গ্রীন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম যোগাযোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আফজাল হোসেন খানের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি, মাদক সেবন এবং রাজনৈতিক ডিগবাজিসহ নানা গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এই শিক্ষকের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিক্ষক আফজাল হোসেনের একটি ১ মিনিট ৯ সেকেন্ডের ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক সামনে মদের বোতল নিয়ে বসে মদ্যপান করছেন এবং একই সাথে এক নারীর সঙ্গে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছেন। এই ভিডিওটি সামনে আসার পর তার নৈতিকতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি গবেষণার চেয়ে মাদক ও নারী সংক্রান্ত বিষয়েই বেশি তৎপর ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আফজাল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়টির স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মুজিববাদী প্রচারক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আওয়ামী নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় তিনি দীর্ঘদিন ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়েছেন। তবে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি কখনো জামায়াত আবার কখনো বিএনপি ঘরানার লোক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত শিক্ষক প্রথমে সেটিকে ‘এআই’ (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন। তবে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে না পেরে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী অধ্যাপককে দিয়ে ঘটনাটি ম্যানেজ করার জোর চেষ্টা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম না প্রকাশের শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।