ফেসবুকে একটি ভিডিও ভিন্ন দুটি অসত্য দাবি সহকারে ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, “তারেক রহমানের কারণে দেশে তেল সংকট” বলে মন্তব্য করায় এক যুবককে ইলেক্ট্রিক শক দিয়ে নির্মম নির্যাতনের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে ভিডিওতে।
আবার অন্য কিছু পোস্টে একই ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, এটি কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদককে নির্যাতনের দৃশ্য।
দ্য ডিসেন্ট যাচাই করে দেখেছে, দাবি দুটির কোনটিই সত্য নয়।
প্রকৃতপক্ষে, এটি কুমিল্লার একটি মসজিদের ব্যাটারি চুরির অভিযোগে দুইজনকে মারধরের ভিডিও।
ভিডিওটির কী-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে দেখা যায়, ভিডিওটি ফেসবুকে প্রথম আপলোড পাওয়া যায় গত ২৭ মার্চ বিকাল ২টা ২৫ মিনিটে Mannan Khan 2.0 নামে একটি আইডি থেকে। ৫ মিনিট ৩১ সেকেন্ডের ভিডিওটির ক্যাপশন দেওয়া রয়েছে “মন শাসন পূর্বঘাট জামে মসজিদের ভিতর থেকে ব্যাটারি চুরি করে যাওয়ার সময় কট”।
এছাড়াও একইদিন কুমিল্লার স্থানীয় একটি নিউজ পেজ Cumilla24 tv-এ ভিডিওটি পোস্ট করে লেখা হয়েছে, “কুমিল্লায় মসজিদের ব্যাটারি চু'রি করতে গিয়ে বিপাকে দুই চো'র। শুক্রবার দুপুরে সদরের কালির বাজার ইউপির মনশাসন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।”
সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড সার্চ করে এই ঘটনা নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।
গত ২৭ মার্চ “চোর সন্দেহে ২ যুবককে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন” শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “কুমিল্লায় চোর সন্দেহে দুই যুবককে আটক করে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার সকালে কুমিল্লা সদর উপজেলার কোতোয়ালি থানাধীন কালীরবাজার ইউনিয়নের মনসাসন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।”
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, “মসজিদের ব্যাটারি চুরির চেষ্টা করার সময় ওই ২ যুবককে আটক করে এলাকাবাসী। আটকের পর নির্যাতনের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে গেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ২ যুবককে একটি পিলারের সঙ্গে বেঁধে স্টানগান দিয়ে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হচ্ছে। আর তাদের ঘিরে রেখেছে স্থানীয় জনগণ। গ্রামবাসীরা জানায়, তাদের একজনের নাম নাঈম (৩০)। অপরজনের পরিচয় জানা যায়নি। জানতে চাইলে স্থানীয় নাজিরাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক ফারুক হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'নির্যাতনের ভিডিওটি দেখার পর পুলিশ ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে এসেছি। এ সময় সেখানে শত শত লোকজন জড়ো হয়ে ওই দুই যুবকের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ তুলে ধরে।'”
ঘটনাটি সম্পর্কে আরো নিশ্চিত হওয়ার জন্য কালীরবাজার ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম সিআইপির সাথে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। একদিন পরে শুনেছি তাদেরকে মসজিদের ব্যাটারি চুরির অভিযোগে আটক করা হয়েছিলো”
তারেক রহমানের কারণে তেল সংকট বলায় কিংবা ছাত্রলীগ করার কারণে তাদের নির্যাতন করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “না না। এরকম কোনো ব্যাপার না। ওইযে বললাম ব্যাটারি চুরির অভিযোগে তাদের আটকে রাখা হয়েছিলো।”