রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ দিয়ে বিভিন্ন উপজেলায় চলাচল করা যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো জ্বালানি সংকটে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়বে ৬ উপজেলার মানুষ।
রাঙামাটি জেলা লঞ্চ মালিক সমিতি বলছে, জেলা শহরের সঙ্গে বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি ও নানিয়ারচর উপজেলায় প্রায় ৩০-৩৫টি যাত্রীবাহী চলাচল লঞ্চ করে। এসব লঞ্চে দৈনিক ১ হাজার থেকে ১২’শ লিটার তেল লাগে। ঈদের আগে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও ঈদের পর থেকে পাম্পগুলো চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি দিচ্ছে না। এতে লঞ্চ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন মালিকরা।
লঞ্চ মালিকরা বলছেন, তেল সরবরাহ করা না হলে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা ছাড়া উপায় থাকবে না।
রাঙামাটির রিজার্ভবাজার লঞ্চঘাটের লাইনম্যান বিশ্বজিৎ দে বলেন, এক-দুই দিনের মধ্যে আমাদের তেল শেষ হয়ে যাবে। পরিস্থিতি খুব খারাপ। তেল না পেলে লঞ্চ চলানো যাবে না। সেক্ষেত্রে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়বে৷
বরকল উপজেলার বাসিন্দা সুপায়ন চাকমা বলেন, এখান থেকে জেলা সদরে যেতে হলে নৌপথে লঞ্চ ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। স্পিড বোটে করেও যাওয়া যায়; তবে ভাড়া অনেক বেশি। এখন লঞ্চ বন্ধ হলে দুই-তিন গুণ ভাড়া দিয়ে ছোট নৌযানে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হবে।
কাপ্তাই হ্রদ হয়ে গন্তব্যে যাচ্ছে একটি লঞ্চ। স্ট্রিম ছবি
জুরাছড়ি উপজেলার বাসিন্দা সুরেশ চাকমা বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পানি কমে গেলে এমনিতে নৌপথে চলাচল করতে অসুবিধা হয়। এখন তেল সংকটে লঞ্চ বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের কষ্ট বহুগুণ বেড়ে যাবে। বিশেষ করে জরুরি রোগী ও জরুরি অফিসের কাজগুলো জেলা শহরের গিয়ে করতে কষ্ট হয়ে পড়বে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল পরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিএ) রাঙামাটি জোনের চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন সেলিম বলেন, কাপ্তাই হ্রদে চলাচলকারী লঞ্চে রিজার্ভ বাজারের মেসার্স অনুকূল এন্টারপ্রাইজ থেকে তেল সরবরাহ করা হতো। তবে তারা জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে তেল দিতে পারবে না। আমাদের কাছে এক দিন চালানোর মতো তেল রয়েছে। জ্বালানি না পেলে বুধবার থেকে লঞ্চগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএর চট্টগ্রাম উপপরিচালককে জানানো হয়েছে।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, বিষয়টি দেখছি। লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে কথা বলে সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।