Image description

সংরক্ষিত নারী আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মারদিয়া মমতাজ বলেছেন, সংসদে গিয়ে আইন প্রণয়ন ও সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হবে তাদের মূল কাজ। তিনি মনে করেন, রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও তাদের বিরুদ্ধে অনলাইন সহিংসতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

ধর্ষণসহ সামাজিক অপরাধ রোধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত জনগণের ভোটের রায়েই দলের কাজের মূল্যায়ন হবে।

সম্প্রতি জাগো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক রায়হান আহমদ।

জাগো নিউজ: ইশতেহার তো নেই, সংসদে কী তুলে ধরবেন? আপনার সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকারে থাকবে কোন বিষয়?

মারদিয়া মমতাজ: সংসদে আমাদের কাজ তো রেগুলার এমপিদের মতো। দেশের প্রতি আমাদের যে দায়িত্ব থাকবে, আইন প্রণয়নে যে ভূমিকা থাকে, মন্ত্রীদের তাদের কাজের জবাবদিহি কিংবা প্রশ্ন করা-এগুলো সবই করব। যেহেতু প্রধানমন্ত্রীসহ সব মন্ত্রী এমপিদের কাছে বাধ্য তাদের কাজের জবাবদিহিতার জন্য, তো এই জায়গায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে রাখার জন্য।

জাগো নিউজ: নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মতো সুযোগ-সুবিধা পেলেও সংরক্ষিত আসনে বরাদ্দ কম দেওয়া হয়। এর আগে আমরা এমন দেখেছি। এ ব্যাপারে আপনাদের পদক্ষেপ কী থাকবে?

 

মারদিয়া মমতাজ: এটা হয়তো পরিস্থিতি বলে দেবে। যদি এরকম পরিস্থিতি আসে, দলের পলিসি অনুযায়ী আমরা সেভাবে কাজ করবো। মূলত সংসদ সদস্যদের কাজ উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা না। সংসদ সদস্যদের কাজ স্পেসিফিক দুইটা। প্রথমত, সংসদে আইন প্রণয়ন করা, দ্বিতীয়ত হচ্ছে অন্য কোনো সংস্থার ওপরে আইন প্রণয়নের কাজ দেওয়া। এটা সংসদের অনুমতিক্রমে দেওয়া হয়। এই কাজ ছাড়া আমরা আপাতত আর কিছু নিয়ে চিন্তা করছি না। বাকিটা পরিস্থিতি ও দলীয় পলিসি অনুযায়ী কাজ করবো, ইনশাল্লাহ।

আমাদের কাজের প্রতিফলন দেখা যাবে পরবর্তী নির্বাচনেমারদিয়া মমতাজ, ছবি: সংগৃহীত

জাগো নিউজ: দেশে ধর্ষণ ব্যাধির মতো হয়ে গেছে। দৃশ্যমান বিচার খুবই কম। বিচার নিশ্চিতে আপনারা বিশেষ কোনো ভূমিকা নিতে চান কি না?

মারদিয়া মমতাজ: বিএনপি দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১২ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এক মাসে শুধু ধর্ষণের ঘটনা ৩১টা। এসবের বিরুদ্ধে আমরা স্ট্রং ভূমিকা রাখছি, লেখালেখি করছি।

সংসদে গেলেও এটা বন্ধ হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা চেষ্টা করবো এটা নিয়ে কথা বলতে। অপরাধী কিংবা ধর্ষকরা যখন পার পেয়ে যায়, কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় না- সেই ক্ষেত্রে এই অপরাধগুলো বাড়তে থাকে। দলীয় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় যেন অপরাধীরা পার না পায়, এটা নিশ্চিত করতে হবে। তারপর ওভারঅল সারাদেশের মানুষের কাছে এটা একটা মেসেজ যাবে যে আমি অন্যায়টা করে কোনোভাবে আশ্রয় নিতে পারবো না। এজন্য নিজের ঘর থেকেই কাজ শুরু করতে হবে। আমরা আমাদের সামর্থ্য মতো এ ব্যাপারে কথা বলবো ইনশাল্লাহ।

জাগো নিউজ: জুলাই পরবর্তীতে সব দলের রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণীরা সক্রিয় হচ্ছেন। এই নারীদের প্রত্যাশা পূরণে আপনারা কী কাজ করবেন?

মারদিয়া মমতাজ: জুলাই পরবর্তী এবং জুলাই সময়েও নারীদের একটা বড় ভূমিকা ছিল। যদিও সেটা পরে একনলেজড (স্বীকৃতি) পায়নি। স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে সবাই আন্দোলনকারী ছিল। পরে যখন দলের পরিচয়গুলো বের হলো, তখন দেখা গেলো যে আমাদের বিরুদ্ধে অনলাইনে সহিংসতা ছড়ানো হয়েছে। এখনো হচ্ছে। বিশেষ করে সংরক্ষিত আসনে আমার নাম ঘোষণার পর, আমার সঙ্গে, আমার ছবি এডিটসহ সব ধরনের নোংরামি করেছে। তো আমার কাছে এটা আসলে একটা প্রশ্ন যে সবসময় তো বট বাহিনীর দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হয় একটা বিশেষ দলের ওপরে; তাহলে সেই দলের নারীদের কারা বিরক্ত করে? এরা কারা?

অপরাধটা বড় করে না দেখে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর হামলা করার একটা টুল হলো নারী। নারীর প্রতি সহিংস আচরণ রোধে সবাইকে দায়িত্বশীলতার ভূমিকা দেওয়া উচিত এবং এটার দৃষ্টান্ত আমরা সরকারি দল থেকেই দেখতে চাই।

জাগো নিউজ: জামায়াত ইসলামী কোন ক্রাইটেরিয়ায় সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে?

মারদিয়া মমতাজ: আমরা একটা জিনিস মাথায় রেখেছি যে, নারীর ব্যাপারে যেন নেতৃত্বের গুণাবলি তার কাজ এবং তার অ্যাক্টিভিটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এমনভাবে নির্বাচন করা হয়েছে যেন, তিনি তার এলাকায় ভূমিকা রাখতে পারেন। কাউকে এটা চিন্তা করতে হবে না যে, মনোনয়ন পেতে তার টাকা থাকতে হবে বা তার ফ্যামিলিতে বড় কেউ থাকতে হবে। সংরক্ষিত আসনে নারীদের নির্বাচিত করা হয়েছে আমাদের মজলিশে শুরার পরামর্শক্রমে। প্রথমে আমাদের ১২টা সিট পাওয়ার কথা। ১২ জনকে বাছাই করা হয়েছিল। এবং তার মধ্য থেকে আরও শর্টলিস্ট করা হয়েছে। সুতরাং এগুলো কেবল কিছু রেন্ডম চয়েস না, এটা গণতান্ত্রিকভাবে বাছাই করা হয়েছে। এই বাছাইয়ে নারীদের ভূমিকা বেশি।

জাগো নিউজ: সংসদে কোনো বিশেষ খাত কিংবা নির্দিষ্ট কোনো বিল পরিকল্পনা করেছেন কি?

মারদিয়া মমতাজ: আমার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার জায়গা হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ারিং। আমি ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ও স্ট্রাকচার নিয়ে কাজ করি। এসব নিয়ে কাজের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া আইন প্রণয়নের সুযোগ পেলে তো অবশ্যই আমরা সাড়া দেব বা সংসদ সদস্য হিসেবে বা সংসদের কোনো কমিটিতে সুযোগ পেলে আমরা অবশ্যই কাজ করবো। আমাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব এক্সপার্টিজ আছে। আমাদের মধ্যে চারজন আছেন শিক্ষক, বগুড়ার একজন আছেন, উনি আগে এলাকার ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।

জাগো নিউজ: আপনাদের কাজের জবাবদিহিতা মানুষের কাছে কীভাবে নিশ্চিত করবেন?

মারদিয়া মমতাজ: আমাদের সদস্যদের কাজের জবাবদিহিতা হচ্ছে তো সরকারের কাছে। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে জনগণ তো দেখছে সবকিছু। আমাদের কাজ সাংবাদিকরা তুলে ধরবেন। মানুষ আমাদের বিবেচনা করবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে সেটার রিফ্লেকশন আসবে। জনগণের ভোটে বোঝা যাবে।