Image description

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এক মাস আগেও ছিল আতঙ্ক আর ভীতির জনপদ। প্রবেশপথে থাকত সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র পাহারা। পাহাড়ঘেরা এ এলাকায় ঢুকতে গেলে দেখাতে হতো ‘বিশেষ পরিচয়পত্র’। এমনকি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও ভেতরে যেতে পারতেন না। অভিযান চালাতে গিয়ে তাঁরা হামলার শিকার হয়ে ফিরে এসেছেন। সেই ‘ভয়ংকর’ জঙ্গল এখন পুরোপুরি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে।

গত ২ মার্চ সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির যৌথ অভিযানের পর জঙ্গল সলিমপুরের দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। প্রথমবারের মতো একটি বড় অভিযান রক্তপাত ছাড়াই শেষ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হামলার মুখেও পড়েননি। আগেই পালিয়ে যায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। অভিযানের পর পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় যৌথ বাহিনী। ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে পুলিশের দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প। নিয়মিত টহল চলছে। সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্য আনাগোনা নেই। সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবে এলাকায় যাতায়াত করছেন। গত শুক্রবার জঙ্গল সলিমপুর ঘুরে পরিবর্তনের এই চিত্র দেখা গেছে।

তবে এই বদল শুধু নিরাপত্তা পরিস্থিতির নয়। পেছনে আছে পাহাড় কেটে বসতি গড়া, সরকারি খাসজমি দখল, কোটি কোটি টাকার প্লট–বাণিজ্য, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় বেড়ে ওঠা দখলদার গোষ্ঠী এবং থমকে থাকা সরকারি প্রকল্পের দীর্ঘ ইতিহাস। কয়েক দশক ধরে ৩ হাজার ১০০ একরের যে এলাকাটি দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে ছিল, যৌথ অভিযানের পর সেখানে প্রথমবারের মতো দৃশ্যমানভাবে প্রশাসনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা হয়েছে।

পাহাড়ঘেরা এলাকাটি ২০০০ সালের পর থেকেই সন্ত্রাসীদের দখলে। আওয়ামী লীগ সরকার কয়েকবার চেষ্টা করেও জঙ্গল সলিমপুরকে সন্ত্রাসীদের কবল থেকে উদ্ধার করতে পারেনি। সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধের মুখে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফিরে আসতে হয়েছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এখন পুরোপুরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। এরপর বেদখলে থাকা জমিগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কাজ শুরু হবে। এলাকাটিতে বিভিন্ন ধরনের সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে ইতিমধ্যে ২৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। জমি, পরিবেশ ও বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সুপারিশ দেবে কমিটি।

পাহাড়ঘেরা এলাকাটি ২০০০ সালের পর থেকেই সন্ত্রাসীদের দখলে। আওয়ামী লীগ সরকার কয়েকবার চেষ্টা করেও জঙ্গল সলিমপুরকে সন্ত্রাসীদের কবল থেকে উদ্ধার করতে পারেনি। সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধের মুখে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফিরে আসতে হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় র‍্যাবের অভিযানে সন্ত্রাসীদের হামলায় একজন র‍্যাব সদস্য নিহত হন।

আতঙ্কের জনপদে স্বস্তি

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়ক ধরে এগোলে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের বিপরীত দিকে একটি সড়ক ঢুকে গেছে পাহাড়ের ভেতরে। সেই পথেই শুরু জঙ্গল সলিমপুর। গত শুক্রবার সকালে সেখানে গিয়ে যে দৃশ্য চোখে পড়ল, তা এক মাস আগেও কল্পনা করা কঠিন ছিল। পাহাড় কেটে বানানো সরু ও প্রশস্ত পথ ধরে লোকজন অবাধে চলাফেরা করছেন। দোকানপাট খোলা। বাজারে মানুষের ভিড়। রাস্তার ধারে শিশুরা খেলছে। কোথাও কোথাও পুলিশের দল টহল দিচ্ছে।

প্রশস্ত সড়ক ধরে কিছুটা এগোলেই ডান পাশে একটি মাজার। তারপর এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়। বিদ্যালয়সংলগ্ন বাজার ও বিপণিবিতানে বেশ ভিড়। মাছ, মাংস, শাকসবজি, নিত্যপণ্যের দোকানে ক্রেতাদের আনাগোনা দেখে মনে হয়, দীর্ঘদিনের ভয়ের পর মানুষ যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইছেন।

বাজারে কথা হয় আবদুল মান্নানের সঙ্গে। ১০ বছর ধরে তিনি এ এলাকায় আছেন। গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড়ে। পেশায় বাবুর্চি। হাতে বাজারের থলে। কেমন আছেন, জানতে চাইলে বলেন, ‘আগের চেয়ে ভালো আছি। এভাবে থাকতে পারলেই হয়।’ বললেন, আগে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে মারামারি হতো। বাইরে থেকে অস্ত্রধারীরা আসত। রাতের পর রাত অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হতো। এখন অন্তত সেই ভয়টা কমেছে। পুলিশি পাহারা আছে, সন্ত্রাসীদের দেখা যাচ্ছে না। তাঁর কথা শেষ হতেই পাশে এসে দাঁড়ান মনসুর আলম, রবিউল ইসলাম ও কেফায়েত উল্লাহ। তাঁদের বক্তব্য, এখানে বারবার আধিপত্যের পালাবদল হয়েছে। গোষ্ঠী বদলেছে। এখন যেটুকু শান্তি এসেছে, সেটি যেন বজায় থাকে।

বাজারে কথা হয় আবদুল মান্নানের সঙ্গে। ১০ বছর ধরে তিনি এ এলাকায় আছেন। গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড়ে। পেশায় বাবুর্চি। হাতে বাজারের থলে। কেমন আছেন, জানতে চাইলে বলেন, ‘আগের চেয়ে ভালো আছি। এভাবে থাকতে পারলেই হয়।’

এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের ভেতরে বসেছে পুলিশের একটি অস্থায়ী ক্যাম্প। এখানে প্রায় ১৩০ জন পুলিশ সদস্য অবস্থান করছেন। আরেক অস্থায়ী ক্যাম্প করা হয়েছে আলীনগর উচ্চবিদ্যালয়। এখানে প্রায় ২৩০ জন র‌্যাব, পুলিশ ও এপিবিএন সদস্য রয়েছেন। টহলরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বললেন, এখন দৃশ্যমান কোনো সন্ত্রাসী নেই। লোকজনও পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। স্বস্তি বজায় রাখতে পুলিশের নিয়মিত টহল থাকবে।

 

কোটি টাকার প্লট–বাণিজ্য

জঙ্গল সলিমপুরের সংকটের মূলে আছে পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা প্লট–বাণিজ্য। অন্তত ৩০টি পাহাড় ধাপে ধাপে কেটে সমতল করা হয়েছে। ছোট ছোট প্লটে ভাগ করে বিক্রি করা হয় বসতি তৈরির জন্য। শহরের কাছাকাছি তুলনামূলক কম দামে জমি পাওয়ার লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

পুলিশ ও জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, আলীনগর এলাকায় আড়াই কাঠা আকারের একেকটি প্লট বিক্রি হচ্ছিল প্রায় ৩০ লাখ টাকায়। এর বাইরে আরও ছোট আকারের প্লট পাঁচ লাখ টাকায় বিক্রি করা হতো। ছোট প্লটের সংখ্যা প্রায় ২৬ হাজার। অন্তত ২৩ হাজার ইতিমধ্যে বিক্রি হয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে গত চার দশকে হাজার কোটি টাকার প্লট–বাণিজ্য হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আলীনগর আবাসিক এলাকায় অনেক প্লটের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ। কোথাও খালি জমি, কোথাও আবার ঘরবাড়ি তৈরি হয়েছে। একটি প্লটের ভেতরে দেখা হয় নিরাপত্তাকর্মী আক্কাস উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি পরিবার নিয়ে প্লটের ভেতরেই থাকেন। মালিক প্লটটি বিক্রির জন্য ক্রেতা ঠিক করেছেন। কিন্তু জমি কেনাবেচার মধ্যস্থতাকারী রহমত উল্লাহ জানান, অভিযানের পর নতুন করে কেউ প্লট কিনতে আসছেন না। যাঁরা আগে কিনেছেন, তাঁরাও এখন দুশ্চিন্তায় আছেন—সামনে কী হবে, কেউ নিশ্চিত নন।

স্থানীয়দের দাবি, আলীনগর এলাকায় মূলত ‘আলীনগর বহুমুখী সমিতি’র মাধ্যমে ইয়াসিনের লোকজন প্লট বিক্রি করতেন। অন্যদিকে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল অংশে প্লট বিক্রি হতো ‘মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদ’-এর মাধ্যমে। এই দুই সংগঠনকে ঘিরেই দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে প্লট তৈরি ও বিক্রির পুরো বাণিজ্যিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

জমি কেনাবেচার মধ্যস্থতাকারী রহমত উল্লাহ জানান, অভিযানের পর নতুন করে কেউ প্লট কিনতে আসছেন না। যাঁরা আগে কিনেছেন, তাঁরাও এখন দুশ্চিন্তায় আছেন—সামনে কী হবে, কেউ নিশ্চিত নন।

হামলা ছাড়া অভিযান

জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান মানেই হামলা—এই ধারণা বহুদিনের। আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঢুকলেই প্রবেশমুখে পাহারায় থাকা লোকজন খবর পেয়ে যেত। এরপর পাহাড়ের ওপর থেকে ইটপাটকেল, ককটেল, কখনো গুলিও ছোড়া হতো। সর্বশেষ গত ১৯ জানুয়ারি অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন র‍্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। তিনি র‍্যাব-৭–এর উপসহকারী পরিচালক ছিলেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

এর আগে ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল বরইতলা ২ নম্বর সমাজ এলাকায় পাহাড় থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শেষে ফেরার পথে হামলায় আহত হন তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক, সীতাকুণ্ড থানার তৎকালীন ওসি তোফায়েল আহমেদসহ অন্তত ২০ জন। ২০২২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি র‌্যাবের সঙ্গে গুলিবিনিময় হয়। একই বছরের ২ আগস্ট উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে জেলা প্রশাসনের লোকজনকে বাধা দেওয়া হয়। ৮ সেপ্টেম্বর আলীনগরে অবৈধ বসতি ভাঙতে গেলে পুলিশের ওপর হামলা হয়। আরও কয়েকবার অভিযানে বাধা এসেছে।

আমাদের মূল ফোকাস ছিল এই বিশাল অংশে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং আমরা সেটি করতে পেরেছি। পুলিশ ও র‍্যাবের দুটি ক্যাম্প এখানে কাজ করছে। ক্যাম্পের নিরাপত্তা বিধানে যদি এখানে কামান দেওয়া লাগে, আমরা কামান দেব।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) আহসান হাবীব পলাশ

২ মার্চের অভিযান আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। সেদিন প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের একটি যৌথ বাহিনী পরিকল্পিতভাবে জঙ্গল সলিমপুরে প্রবেশ করে। যদিও আগের রাতে আলীনগরে ঢোকার মুখে রাস্তায় ট্রাক রেখে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল। ভেঙে ফেলা হয়েছিল একটি কালভার্টও। কিন্তু অভিযানে থাকা সদস্যরা ইট-বালু ফেলে কালভার্ট সচল করেন, ব্যারিকেড সরান, তারপর ভোর পাঁচটা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত টানা ৯ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেন। কোনো রক্তপাত হয়নি, হামলাও হয়নি।

অভিযান চলাকালে বিভিন্ন স্থান থেকে ৩০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ইয়াসিন, রোকন, মশিউর রহমান, নুরুল হক ভান্ডারি, গাজী সাদেক, গোলাম গফুরসহ কয়েকজন ‘সন্ত্রাসী’ পলাতক রয়েছেন।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) আহসান হাবীব পলাশ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের মূল ফোকাস ছিল এই বিশাল অংশে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং আমরা সেটি করতে পেরেছি। পুলিশ ও র‍্যাবের দুটি ক্যাম্প এখানে কাজ করছে। ক্যাম্পের নিরাপত্তা বিধানে যদি এখানে কামান দেওয়া লাগে, আমরা কামান দেব।’

সরকারি প্রকল্পে গতি

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে আবার আলোচনায় এসেছে জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি প্রকল্পগুলো। ২০২২ সালের ২৩ জুন তৎকালীন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক এলাকাটিকে ১১টি ভাগে বিভক্ত করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার-২, মডেল মসজিদ, নভোথিয়েটার, আইটি পার্কসহ বিভিন্ন প্রকল্পের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু দখলমুক্ত করতে না পারায় সেগুলো থমকে ছিল। এখন প্রশাসন বলছে, নতুন পরিস্থিতিতে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে গতি আসতে পারে।

ধারণক্ষমতার তিন গুণের বেশি বন্দী থাকায় নতুন কারাগার তৈরির জন্য এখানে ৫০ একর জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছিল। চট্টগ্রাম আদালত, মেডিকেল কলেজ ও পুলিশ লাইনের দূরত্ব বিবেচনায় জায়গাটি উপযুক্তও ছিল। কিন্তু দখলমুক্ত না হওয়ায় জেলা প্রশাসন কারা কর্তৃপক্ষকে জমি বুঝিয়ে দিতে পারেনি। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ইকবাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে কারাগার হলে ভালো হবে।

জেলা প্রশাসন সূত্র বলছে, জঙ্গল সলিমপুরে স্থাপনা নির্মাণের জন্য সামরিক-বেসামরিক, সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অন্তত ৪৮টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। চট্টগ্রাম সেনানিবাস, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, বাংলাদেশ বেতার, র‌্যাব-৭, সিডিএ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, চট্টগ্রাম ওয়াসা, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিসসহ বহু প্রতিষ্ঠান সেখানে জমি চেয়ে আবেদন করেছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রথম আলোকে বলেন, একটি মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে ধাপে ধাপে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। জঙ্গল সলিমপুরের প্রাণপ্রকৃতি রক্ষা করে কীভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে, সে বিষয়টিই কমিটি বিবেচনায় আনবে।

জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি জায়গা যাতে আর কোনো অবস্থায় বেহাত না হয়, সে জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। পরিকল্পিত সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ শুরু করা উচিত। প্রয়োজনে এলাকাটি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানেও রাখা যেতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম

এখন করণীয় কী

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের এই নতুন আশাবাদের মধ্যেও জঙ্গল সলিমপুরের নিরাপত্তার প্রশ্নটি জটিলই থেকে যাচ্ছে। এখানে কয়েক দশক ধরে পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা ঘনবসতি ও হাজারো পরিবারের পুনর্বাসনের প্রশ্ন এবং পরিবেশ পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ অবশেষে প্রশাসনের হাতে এসেছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি জায়গা যাতে আর কোনো অবস্থায় বেহাত না হয়, সে জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। পরিকল্পিত সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ শুরু করা উচিত। প্রয়োজনে এলাকাটি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানেও রাখা যেতে পারে।