পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান আলোচনা ব্যর্থ হলে তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ইসরাইলের সম্ভ্যব্য হামলায় সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। গত ডিসেম্বরেই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে এমন আশ্বাস দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সিবিএস নিউজ।
ইরানের কয়েকটি প্রতিবেশ দেশ এরইমধ্যে জানিয়েছে, তেহরানে হামলায় তারা তেল আবিবকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, গত বছরের জুনে ১২ দিনের ইসরাইল-ইরান যুদ্ধের প্রায় আট মাস পরেও একই ধরনের হামলার বিষয়ে আলোচনা চলছে। ওই যুদ্ধের সময়, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরাইলি হামলায় যোগ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, এবার যুদ্ধ শুরু হলে ইসরাইলি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা হতে পারে আকাশে যুদ্ধবিমানগুলোর জ্বালানি ভরতে সাহায্য করা অথবা প্রতিবেশী দেশগুলোর আকাশসীমা ব্যবহার করতে সহায়তা করা।
এই প্রতিবেদনটি এমন সময়ে সামনে এল, যখন তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জেনেভায় পৌঁছেছেন।
এছাড়া ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রক্রিয়া বন্ধ করার পাশাপাশি ইরানের সব পারমাণবিক স্থাপনা বা অবকাঠামো ধ্বংসের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হতে হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আশঙ্কা করে বলেছেন ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হতে পারে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) অনেকবার বলেছেন, তার পছন্দ হলো ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো। এটা খুব কঠিন হলেও তিনি চেষ্টা করবেন। আমরা এখন সেটাই করার চেষ্টা করছি।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে ইচ্ছুক হলে ইরান তাদের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আপস বা সমঝোতা করার কথা বিবেচনা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ইরানের একজন মন্ত্রী।
তেহরানে বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তখত-রাভানচি বলেন, তারা যে চুক্তি করতে আগ্রহী সেটা প্রমাণ করার দায় এখন ‘আমেরিকার কোর্টে’। তিনি যোগ করেন, ‘তারা যদি আন্তরিক হয়, আমি নিশ্চিত আমরা একটি সমঝোতার পথে এগোব।’