Image description

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগীর হোসেনকে ১২ দিনের জেল হেফাজতে পাঠিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় আদালতে।

 

রোববার (২২ মার্চ) ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে তাদের ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। আগামী ২ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

 

ফয়সাল করিম ও আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে আগেই ফরেনারস আইনে মামলা করা হয়েছিল। এদিন নতুন করে অন্য একটি মামলায় ‘আনলফুল এক্টিভিটিস (প্রিভেনশন) আইন’ বা ইউএপিএ আইনের ১৬ এবং ১৮ ধারায় মামলা করা হয়েছে।

 

ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) তরফে আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে, তারা যেন কারাগারে গিয়ে তাদের জেরা করতে পারে। এ আবেদনে আদালত সম্মতি জানান। সে ক্ষেত্রে তদন্তের স্বার্থে ফয়সাল ও আলমগীরকে কারাগারে গিয়ে জেরা করবে। সে ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই ধারায় সর্বোচ্চ সাজা হতে পারে।

 

রোববার আদালতে তোলার সময় সাংবাদিকরা ফয়সালকে হাদি হত্যার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমি এই কাজ করিনি। আমি এ ধরনের কোনো কাজে জড়িত ছিলাম না।’ তাকে এই ঘটনায় ফাঁসানো হয়েছে কি না, এমন প্রশ্ন করা হলে ফয়সাল কিছু বলতে রাজি হননি।

 

পরে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকরা ফের তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। এ সময় ফয়সাল খুনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি এসব কাজের সঙ্গে জড়িত না। এটা জামায়াত-বিএনপির চাল হতে পারে। আপনারা যে এত হাদি হাদি করছেন, বাংলাদেশে যে এত হাদি হাদি হচ্ছে, সে তো আসলে জঙ্গি।’

 

ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে তাকে দেখা গেছে উল্লেখ করলে ফয়সাল বলেন, ‘আমাকে গুলি করতে দেখা যায়নি।’ পরক্ষণে তিনি ঘটনাস্থলে থাকার কথাই পুরোপুরি অস্বীকার করেন।

 

এর আগে গত ৮ মার্চ ফয়সাল ও আলমগীরকে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।

 

৩৭ বছর বয়সী ফয়সাল করিম মাসুদের বাড়ি বাংলাদেশের পটুয়াখালী এলাকায় এবং ৩৪ বছর বয়সী আলমগীর হোসেনের বাড়ি ঢাকায়। তারা দুজন অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁয় আত্মগোপন করেছিলেন। সুযোগ বুঝে ফের তারা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টার অপেক্ষায় ছিলেন বলে জানায় এসটিএফ সূত্র।

 

সংস্থাটি জানায়, গ্রেপ্তার ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন দুজনেই হাদিকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তারা উভয়ই মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন এবং গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়। পরে তাদের বিধান নগর মহকুমা আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডের নির্দেশ দেন।

 

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরিহিত দুর্বৃত্তরা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদিকে গুলি করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।