Image description

এমপিওভুক্ত করতে ঘুষের টাকা কম আনায় মাইদুল ইসলাম নামে এক শিক্ষককে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) রংপুর অঞ্চলের উপপরিচালক (ডিডি) রোকসানা বেগমের বিরুদ্ধে। সোমবার বিকেলে রংপুর নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টার মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মাইদুল ইসলাম।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে রংপুরের কাচারীবাজার এলাকায় মাউশির রংপুরের আঞ্চলিক কার্যালয়ে ঘুষের টাকাসহ পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে দুদক তার বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলা করে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মাইদুল ইসলাম জানান, তার বাবা আবদুর সবুর খানের দান করা এক একর জমিতে কাজাইকাটা উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। সামান্য ভুলের জন্য এমপিওভুক্ত হতে পারছিলেন না কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী। এজন্য ওই প্রতিষ্ঠানের জমিদাতা হিসেবে বিদ্যালয়ের সাত শিক্ষক-কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করার জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা আঞ্চলিক কার্যালয়ে যোগাযোগ করছিলেন। তার দাবি, উপপরিচালক রোকসানা বেগমের সঙ্গে গত ডিসেম্বরে তার কার্যালয়ে আলাপ হয়। এ সময় প্রত্যেক শিক্ষকের জন্য ছয় লাখ এবং কর্মচারীর জন্য তিন লাখ টাকা করে চান তিনি। পরে একজন শিক্ষক ও তিন কর্মচারীর জন্য মোট ১৫ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়।

মাইদুল ইসলাম জানান, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে একটি প্যাকেটে আট লাখ টাকা নিয়ে উপপরিচালকের কার্যালয়ে যান তিনি। দুপুরে ফাঁকা সময়ে রোকসানা বেগম তাকে অফিসে ডেকে কত টাকা এনেছেন জানতে চাইলে তিনি আট লাখ টাকার কথা জানান। বিষয়টি শোনার পর রোকসানা বেগম সঙ্গে সঙ্গে তার স্বামী জাহেদুল ইসলামকে আট লাখ টাকা নিয়ে আসার কথা ফোনে জানান। কল কেটে দেওয়ার পরক্ষণই তিনি উত্তেজিত হয়ে কয়েকজন কর্মচারীকে ডাকেন। 

মাইদুল অভিযোগ করেন, এ সময় তাকে ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করতে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে স্কুল বাঁচানোর স্বার্থে তিনি বাধ্য হয়ে পুলিশ, সাংবাদিক ও দুদকের কাছে তাদের শেখানো কথা বলেন।

অভিযোগের বিষয়ে উপপরিচালক রোকসানা বেগম বলেন, শিক্ষক মাইদুল ইসলাম নিজের গা বাঁচানোর জন্য এখন নানা কথা বলে বেড়াচ্ছেন।