নেপালের সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিতে গত রোববার কাঠমান্ডুর মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন জেন-জি বিক্ষোভের মুখ বালেন্দ্র শাহ, যিনি বালেন শাহ নামে বেশি পরিচিত। ২০২২ সালের স্থানীয় নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক শক্তিকে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করা বালেন মূলত আগামী ৫ মার্চের আগাম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নেপালের বৃহত্তম ও সবচেয়ে প্রভাবশালী এই মেয়র পদ থেকে বালেন তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদের সাড়ে তিন বছর পূর্ণ করে সরে দাঁড়ালেন।
এক প্রতিবেদনে দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন আগামী ৫ মার্চের নির্বাচনের জন্য ২০ জানুয়ারিকে প্রার্থী নিবন্ধনের শেষ সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইলে তাঁকে অবশ্যই আগে পদত্যাগ করতে হবে।
পদত্যাগ করেই কাঠমান্ডুর বানস্থলীতে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) কার্যালয় পরিদর্শন করেন বালেন শাহ। তিন সপ্তাহ আগে তিনি আরএসপিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে মেয়র পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে না দাঁড়ানো পর্যন্ত বিষয়টি চূড়ান্ত করেননি।
বালেন শাহ নেপালের পূর্বাঞ্চলীয় জেলা ঝাপার ৫ নম্বর নির্বাচনী এলাকা থেকে আসন্ন নির্বাচনে লড়বেন। এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর আরএসপির সঙ্গে সাত দফা ঐক্য চুক্তিতে সই করার সময় দলটি তাঁকে তাদের হবু প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
গত সেপ্টেম্বরে তরুণদের নেতৃত্বাধীন জেন-জি আন্দোলনে তৎকালীন কে পি শর্মা অলির ইউএমএল-কংগ্রেস জোট সরকারের পতন হয়। এরপর আন্দোলনের প্রতিনিধিরা বালেন শাহকে অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনার অনুরোধ জানান। তবে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
গুঞ্জন আছে, বালেন শাহর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা কেবল অন্তর্বর্তী দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তিনি সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে পাঁচ বছরের মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনে বেশি আগ্রহী।
বালেন শাহ তাঁর নির্বাচনী এলাকা হিসেবে বেছে নিয়েছেন ঝাপা-৫ আসনকে, যা দীর্ঘদিন ধরে ইউএমএলের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এবং যেখান থেকে চারবারের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি নিয়মিত নির্বাচন লড়েছেন। অলির ঘাঁটিতে তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বালেন শাহ এই লড়াইয়ের গুরুত্ব অনেক বাড়িয়ে দিলেন।