পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় নৌ-যাত্রা নিশ্চিত করতে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সরাসরি মাঠপর্যায়ে তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এমপি।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে প্রতিমন্ত্রী সদরঘাটের বিভিন্ন পন্টুন পরিদর্শন করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
এ সময় তিনি একাধিক লঞ্চে সশরীরে উঠে যাত্রীসংখ্যা যাচাই করেন এবং কোথাও অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট লঞ্চগুলোকে ঘাটে অবস্থান করতে না দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। তার নির্দেশে বেশ কয়েকটি লঞ্চ অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করে টার্মিনাল ত্যাগ করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা করে। এ সময় প্রতিমন্ত্রী কোনো অবস্থাতেই অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে লঞ্চ চলাচল করবে না মর্মে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করে বলেন, কোনোভাবেই অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে লঞ্চ চলাচল করতে পারবে না এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তিনি লঞ্চ চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অসম প্রতিযোগিতা বন্ধ করা এবং যাত্রীদের ওঠানামায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
এ সময় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনাও পর্যবেক্ষণ করেন প্রতিমন্ত্রী। নদীপথের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে তদারকির লক্ষ্যে স্পিডবোটের মাধ্যমে মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
উল্লেখ্য, গতকাল সদরঘাটে সংঘটিত মর্মান্তিক নৌ-দুর্ঘটনার পরপরই নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদানের নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তির উদ্ধারে ডুবুরি দলের কার্যক্রমের অগ্রগতির তদারকি করছেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় যাত্রীদের নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খল নৌ-যাত্রা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এ সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর সংস্থার কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।