অধিকৃত পশ্চিমতীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে একীভূত করার (অ্যানেক্সেশন) অপচেষ্টা এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে ইসরায়েলি ‘রাষ্ট্রীয় সম্পদ’ হিসেবে ঘোষণার পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘভুক্ত ৮০টিরও বেশি সদস্য রাষ্ট্র। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর ৮৫টি সদস্য রাষ্ট্র ও বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষে এই যৌথ বিবৃতি প্রদান করেন।
বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত বলেন, পশ্চিমতীরে ইসরায়েলের অবৈধ উপস্থিতি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গৃহীত যেকোনো একতরফা সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। এসব সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ইসরায়েলের বাধ্যবাধকতার পরিপন্থী এবং তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
যৌথ বিবৃতিতে ১৯৬৭ সাল থেকে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমসহ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের জনমিতি, চরিত্র ও মর্যাদা পরিবর্তনের যেকোনো পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করা হয়। রিয়াদ মনসুর সতর্ক করে বলেন, ‘ইসরায়েলের এসব পদক্ষেপ এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং চলমান সংঘাত নিরসনে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।’
উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে গাজা যুদ্ধ বন্ধে ‘কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান’ নামে একটি চুক্তি হয়, যেখানে পশ্চিমতীরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি নির্মাণ বন্ধের শর্তও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সদস্য রাষ্ট্রগুলো বলছে, ইসরায়েলের বর্তমান পদক্ষেপ ওই চুক্তিরও বিরোধী।
এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চীন, ফ্রান্স, পাকিস্তান, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), আরব লীগ এবং অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি) এই বিবৃতিতে সমর্থন জানিয়েছে।
সম্প্রতি পশ্চিমতীরের ‘সেকশন-সি’ অঞ্চলে ভূমি নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল, যা ১৯৬৭ সালের পর প্রথম। মানবাধিকার সংস্থা ‘পিস নাউ’-এর তথ্যমতে, পশ্চিমতীরের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা এই ‘সেকশন-সি’ এর অন্তর্ভুক্ত।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পরিকল্পনার বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, এর ফলে ফিলিস্তিনিরা তাদের নিজস্ব সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ হবে এবং ওই অঞ্চলে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত হবে। তিনি একে ‘অস্থিতিশীল’ ও ‘অবৈধ’ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এক যুগান্তকারী রায়ে জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব অবৈধ এবং তা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে।
আইসিজে-এর তথ্যমতে, পশ্চিমতীরে বর্তমানে প্রায় ৩০০ অবৈধ বসতিতে ৪ লাখ ৬৫ হাজার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছে।
এদিকে, পশ্চিমতীরের জর্ডান ভ্যালি এলাকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ফেলে যাওয়া গোলাবারুদ বিস্ফোরণে ১৩ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ‘ওয়াফা’ জানিয়েছে, এই ঘটনায় আরও দুই শিশু (১২ ও ১৪ বছর বয়সী) গুরুতর আহত হয়েছে। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।