Image description

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় ১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি এখন কেবলই এক আক্ষেপের নাম। উদ্বোধনের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আজও মসজিদের দরজায় ঝুলছে তালা। আধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই স্থাপনাটি মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত না হওয়ায় স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মসজিদের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলেও মূল ফটক ও প্রবেশদ্বারগুলোতে তালা ঝুলছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নির্মিত এই মসজিদে এক ওয়াক্ত নামাজও আদায় করতে পারেননি এলাকাবাসী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৯ জানুয়ারি মসজিদটির নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন লিমিটেড’ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করে। এরপর ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর তৎকালীন সরকারপ্রধান ভার্চুয়ালি দেশব্যাপী বেশ কিছু মডেল মসজিদের সঙ্গে এটিও উদ্বোধন করেন। কিন্তু সেই উদ্বোধনের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে গত দুই বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষায়।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নির্মাণকাজ শেষ হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভবনটি বুঝিয়ে দেয়নি। অন্যদিকে ইমাম, মোয়াজ্জিন ও খাদেমসহ প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়াটি এখনও লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে আটকে আছে।

 

এদিকে স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সরকার মসজিদটি বানিয়েছে আমাদের ইবাদতের জন্য। কিন্তু উদ্বোধনের দুই বছর পরও আমরা ভেতরে ঢুকতে পারছি না, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাড়াশের সাধারণ মানুষের দাবি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত যেন ১২ কোটি টাকার এই সম্পদটি ইবাদত ও ধর্মীয় সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে সচল করা হয়।

 

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি শিহাব উদ্দিন সরকার এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘উদ্বোধনের এত দিন পরও মসজিদটি তালাবদ্ধ থাকা মেনে নেওয়া কঠিন। মুসল্লিদের চাপের মুখে আমাদের জবাবদিহি করতে হচ্ছে। আমরা দ্রুত এটি খুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন লিমিটেড’-এর ম্যানেজার সেলিম হোসেন বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে নির্মাণকাজ সম্পন্ন। এখন কর্তৃপক্ষ বুঝে নিলেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।’

 

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান এশিয়া পোস্টকে বলেন, জনবল ছাড়া এত বড় একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে মসজিদটি নামাজের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। বিষয়টি আমাদের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।