Image description

ওমানের মাসকটে হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনাকে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে দেখছে ইরান। তবে ওমানের মধ্যস্থতায় হওয়া এ বৈঠক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা দূর করার মতো কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা আসেনি।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ইরানের নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অংশ নেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে ছিলেন মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত দেশটির সামরিক বাহিনীর শীর্ষ জ্যেষ্ঠ কমান্ডার, অর্থাৎ সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার।

বৈঠক শেষ মাসকটে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বলেন, এই পরোক্ষা আলোচনার ‘শুরুটা ভালো হয়েছে’। এখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরাশর্ম করে পরবর্তী ধাপের আলোচনা কীভাবে এগোবে তার সিদ্ধান্ত নেবে দুই দেশ। খবর আল জাজিরার।

তবে আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় গভীর অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কারণ গত বছরের জুনে ইসরায়েল-ইরানের ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সরাসরি অংশ নেয় এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। আর ওই হামলাটি পূর্ব নির্ধারিত ষষ্ঠ দফার পরোক্ষ আলোচনা শুরুর মাত্র কয়েকদিন আগে চালানো হয়েছিল। তাই এই অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, উভয় পক্ষই আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে একমত। যদিও এই আলোচনা কবে এবং কোথায় শুরু হবে সে ব্যাপারে তাঁরা সম্মত হতে পারেননি।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদি শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে কয়েক দফায় পৃথকভাবে বৈঠক করেন। তিনি দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করেন।

তিনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় পক্ষের চিন্তা-ভাবনা স্পষ্ট করতে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে অগ্রগতি সম্ভব তা চিহ্নিত করতে এই আলোচনা কার্যকর ছিল।

পরবর্তী আলোচনার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি উল্লেখ করেন, তাদের লক্ষ্য হলো ‘সুবিধাজনক সময়ে আবারও আলোচনায় বসা।’

এদিকে, ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল ‘চুক্তি করতে কূটনৈতিক এবং তথ্যভিত্তিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করা’।

প্রসঙ্গত, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইরানের খুব কাছে পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সামরিক উপস্থিতিকে রণতরির বড় বহর হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

শুধু তাই নয়, ট্রাম্প বারবার হুমকি দিয়ে আসছেন, ইরান নতুন পারমাণবিক চুক্তি সই না করলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে, আলোচনা শুরুর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক দাবি বা হঠকারিতার’ বিরুদ্ধে ইরান নিজেকে রক্ষা করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।

অন্যদিকে ইরানের প্রধান মিত্র চীন জানিয়েছে, তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় তেহরানের অবস্থানকে সমর্থন করে এবং ওয়াশিংটনের ‘একতরফা আধিপত্যের’ বিরোধিতা করে।

ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, মার্কিন প্রতিনিধিদল ইরানের ‘শূন্য পারমাণবিক সক্ষমতা’ নিশ্চিত করার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে প্রেসিডেন্টের হাতে ‘অনেক বিকল্প পথ খোলা রয়েছে’।

ওয়াশিংটনের প্রধান দাবি হলো—ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করতে হবে। তবে এই আলোচনায় তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়ার কথা ছিল।

তবে মাসকটে বসার আগে সম্ভাব্য হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেও ইরান অবশ্য এও বলেছিল, ‘কূটনীতির পথ উন্মুক্ত রাখার এই সুযোগকে হেলায় ফেলতে চায় না’।