শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষা কারো ব্যক্তিগত বা দলীয় বিষয় নয়, বরং এটি সবার মৌলিক অধিকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে সম্পূর্ণভাবে দলীয়করণের বাইরে রাখার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।
রবিবার (১৫ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই কথা বলেন।
তিনি বলেন, শিক্ষা দলীয়করণ নয়, এটা সবার অধিকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও শিক্ষাকে দলীয়করণের বাইরে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তার এটা নির্দ্বাধায় বলা যায়, শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে কোনো বৈষম্য হবে না।’
এর আগে সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ তার নির্বাচনী এলাকা হাতিয়াসহ নদী ভাঙনপ্রবণ অঞ্চলের শিক্ষা সংকট তুলে ধরেন। তিনি জানতে চান, নদী ভাঙনের কারণে যেসব স্কুল স্থানান্তরিত হয়, সেগুলোর বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় কোনো বিশেষ তালিকা বা উদ্যোগ নিচ্ছে কি না। এছাড়া তিনি ২৫ হাজার মানুষের আবাসস্থল নিজুম দ্বীপে কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকা এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে আনেন।
উত্তরে মন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘নদী ভাঙন কবলিত অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষায় সরকার সব সময় আন্তরিক। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে নকল প্রতিরোধ আন্দোলনের সময় আমি হাতিয়ায় গিয়ে নদী ভাঙনের দৃশ্য দেখেছি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।’
নিজুম দ্বীপে মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন এবং শিক্ষক সংকট দূর করার বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, হাতিয়ার দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাছে মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দিতে সরকার নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করবে। বিশেষ করে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ এবং নিজুম দ্বীপে স্কুলের ব্যবস্থা করার বিষয়টি সরকারের বিশেষ বিবেচনায় থাকবে বলে তিনি জানান।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। সেদিন অধিবেশনের প্রারম্ভে ভাষণ দেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি মনোনীত করা হয়।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শপথ গ্রহণ করেন। ওইদিন দুপুর ১২টার পর জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে তাদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
নতুন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) শোকপ্রস্তাব উপস্থাপন করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর রেওয়াজ অনুযায়ী ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।