পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির হুসেইন আন্দ্রাবি।
পাকিস্তানভিত্তিক গণমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে সন্ত্রাসবাদ ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদ ও কাবুলের সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হলেও পাকিস্তান-আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। তবে সীমান্তপথে সন্ত্রাসী হামলা পাকিস্তানের জন্য একটি বড় নিরাপত্তা উদ্বেগ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, আফগান ভূখণ্ড যেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার না হয়- এটি নিশ্চিত করতে কাবুল সরকারের কাছ থেকে বাস্তব পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে পাকিস্তান। এ ধরনের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ছাড়া সন্ত্রাসবাদ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আন্দ্রাবি আরও বলেন, সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণে আসলে দুই দেশের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটতে পারে। এই ইস্যু ছাড়া পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে বড় কোনো দ্বিপক্ষীয় বিরোধ নেই বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আফগানিস্তানের আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যের কেন্দ্র হয়ে ওঠার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের অক্টোবর মাসে দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুতর সামরিক উত্তেজনার পর পাকিস্তান একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ বন্ধ করে দেয়। ১৯ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও এখনো সীমান্ত বাণিজ্য পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
ডোহা চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তির সময় আফগান তালেবানরা তাদের ভূখণ্ড থেকে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে বাস্তবে আফগানিস্তান এখনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।