। যথারীতি নিজের স্বার্থ হাসিল করে নিলেন।

বঞ্চিত কর্মকর্তারা এসব অনিয়মের বিষয়ে জনপ্রশাসন সচিব মো. এহছানুল হকের সঙ্গে সাক্ষাত করে তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলেন। তিনি এক কথায় জবাব দিয়েছেন- উপর থেকে ‘অহি’ নাজিল হয়েছে। সেই অনুযায়ীই নাকি তিনি পদোন্নতির প্রস্তাব পাঠিয়েছেন এবং পদোন্নতি দিয়েছেন!

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার পরিবর্তন হলেও ইনসার্ভিস ও আউট সার্ভিসের যেসকল কর্মকর্তা ১৭ বছর ধরেই যেভাবে পদোন্নতি-পদায়নে বঞ্চিত ছিলেন, স্বৈরাচার বিরোধী সংগ্রাম করলেন, যারা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে উৎপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন- তারা এখনও একইভাবে নানা অযুহাতে উৎপীড়ন ও নির্যাতনের পর্যায়ে রয়ে গেলেন। কোন মানুষই ত্রুটি-বিচ্যুতির বাইরে নয়। বরং তাদের সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতির কথা না ভেবে তাদের অবদান, যোগ্যতা ও বঞ্চনার কথা বিবেচনা করে এদের মধ্য থেকে সচিব হিসেবে পদায়নযোগ্য অনেক কর্মকর্তা রয়ে গেছেন, যারা মতাদর্শগতভাবে জাতীয়তাবাদী চেতনার এবং কাজে কর্মে সৎ, দক্ষ ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে সক্ষম এবং পক্ষান্তরে বিদ্বানও বটে। তবে বর্তমান সরকারের আমলে এদের নিয়োগের এই কাজটি সুচারুরূপে কে সাধন করবেন বা বিড়ালের ঘন্টা বাঁধবেন কে- সেটাই এখন প্রশ্ন!

শীর্ষনিউজ