জামালপুরে গরু চোর সন্দেহে এক যুবককে না পেয়ে তার বাবা-মাকে ধরে নিয়ে সালিশে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই অপমান ও নির্যাতন সইতে না পেরে গৃহবধূ আত্মহত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের খলিলহাটা এলাকা থেকে জোসনা বানু নামে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত জোসনা ওই এলাকার সুরুজ্জামানের স্ত্রী।
গ্রেপ্তার গোলাম কিবরিয়া মুক্তা (৩৫) এবং হৃদয় (২০) এ ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত ২টার দিকে খলিলহাটা এলাকায় পুলিশ সদস্য নায়েব আলীর বাড়িতে গরু চুরির চেষ্টা হয়। এ ঘটনার জেরে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ইউপি সদস্য নায়েব আলীর নেতৃত্বে কয়েকজন সুরুজ্জামানের বাড়িতে গিয়ে তার ছেলে সুজন মিয়াকে চোর সন্দেহে ধরতে যান। এ সময় তাকে না পেয়ে তার বাবা সুরুজ্জামান ও মা জোসনা বানুকে ধরে নিয়ে যায়।
পরে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বসে। সেখানে তোতা মিয়া ও সোহেল রানা নামে আরও দুজনকে চোর সন্দেহে ডেকে এনে মারধর করা হয়। এ সময় তাদের পরিবারের সদস্যদেরও মারধর করা হয়েছে। সালিশের মধ্যে এমন অপমান সহ্য করতে না পেরে বাড়ি ফিরে জোসনা আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।
স্থানীয় বাসিন্দা মুখলেস জানান, চুরির অভিযোগে ছেলেকে না পেয়ে মা-বাবাকে ধরে এনে মারধর করা হয়েছে। অপমান সইতে না পেরে ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুজন মিয়ার বাবা সুরুজ্জামান বলেন, নায়েব আলীদের সঙ্গে আমাদের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে, যা হাইকোর্টে বিচারাধীন। সে বিরোধের জেরে আমাদের চোর সাজিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। আমাকে ও আমার স্ত্রীকে মারধর করে ইউনিয়ন পরিষদে নেওয়া হয়। পরে জানতে পারি, আমার স্ত্রী মারা গেছেন।
জামালপুর সদর থানার ওসি কালবেলাকে বলেন, ছেলের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ এনে ছেলেকে না পেয়ে মা-বাবাকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। জোসনা নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে মুক্তা এবং হৃদয় নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এতে জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলেও জানান তিনি।