ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বর্তমানে মার্কিন হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে এনে ফৌজদারি অপরাধের বিচার করা হবে। আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলোচনার পর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রিপাবলিকান সিনেটর মাইক লি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
সিনেটর লি জানিয়েছেন, মাদুরোকে আটকের পর ভেনেজুয়েলায় আর বড় কোনো সামরিক অভিযানের প্রয়োজনীয়তা দেখছে না ওয়াশিংটন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও আমাকে জানিয়েছেন, মাদুরো এখন মার্কিন হেফাজতে। যেহেতু তিনি আটক হয়েছেন, তাই রুবিও মনে করছেন ভেনেজুয়েলায় বর্তমানে আর কোনো সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই।’
সিনেটর মাইক লি এই অভিযানের প্রতি সমর্থন জানালেও এর সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পরোয়ানা কার্যকর করার সময় সংশ্লিষ্টদের সুরক্ষা দিতেই এই “কাইনেটিক অ্যাকশন” বা সামরিক শক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে যুদ্ধ ঘোষণা বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া এই পদক্ষেপ সংবিধানের কতটুকু আওতায় পড়ে, তা আমি খতিয়ে দেখতে চাই।’
উল্লেখ্য, মার্কিন সংবিধানের ২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট তাঁর কর্মীদের সম্ভাব্য বা আসন্ন আক্রমণ থেকে রক্ষা করার সহজাত ক্ষমতার অধিকারী। সিনেটর লি মনে করেন, এই অভিযান সম্ভবত সেই ক্ষমতার আলোকেই পরিচালিত হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুরু থেকেই মাদুরো সরকারের কড়া সমালোচক এবং ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র ফেরানোর পক্ষে সোচ্চার। তাঁর মতে, মাদুরোর গ্রেপ্তার কেবল ভেনেজুয়েলার জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় অর্জন। মাদুরোর বিরুদ্ধে ২০২০ সালে দায়ের করা ‘নার্কো-টেররিজম’ বা মাদক সন্ত্রাসের মামলার ভিত্তিতেই এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে।
এদিকে, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে হামলার পর পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। মাদুরোর গ্রেপ্তারের পর দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন শাসনব্যবস্থা কে পরিচালনা করবে, তা নিয়ে এখন চলছে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা।