অনিরাপদ রেলক্রসিং, অকার্যকর সিগন্যাল ব্যবস্থা, গেট ব্যবস্থাপনার অনিয়ম এবং দীর্ঘদিনের অবহেলা মিলেই এমন ট্র্যাজেডি বারবার তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আর কত প্রাণ গেলে এই দেশের রেলক্রসিংগুলো সত্যিই নিরাপদ হবে।
রোববার (২২ মার্চ) বিকেল ৫টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।
কুমিল্লার পদুয়া বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন-বাস সংঘর্ষের খবরটি ঈদের আনন্দকে মুহূর্তেই স্তব্ধ করে দিয়েছে বলে জানান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘যে দিনটি হওয়ার কথা ছিল হাসি, কোলাকুলি আর প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির। সেই দিনই অনেক পরিবারে নেমে এসেছে কান্না, শোক আর অসহনীয় শূন্যতা।’
দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এনসিপির মুখপাত্র। তিনি বলেন, ‘যেসব পরিবার তাদের প্রিয় মানুষকে হারিয়েছেন, সন্তান, বাবা-মা, স্বামী বা স্ত্রী—আপনাদের বেদনা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবুও গভীর সমবেদনা জানাই। এই শোক শুধু আপনাদের নয়, আমাদের সবার।’
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘ঈদের নতুন জামা পরে যে শিশুটি ঘর থেকে বেরিয়েছিল, সে আর ফিরবে না। যার জন্য এক প্লেট ভাত রাখা হয়েছিল, সে আর টেবিলে বসবে না। ঈদের নামাজ শেষে পরিবারের সঙ্গে ছবি তোলার কথা ছিল যে মানুষটির, তাকে আজ খুঁজে ফিরছে হাসপাতাল আর মর্গের বারান্দায়।’
এ ঘটনাকে শুধু ‘দুর্ঘটনা’ বললে বাস্তবতাকে আড়াল করা হয় বলে মন্তব্য করেন আসিফ মাহমুদ।
তিনি বলেন, ‘অনিরাপদ রেলক্রসিং, অকার্যকর সিগন্যাল ব্যবস্থা, গেট ব্যবস্থার অনিয়ম এবং দীর্ঘদিনের অবহেলা এসব মিলেই এমন ট্র্যাজেডি বারবার তৈরি হয়েছে। বছরের পর বছর মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, তদন্ত কমিটি হচ্ছে, রিপোর্ট জমা পড়ছে, কিন্তু বাস্তবে খুব কমই বদলেছে পরিস্থিতি। আজ যারা চলে গেলেন, তারা আর ফিরে আসবেন না। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, আর কত প্রাণ গেলে এই দেশের রেলক্রসিংগুলো সত্যিই নিরাপদ হবে?’
দেশবাসীর কাছে নিহতদের জন্য দোয়া চেয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের জন্য দোয়া করছি। আল্লাহ তাআলা তাদের জান্নাত নসিব করুন। আহতদের দ্রুত সুস্থতা দান করুন এবং শোকাহত পরিবারগুলোকে ধৈর্য ও শক্তি দিন। দেশবাসীর প্রতি ঈদের এই মুহূর্তে আমাদের আনন্দের মাঝেও যেন তাদের কথা মনে থাকে, আমাদের দোয়ায় যেন তারা থাকে এই আহ্বান করছি।’
