চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তাইওয়ানকে চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। খ্রিস্টীয় নববর্ষের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, মাতৃভূমির পুনঃএকীকরণ ঐতিহাসিকভাবে অনিবার্য এবং এটি বাস্তবায়ন করা চীনের জাতীয় দায়িত্ব।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর তথ্যমতে, তাইওয়ানের চারপাশে চীনের দুই দিনব্যাপী বৃহৎ সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার এক দিনের মধ্যেই এই বক্তব্য দেন তিনি। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরেই স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের হুমকিও দিয়ে রেখেছে।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, মহড়ার সময় চীন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণসহ বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রম চালায়, যা দ্বীপটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যদিও মহড়া শেষ হয়েছে, তবুও তাইওয়ানের আশপাশে চীনা নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে নববর্ষের ভাষণে চীনের আচরণকে ‘আধিপত্যবাদী’ বলে উল্লেখ করেন এবং তাইওয়ানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
চীনের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতার সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ। তবে বেইজিং এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে একে সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে দাবি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে চীনের অবস্থান এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে।