‘ভারতের আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল আবগারি মামলা থেকে মুক্তি পেয়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তথা বিজেপির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। কেজরিওয়াল বলেছেন, দিল্লিতে ফের ভোট করান। বিজেপি ১০টির বেশি আসনে জিতলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।
শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে কেজরিওয়াল বলেন, মোদিজিকে আমি চ্যালেঞ্জ করছি। আপনার সাহস থাকলে দিল্লিতে ফের ভোট করান। দেখুন কী হয়। বিজেপি ১০টির বেশি আসনে জিতলে রাজনীতি ছেড়ে দেব আমি। দিল্লির মানুষ আপনাদের উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
কেজরিওয়াল সব মামলা থেকে ক্লিনচিট পাওয়ার পর নাম না করে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন স্ত্রী সুনীতাও। তার তোপ, শুধুমাত্র ক্ষমতার লোভে ভুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছিল অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে। আদালতের নির্দেশে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন আপের আরও এক শীর্ষনেতা তথা দিল্লির প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিশোদিয়া। আদালতের রায়ের পর এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ও তাদের এজেন্সিগুলো আমাদের অসৎ প্রমাণে মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিল। তা সত্ত্বেও আজ প্রমাণ হল, অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মণীশ সিশোদিয়া সম্পূর্ণ সৎ। সত্যমেব জয়তে।
কেজরিওয়াল, সিশোদিয়ার মতোই দিল্লির আবগারি দুর্নীতির মামলায় নাম জড়িয়েছিল তেলেঙ্গানার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের কন্যা কে কবিতারও। জেলে যেতে হয়েছিল তাকেও। অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার পর কবিতা বলেছেন, যেদিন আমাকে জেলে নিয়ে গেল, আমার ছোটে ছেলে তখন মধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। বিনা কারণে আমাকে, আমার পরিবার ও সন্তানদের কঠিন পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। বিজেপি শুধুমাত্র একটি বিষয় প্রমাণ করতে চেয়েছিল, আমাদের সঙ্গে না থাকলে তুমি আমাদের প্রতিপক্ষ। আজকের এই জয় আমাদের গোটা দেশের। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী তথা আপের অন্যতম শীর্ষনেতা ভগবন্ত মানের প্রতিক্রিয়া, আমরা প্রথম থেকেই বলে এসেছি, এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণেদিত ভিত্তিহীন মামলা।
কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের তরফেও। তার তোপ, কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যূনতম লাজলজ্জা নেই। বিরোধী নেতানেত্রীদের ‘রাজনৈতিক শিকার’ বানাতে সিবিআই, ইডির মতো তদন্তকারী এজেন্সিগুলির সততাকে ‘বন্ধক’ রাখা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেছেন, সিবিআই ভৎর্সনা করার উপযুক্ত বলেই আদালত ওদের ভৎর্সনা করেছে। বিচার ব্যবস্থা সবার উপরে। বিজেপি চেয়েছিল বিচার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করবে। কিন্তু সেটা করতে পারেনি তারা।