ইরানের সাথে যুদ্ধের ফলে বিরাজ করছে উত্তেজনা। ঘোষণা হয়েছে জরুরি অবস্থা। এই অজুহাতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে অবস্থিত মসজিদুল আকসায় নামাজ ও তারাবি বন্ধ রেখেছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী।
ইসরাইলি বাহিনীর এমন সিদ্ধান্তকে অবৈধ বলেছেন আল-আকসা মসজিদের খতিব ও জেরুজালেমের ইসলামিক হাই কাউন্সিলের প্রধান শায়খ ইকরিমা সাবরি।
তিনি বলেছেন, জরুরি অবস্থা ঘোষণার অজুহাতে মসজিদুল আকসা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কোনো বৈধতা নেই। এর মাধ্যমে দখলদার কর্তৃপক্ষ মসজিদের ওপর আধিপত্য চাপিয়ে দিতে চায়।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো মসজিদ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং তারাবির নামাজ আদায় করতে দেওয়া হয়নি। তার ভাষায়, দখলদার কর্তৃপক্ষ যেকোনো সুযোগকে আল-আকসা বন্ধের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
ফিলিস্তিনি জেরুজালেম গভর্নরেটের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শনিবার ভোরে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে ঘোষিত জরুরি অবস্থার অজুহাতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো পূর্ব জেরুজালেম, পুরনো শহর ও আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখা হয়েছে। মুসল্লি ও রোজাদারদের মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
শায়খ সাবরি জানান, শনিবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই মসজিদ থেকে সব মুসল্লি, শরিয়াহ আদালতের কর্মী ও শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়া হয়। শুধু প্রহরীরা ভেতরে রয়েছেন।
তিনি বলেন, নিরাপত্তার অজুহাতে পুলিশের এই পদক্ষেপ ইবাদতের স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং এর মাধ্যমে ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে।
তার মতে, মসজিদ বন্ধ রাখার ফলে হাজার হাজার মুসল্লি এশা ও তারাবির নামাজ আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শনিবার ইসরায়েলি পুলিশ এশা ও তারাবির নামাজ আদায়ে বাধা দেয়। খুব অল্পসংখ্যক কর্মচারী ছাড়া কেউ নামাজ আদায় করতে পারেননি। জেরুজালেম গভর্নরেট জানায়, চলতি রমজানের শুরু থেকে তারাবিতে মুসল্লির সংখ্যা ৩৫ হাজার থেকে এক লাখ পর্যন্ত ছিল।