Image description

সাংবাদিকতা একটি আদর্শিক পেশা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেছেন, সাংবাদিকতা কেউ আদর্শের জন্য করেন, কেউ করেন আয়ের জন্য। বগুড়া প্রেসক্লাবে অনেককে দেখেছি মুদি দোকান, ব্যবসা করেন এমন ব্যক্তি সদস্য হয়েছেন। এখন এমন ব্যক্তি সদস্য হতে পারবে না।

 

সোমবার (২৩ মার্চ) বগুড়ায় সাংবাদিকতার একাল-সেকাল শীর্ষক এক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহরের পর্যটন মোটেলসংলগ্ন হোটেল নাজ গার্ডেনের একটি হলরুমে এই সভার আয়োজন করে ‘জেলার ৯০ দশকের সাংবাদিক সমাজ’। ​বগুড়ায় কর্মরত তরুণ সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন ও সাংবাদিকতার উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

 

​বক্তব্যে আতিকুর রহমান রুমন সাংবাদিকতার শুরুর সময়ের স্মৃতিচারণ করেন। তরুণ সাংবাদিকদের মাঝে নিজের অভিজ্ঞতার গল্প উল্লেখ করে বলেন, সাংবাদিকতার পেশা সবসময় চ্যালেঞ্জিং। এখন যতটা কঠিন তার চেয়ে আমাদের শুরুর সময় এই পেশা আরও কঠিন ছিল। এ পেশায় নানা রকম ঝুঁকি থাকে। তবে সেগুলো যেভাবে আসে, সেভাবেই সমাধান হয়ে যায়। সাংবাদিকতা একটি আদর্শিক পেশা। কেউ আদর্শের জন্য করেন, কেউ করেন আয়ের জন্য। আমাদের বগুড়া প্রেসক্লাবে অনেককে দেখেছি মুদি দোকান, ব্যবসা করেন এমন ব্যক্তি সদস্য হয়েছেন। এখন এমন ব্যক্তি সদস্য হতে পারবে না।

 

জেলায় সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন আছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমাদের আজিজুল হক কলেজে সাংবাদিকতার কোনো বিভাগ নেই। এখানে অনার্স কোর্স চালু করা সম্ভব। এটার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি বিষয়টি উত্থাপন করব। এর ফলে তরুণরা এ পেশায় দক্ষ হওয়ার সুযোগ পাবে। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বগুড়ার গুরুত্ব আগে থেকেই আছে। এখানে পিবিআইয়ের শাখা চালু করার দাবি জানানো হয়েছে। আমি ঢাকায় গিয়ে এ বিষয়ে কথা বলব।

 
 

 

​৯০ দশকের সাংবাদিক সমাজের আহ্বায়ক ও বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক লালু এবং বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু। তারা তাদের বক্তব্যে সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতা বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান জানান। এ ছাড়া গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা করেন তারা। প্রতিবেদনের সুপারিশ মালা প্রকাশ করার দাবি জানান।

 

​আলোচনা সভায় আমন্ত্রিত আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন গ্রাম উন্নয়ন কর্মের (গাক) নির্বাহী পরিচালক ড. খন্দকার আলমগীর হোসেন এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি প্রকৌশলী শাহাবুদ্দিন সৈকত। তারা সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় সাংবাদিকতার গুরুত্ব ও এ পেশায় দক্ষতা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করেন।

 

​সভায় বগুড়ায় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত অন্তত ৬০ জন তরুণ-প্রবীণ সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, নবীন ও প্রবীণ সাংবাদিকদের এই মেলবন্ধন বগুড়ার সাংবাদিকতার পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করবে। এ সময় সাংবাদিকরা দাবি জানান, সংবাদকর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা, চাকরির নিশ্চয়তা আজও সুনিশ্চিত করতে পারেনি কেউ। এই পেশার মানোন্নয়নে সাংবাদিকদের এসব সুযোগ-সুবিধা বাস্তবায়ন করতে হবে। অনুষ্ঠানে সার্বিক সঞ্চালনায় ছিলেন ডিবিসির বগুড়া ব্যুরোর ইনচার্জ মোহন আকন্দ।