জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের সময় ডিবি অফিসে আটকে রেখে চোখ বেঁধে রাজনৈতিক নেতাদের ওপর উপুর্যপুরি অত্যাচার ও নির্যাতন করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের ওপর আনা শোক প্রস্তাব’-এর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত সব শহীদ এবং বিগত সময়ে গুম-খুনের শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। একইসঙ্গে সদ্যপ্রয়াত বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের কথা স্মরণ করে তার আত্মার শান্তি কামনা করেন।
আন্দোলনের সময়কার ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি আন্দোলনরতদের ওপর কীভাবে হেলিকপ্টার থেকে গুলি বর্ষণ করা হয়েছে। মেধার জন্য আন্দোলন করা দেশের ছাত্র-জনতাকে দমিয়ে রাখার জন্য সেদিন একনায়কতন্ত্র ও এক ব্যক্তির শাসন কায়েম করা ফ্যাসিবাদের নির্দেশেই এই রক্তের বন্যা বইয়ে দেওয়া হয়েছিল।’
ডিবি অফিসে নির্যাতনের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে এ্যানি বলেন, ‘গত ২৫ জুলাই আমাদের অনেক সিনিয়র নেতা ডিবি অফিসে চোখ বাঁধা অবস্থায় ছিলেন। তাদের ওপর উপুর্যপুরি অত্যাচার ও নির্যাতন করা হয়েছিল।
৫ আগস্টের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট সেদিন ওই ফ্যাসিবাদ বিদায় নেবে, আমরা তা বুঝতে পারিনি। মহান আল্লাহর হুকুমে যখন ফ্যাসিস্টরা বিদায় নিল, তখন আমরা জেলখানায় কান্নায় ভেঙে পড়লাম।
নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐক্যের বার্তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ পতনের দিন একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দেশকে রক্ষার কথা বলেছিলেন। এত অত্যাচার-নির্যাতন ও গুম-খুনের পরও প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসায় না জড়িয়ে নতুনভাবে দেশ গঠনের যে আহ্বান তিনি জানিয়েছিলেন, সেটি আমাদের নাড়া দিয়েছিল।’
সবশেষে ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের পাশে থেকে একটি শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।